এইচএসসি প্রস্তুতি : পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র

এইচএসসি প্রস্তুতি : পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র

index নিচের উদ্দীপকটি মনোযোগ সহকারে পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : জনাব রায়হান একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তাঁর অফিসের কম্পিউটার শাখার প্রধান। জনাব নুরুন্নবী আইনসভার একজন সদস্য। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে একবার মুখোমুখি হন। তিন তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং নানা প্রশ্নের জবাব দেন। ক. নেতৃত্ব কী? খ. সম্মোহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে জনাব রায়হান ও নুরুন্নবীর নেতৃত্বের ধরন ব্যাখ্যা করো। ঘ. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনাব নুরুন্নবীর ভূমিকা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো। ক) ‘নেতৃত্ব’ একটি সামাজিক গুণ। খ) যে ব্যক্তি বা নেতৃত্বের অধীনে জনগণ অন্ধভাবে শ্রদ্ধা, ভক্তি নিবেদন করে এবং যার বক্তব্য দ্বারা জনগণ ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকে, তাকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলে। বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ধরনের গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। গ) উদ্দীপকে জনাব রায়হান বিশেষজ্ঞসুলভ নেতৃত্বের অধিকারী এবং জনাব নুরুন্নবী গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের অধিকারী। কোনো ব্যক্তি যখন বিশেষ জ্ঞান বা দক্ষতার জন্য খ্যাতি অর্জন করে কোনো সংগঠনে প্রসিদ্ধি লাভ করে, তখন বিশেষজ্ঞসুলভ নেতৃত্বের জন্ম হয়। উদ্দীপকে জনাব রায়হান একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তাঁর অফিসের কম্পিউটার শাখার প্রধান। জনাব রায়হান তাঁর বিশেষজ্ঞসুলভ নেতৃত্বের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাই বলা যায়, জনাব রায়হানের নেতৃত্বের সঙ্গে বিশেষজ্ঞসুলভ নেতৃত্ব সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব একজনের নিয়ন্ত্রণে না থেকে অনেক মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে তিনি প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী সংগঠনের একজন মূল্যবান সদস্য হিসেবে অনুভব করে। উদ্দীপকে জনাব নুরুন্নবী আইনসভার একজন সদস্য। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় জনগণের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে একবার মুখোমুখি হন। তিনি তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং নানা প্রশ্নের জবাব দেন। জনাব নুরুন্নবীর এ নেতৃত্বের সঙ্গে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মিল রয়েছে। ঘ) সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনাব নুরুন্নবীর ভূমিকা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করা হলো—সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকে। নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। নেতৃত্বের বৈধতা বলতে বোঝায় নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আস্থা। সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বৈধতা অর্জন করে। এ জন্য বলা হয়, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব হলো বৈধ নেতৃত্ব। অগণতান্ত্রিক নেতৃত্ব তথ্যের অবাধ প্রবাহ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে হয়তো রাষ্ট্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়; কিন্তু সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। অগণতান্ত্রিক নেতৃত্ব থাকলে হারহামেশাই বহিঃশক্তির আক্রমণ, বিবদমান গোষ্ঠীর অসন্তোষ ও প্রতিশোধ স্পৃহা, জাতিগত দাঙ্গা প্রভৃতি দেখা যায়। নেতৃত্বের দুর্বলতায় রাষ্ট্র ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব দেশপ্রেমকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে, ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও রাষ্ট্রের উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ, সচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার রক্ষা প্রভৃতি বিষয় সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত। এ শর্তগুলো গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব পূরণ করতে পারে। উল্লিখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জনাব নুরুন্নবীর মধ্যে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব থাকায় তিনি তাঁর এলাকায় জনগণের মুখোমুখি হন। অভিযোগ শোনেন এবং প্রশ্নের জবাব দেন, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এইচএসসি মডেল টেস্ট : বাংলা প্রথম পত্র পূর্ববর্তী

এইচএসসি মডেল টেস্ট : বাংলা প্রথম পত্র

শরণখোলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা পরবর্তী

শরণখোলায় ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কমেন্ট