বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

1457793247 তৃতীয় অধ্যায় সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল সৃজনশীল প্রশ্ন উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : বাবার চাকরির সুবাদে তাহেরা কুড়িগ্রামে থাকে। বন্ধু রাসেল চট্টগ্রাম থেকে মোবাইল ফোনে জানায়, সে এখন ইফতার করছে। কিন্তু কুড়িগ্রাম থেকে তাহেরা জানায়, তাদের ওখানে ইফতারের সময় এখনো বাকি আছে। ক) সূর্যে হাইড্রোজেন গ্যাসের পরিমাণ কত? খ) সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কাল্পনিক রেখার ভূমিকা কী? গ) তাহেরা ও রাসেল একই সময়ে ইফতার না করার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো। ঘ) ‘প্রমাণ সময়ের পার্থক্যের কারণে গ্রিনিচ থেকে বাংলাদেশের সময় ৬ ঘণ্টা অগ্রগামী। ’ বিশ্লেষণ করো। উত্তর : ক) সূর্যে হাইড্রোজেন গ্যাসের পরিমাণ ৫৫ শতাংশ। খ) পৃৃথিবীর মানচিত্রে সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কাল্পনিক রেখার ভূমিকা অপরিসীম। গোলাকার পৃথিবী নিজ কক্ষ বা মেরুরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। যে সময় কোনো স্থানের মধ্যরেখা সূর্যের ঠিক সামনে আসে, তখন ওই স্থানে দুপুর হয় এবং ১২টা বাজে। দুপুর বা মধ্যাহ্ন অনুসারে অন্যান্য সময় নির্ধারণ করা হয়। উক্ত মধ্যরেখাকে কাল্পনিক রেখা বলা হয়। গ) উদ্দীপকে তাহেরা ও রাসেল একই সময়ে ইফতার না করার কারণ স্থানীয় সময়। প্রতিদিন পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে মেরুরেখার ওপর আবর্তন করছে। এতে পূর্ব দিকে সূর্য উদয়াস্ত আগে ঘটে এবং পশ্চিম দিকে ঘটে পরে। চট্টগ্রাম পূর্ব দিকে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে আগে সূর্যাস্ত হয়েছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রাম পশ্চিম দিকে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে সূর্যাস্ত হয়েছে পরে। দুপুর ১২টা বা মধ্যাহ্ন সময় থেকে দিনের অন্যান্য সময় নির্ধারণ করা হয়, যাকে ওই স্থানের স্থানীয় সময় বলা হয়। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে স্থানীয় সময় নির্ণয় করা হয়। উল্লেখ্য যে পৃথিবী ১ ডিগ্রি ঘুরে ৪ মিনিট সময়ে অর্থাৎ প্রতি ১ ডিগ্রি দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট। তাই আমরা বলতে পারি, তাহেরা ও রাসেল একই সময়ে ইফতার না করার ক্ষেত্রে মূলত স্থানীয় সময় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। ঘ) এ বিষয়টি সর্বজন স্বীকৃত যে স্থানীয় সময়ের কারণে নয়, বরং প্রমাণ সময়ের কারণেই গ্রিনিচ থেকে বাংলাদেশের সময় ছয় ঘণ্টা অগ্রগামী। দ্রাঘিমার ওপর মধ্যাহ্নের সূর্যের অবস্থানের সময়কালকে দুপুর ১২টা ধরে যখন স্থানীয় সময় নির্ধারণ করা হয়, তখন সময় গণনার ক্ষেত্রে কিছুটা বিভ্রাট দেখা যায়। সে জন্য প্রতিটি দেশের একটি প্রমাণ সময় নির্ণয় করা হয়। গ্রিনিচের শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে সারা পৃথিবীর প্রমাণ সময় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করায় গ্রিনিচ সময় থেকে এ দেশের সময়ের পার্থক্য রয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি যে মূল মধ্যরেখা থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বে বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ধরে নেওয়ার কারণে গ্রিনিচের সময় থেকে বাংলাদেশের সময় ছয় ঘণ্টা অগ্রগামী।
অর্থনীতি পূর্ববর্তী

অর্থনীতি

টিউটরিয়াল ♦ ইংরেজি পরবর্তী

টিউটরিয়াল ♦ ইংরেজি

কমেন্ট