
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৪ জন প্রধান শিক্ষক এবং ১৩ টি বিদ্যালয়ে ১৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ র্দীঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। এসব পদ পূরণ না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে এখানকার প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক কার্যক্রম। যে কারণে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সেই সঙ্গে লেখাপড়ার অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার গরিব অসহায় শিশুরা। দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বিহীন চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। যে কারণে দীর্ঘদিন থেকে ভারপ্রাপ্তরাই হয়ে গেছেন বিদ্যালয়গুলোতে একমাত্র ভরসাস্থল। এতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিশিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষার অন্যান্য সহপাঠ ক্রমিক নানাবিধ কাজে ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৪ জন প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো, তুড়ুক গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আয়াপুর সপ্রাবি, মোয়াই সপ্রাবি, এনায়েতপুর সপ্রাবি, কালীনগর সপ্রাবি, পরানপুর সপ্রাবি, মজিদপুর সপ্রাবি, সদলপুর সপ্রাবি, মৈনম সপ্রাবি, নুরুল্যাবাদ সপ্রাবি, বিলবয়রা সপ্রাবি, হুলিবাড়ি সপ্রাবি, ফতেপুর সপ্রাবি, চককামদেব সপ্রাবি, পশ্চিশ দুর্গাপুর সপ্রাবি, আন্দারিয়াপাড়া সপ্রাবি, চকউলী সপ্রাবি, তুলশীরামপুর সপ্রাবি, কশব সপ্রাবি, হাজী গোবিন্দপুর সপ্রাবি, পাঁজরভাঙ্গা সপ্রাবি, কুড়িয়াপাড়া সপ্রাবি, পরানপুর দঃ সপ্রাবি, পারইল উঃ সপ্রাবি, তুড়ুকবাড়িয়া সপ্রাবি, নব জাতীয়কৃত চকহরিনারায়ণ সপ্রাবি, রহিমপুর সপ্রাবি, দক্ষিণ নুরুল্যাবাদ সপ্রাবি, পারকালিকাপুর সপ্রাবি, বানিশর সপ্রাবি, সৈয়দপুর সপ্রাবি, শ্রীরামপুর সপ্রাবি, রাঙ্গামাটিয়া সপ্রাবি, মৈনম সরকারপাড়া সপ্রাবি, বড়চকচম্পক সপ্রাবি, দ্বারিয়াপুর সপ্রাবি, শিয়াটা সপ্রাবি, মাউল সপ্রাবি, চকগোপাল সপ্রাবি, এলেঙ্গা সপ্রাবি, জাফরাবাদ সপ্রাবি, বিলউথরাইল সপ্রাবি, মশিদপুর উঃপাড়া সপ্রাবি ও দোডাঙ্গী সপ্রাবি। ১৩ টি বিদ্যালয়ে ১৪ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য বিদ্যালয়গুলো হলো, কুড়িয়াপাড়া সপ্রাবি, ভালাইন সপ্রাবি, চকশিবরামপুর সপ্রাবি, তুড়ুকগ্রাম সপ্রাবি, ঘোনা সপ্রাবি, আলালপুর সপ্রাবি, বাঁকাপুর সপ্রাবি, আইওরপাড়া সপ্রাবি, শংকরপুর সপ্রাবি, পশ্চিমদূর্গাপুর সপ্রাবি, মজিদপুর সপ্রাবি, হুলিবাড়ি সপ্রাবি ও কর্ণভাগ সপ্রাবি।
দীর্ঘদিন থেকে পদোন্নতি ও প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ না হওয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের কাজে গতিশীলতা কমে গেছে এবং বিদ্যালয়ে পাঠদানেরও নানান ব্যাঘাত ঘটে চলেছে। যারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের কাছে বিদ্যালয়ের কোনো তথ্য-উপাত্ত চাইলে ঠিকমতো পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এমনকি বিদ্যালয়গুলোতেও তদারকি অনেক কমে গেছে এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় কর্মঘণ্টা হচ্ছে কম। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ, শিক্ষকদের মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা সমস্যার কারণে এ শূন্যপদগুলো পূরণ করা যাচ্ছিল না। উপজেলা অফিস থেকে দফায় দফায় কাগজ চালাচালি করলেও কোনো সুফল আসেনি। আবার উপজেলার প্রত্যন্ত বিদ্যালয়গুলোতে অনেক শিক্ষকরা যেতে অনিহা প্রকাশ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। শূন্য পদের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান। এরই মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের পদক্ষেপ নিয়েছেন। খুব শিগগিরই সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কমেন্ট