
উদ্দীপকটি পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
জনাব আতিকুল ইসলাম ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের একজন বিচারক। তিনি একটি মামলায় রায় প্রদান করেন। উক্ত মামলায় রায় প্রদান শেষে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে চলে যান। ধারণা করা হয়, রায়টি সরকারের বিপক্ষে গেছে। কিছুদিন পর সরকার তাঁকে আরো বড় পদের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ করে।
ক.প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন কে?
খ.বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলতে কী বোঝো?
গ.উদ্দীপকের ঘটনায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ.বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক—কথাটির বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক.প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
খ.জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন, বিধি বা অধ্যাদেশ এবং নির্বাহী বিভাগের কোনো কাজকর্ম সংবিধান-বহির্ভূত কি না বা মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে কি না, সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনাকে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলে।
গ.উদ্দীপকের ঘটনায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
পৃথিবীতে যে কয়টি উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করা। আর ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে এমন এক পরিবেশ বা অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে বিচারকরা আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে কারো কাছে নতিস্বীকার না করে বা কোনো কিছু দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে শুধু আইন ও নিজের বিবেক অনুযায়ী বিচারকাজ পরিচালনা করতে পারেন। কোনো রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা বিচারের মাপকাঠি হলো, সে দেশের বিচার বিভাগের উত্কর্ষ। বিচার বিভাগের উত্কর্ষ বৃদ্ধির অপরিহার্য শর্ত হলো বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা সংরক্ষণ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা আবার কতগুলো শর্তের ওপর নির্ভরশীল; যেমন—বিচারকদের নিয়োগপদ্ধতি, বেতন-ভাতা, চাকরির নিশ্চয়তা ইত্যাদি। উদ্দীপকে বিচারকের নিরপেক্ষতার দিকটি ফুটে উঠেছে। তিনি রায় দেওয়ার পর স্বেচ্ছায় অবসরে চলে গেছেন। আবার ধারণা করা হয় যে রায়টি সরকারের বিপক্ষে গেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে বিচারক সরকার দ্বারা প্রভাবিত হননি। পরে সরকার তাঁকে আরো বড় পদে চুক্তিতে নিয়োগ করেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে সরকার বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং নিরপেক্ষ বিচারকদের পৃষ্ঠপোষক।
ঘ.উদ্দীপককে বলা হয়েছে, জনাব আতিকুল ইসলামের একটি মামলার রায় প্রদান বিপক্ষে গেছে। কিছুদিন পর সরকার তাঁকে আরো বড় পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক।
বাংলাদেশের সংবিধানে বিচার বিভাগকে অন্য দুটি বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়েছে। সংবিধানের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। ’ বিচার বিভাগ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের একটি মানদণ্ড। বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বিচার বিভাগের ওপর। বিচার বিভাগ মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন আইনকে বাতিল বলে গণ্য করতে পারবে। ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর ‘মাজদার হোসেন’ মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সর্বসম্মত রায় ঘোষণা করেন। এরপর বিভিন্ন সরকার ২৬ বার সময় নেয়, কিন্তু বিচার বিভাগ পৃথক করেনি। অবশেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সমাজব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। নির্ভীক ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ ছাড়া ন্যায়বিচার আশা করা যায় না
কমেন্ট