সোমবার প্রতীকী গণ-অনশনে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা

সোমবার প্রতীকী গণ-অনশনে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা

অব্যাহত পতনেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ‘বিক্ষুব্ধ’ বিনিয়োগকারীরা প্রতীকী গণ-অনশনের ঘোষণা দিয়েছে। পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীরা টানা বিক্ষোভ করলেও কোনো আশ্বাস না পেয়ে আগামী সোমবার গণ-অনশনে যাচ্ছে। মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই গণ-অনশন করবে তারা। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কারসাজির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে একটি চক্র। এই চক্রকে চিহ্নিত কিংবা আইনের আওতায় আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। ছোট বিনিয়োগকারীরা আতঙ্ক ও অনাস্থা থেকে শেয়ার বিক্রি করলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয়। তারা বলছে, কারসাজিচক্র নিজেরা কোনো কোনো কম্পানির শেয়ারে কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টির মাধ্যমে দাম চড়িয়েছে। বেশি দাম ওঠায় শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছেড়ে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। বাজার অস্থিরতায় কম দামে শেয়ার কেনার পাঁয়তারা করছে। স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সার্ভেইল্যান্স থাকলেও তা ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পুঁজিবাজারে বারবার পতনে কোনো একটা গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলতি বছরের শুরুতে দ্রুতগতিতে পুঁজিবাজার উত্থানে ফিরলেও ফেব্রুয়ারিতে এসে হতাশ করেছে। জানুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৮০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়, লেনদেনও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে মুদ্রানীতি, ব্যাংকে তারল্য সংকট, সঞ্চয়পত্র ও আমানতে সুদের হার বাড়লে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন বেরিয়ে যায়। পুঁজিবাজার সূত্র বলছে, আগামী বাজেটে মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউস ও স্টক ব্রোকাররা বিশেষ সুবিধা আদায় করতে পুঁজিবাজারকে ব্যবহার করছে। মার্চেন্ট ব্যাংক বলছে, পুঁজিবাজার নিম্নমুখী হলেও অর্থবাজারে তারল্য সংকট ও এক্সপোজার ইস্যুতে তারা বিনিয়োগ করতে পারছে না। ব্রোকারেজ হাউসও বলছে, বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় ফান্ড আটকে গেছে। লোকসানে পড়ায় তারাও বিনিয়োগ করতে পারছে না। আর বিনিয়োগকারীরা বলছে, পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশও (আইসিবি) যতটা ভূমিকা রাখার কথা সেটা করতে পারছে না। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আতঙ্ক ও অনাস্থায় শেয়ার ছেড়ে দিলেও আইসিবি কিছু করতে পারছে না। এদিকে আইসিবির হাতে পর্যাপ্ত ফান্ড নেই উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পুঁজিবাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নাই : অর্থমন্ত্রী পূর্ববর্তী

পুঁজিবাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নাই : অর্থমন্ত্রী

ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি পরবর্তী

ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিদের বিদেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি

কমেন্ট