
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের পরও হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণ থামছে না। বিভিন্ন দেশে হুন্ডি কারবারিদের অপতৎপরতার কারণে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার (প্রবাসী আয়) একটা বড় অংশ দেশে আসছে না। এর পরিবর্তে দেশে আসছে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করে দেওয়ার সংকেত কিংবা মেসেজসংবলিত নির্দেশনা। সেই নির্দেশনা মেনে হুন্ডি কারবারিদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা প্রবাসীর স্বজনের কাছে সরাসরি কিংবা তাঁর নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে। মোবাইলে বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল হুন্ডি। বিভিন্ন সময় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার জরিপেও হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসার তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক জরিপে হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ৫ শতাংশ রেমিট্যান্স আসার তথ্য দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে অবশ্য হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসার হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোকে তাঁরা ঝামেলা মনে করেন। কারণ বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে খরচ ও সময় বেশি লাগে। অন্যদিকে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে মুদ্রার বিনিময় হার বেশি পাওয়া যায়। আবার প্রবাসীর পাঠানো অর্থ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যায় স্বজনরা। এসব কারণে প্রবাসীদের অনেকেই এখনো বৈধ পথে না গিয়ে অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এমন অবস্থায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ উৎসাহিত করতে বিদেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, সাবসিডিয়ারি ও একচেঞ্জ হাউসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ সাত দিনই তাঁদের স্বজনদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
গত ৩ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে ‘রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি ও প্রবাসীদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি’সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধিতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—যেসব দেশে বাংলাদেশের ব্যাংকসমূহের শাখা, সাবসিডিয়ারি ও ড্রয়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট (একচেঞ্জ হাউস) চালু রয়েছে, সেসব দেশে এ সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং রেমিট্যান্সের জন্য সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাংকসমূহের শাখা, সাবসিডিয়ারি, ড্রয়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বৈধ চ্যানেলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ সাত দিনই প্রবাসী কর্তৃক প্রেরিত রেমিট্যান্স তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ। এ লক্ষ্যে বিকল্প সার্ভিস ডেলিভারি চ্যানেল যেমন মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), এজেন্ট ব্যাংকিং ইত্যাদি প্রসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্প্রতি এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
কমেন্ট