মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়
সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসরমাণ দুটি নৃগোষ্ঠীর বসবাস। এদের মধ্যে প্রথম নৃগোষ্ঠীরা এক বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করে, যা ‘নাগ পোশাক’ নামে পরিচিত। দ্বিতীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো তারা পান-সুপারিকে খুবই পবিত্র বস্তু বলে মনে করে।
ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
খ) লৌহকে কেন আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
গ) উদ্দীপকের প্রথম নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে তোমার পঠিত কোন নৃগোষ্ঠীর সাদৃশ্য রয়েছে? এর আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।
ঘ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রথম নৃগোষ্ঠীর কতটুকু বৈসাদৃশ্য রয়েছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর :
ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ) লৌহ আধুনিক যুগ সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বিধায়, একে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়।
লৌহ যুগে হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি প্রধানত লৌহ নির্মিত। লোহার ব্যবহার মানবসভ্যতার বিকাশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষিকাজের উদ্ভব যেমন—মানুষের জীবনধারাকে উল্টে-পাল্টে দিয়েছিল, লোহার ব্যবহার কালক্রমে মানুষের জীবনধারায় তেমনি বিরাট পরিবর্তন এনেছে। লোহার উদ্ভবের ফলে উত্পাদনব্যবস্থায় যন্ত্রচালিত শক্তির ব্যবহার সম্ভব হয়েছে এবং শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, শিল্পকলা ও স্থাপত্যশিল্পে লৌহের ব্যাপক ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। আধুনিক যুগে অস্ত্রশিল্প লৌহের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই লৌহকে আধুনিক যুগের ভিত্তি বলা হয়।
গ) উদ্দীপকের প্রথম নৃগোষ্ঠী হলো মণিপুরি নৃগোষ্ঠী।
মণিপুরিদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায় হলো কৃষি। এরা বেশ কর্মঠ হওয়ায় স্ত্রী-পুরুষ-নির্বিশেষে সবাই কৃষিকাজে লিপ্ত হয়। কৃষিকাজ ছাড়া তারা চাকরি, ব্যবসায়-বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করে। কাপড় বোনা থেকে শুরু করে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসই তারা নিজেরাই তৈরি করে। মণিপুরিদের নির্মিত তাঁতজাত বস্ত্রাদি এক বিরাট অর্থকরী দ্রব্যে পরিণত হয়েছে। এদের সমাজে ভিক্ষুক শ্রেণির লোক নেই। নেই ভিটেমাটিহীন কোনো পরিবার। তাই তাদের সমাজকে স্বনির্ভর অর্থনীতিভিত্তিক সমাজ বললেও বেশি বলা হবে না।
মণিপুরিদের কাছে নৃত্য খুবই পবিত্র বিষয়। নৃত্য শুদ্ধতা ও স্বর্গসুখ বয়ে আনে। তারা আরো বিশ্বাস করে, সব বিষয়ের মধ্যে নৃত্যের নির্যাস রয়েছে। নৃত্য সৃষ্টিকর্তাকে সন্তুষ্ট করে। ফলে সাফল্য বয়ে আনে। তাদের পারিবারিক জীবনযাত্রায় পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এদের সমাজকাঠামোতে পিতাই পরিবারের সর্বেসর্বা। তারা এক বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করে, যা ‘নাগ পোশাক’ নামে পরিচিত।
ঘ) উদ্দীপকের দ্বিতীয় নৃগোষ্ঠী হলো খাসিয়া।
মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর সঙ্গে খাসিয়া নৃগোষ্ঠীর প্রায় ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। যথা :
১। দৈহিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে : মণিপুরিদের গায়ের রং শ্যামলা ও ফর্সা। অন্যদিক থেকে খাসিয়াদের গায়ের রং ফর্সা।
২। গোত্র বিভাগের আলোকে :
মণিপুরিরা দুটি গোত্রে বিভক্ত।
৩। ধর্মের দিক থেকে : মণিপুরিরা বৈষ্ণব ধর্মে বিশ্বাসী। অন্যদিকে খাসিয়ারা সর্বপ্রাণবাদে বিশ্বাসী।
৪। খাদ্য গ্রহণের দিক থেকে : মণিপুরিদের প্রধান খাদ্য হলো—ভাত, মাছ, সবজি ইত্যাদি। চ্যাপা শুঁটকির ভর্তা ওদের খুবই প্রিয় খাদ্য। অন্যদিকে খাসিয়াদের প্রধান খাদ্য ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি ও মদ। তবে ওদের খুব পছন্দের খাদ্যের মধ্যে রয়েছে মাংস।
৫। পোশাক-পরিচ্ছদের দিক থেকে : মণিপুরিদের মধ্যে পুরুষরা ধুতি ও গ্রামীণ মেয়েরা বুক আবৃত করে লুঙ্গি পরিধান করে। ওদের বিশেষ পোশাকের নাম ‘নাগ পোশাক’। অন্যদিকে খাসিয়া মেয়েরা নিজেদের তৈরীকৃত ‘কজিম পিন’ নামের এক প্রকার ব্লাউজ ব্যবহার করে। পুরুষরা এক প্রকার পকেটহীন জামা ও লুঙ্গি পরিধান করে। খাসিয়া ভাষায় একে ‘ফুংগ মারুং’ বলা হয়।
৬। বিবাহরীতির দিক থেকে : মণিপুরিদের একই গোত্রভুক্ত লোকদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ ওদের মধ্যে বহির্বিবাহ প্রচলিত। অন্যদিকে খাসিয়াদের মধ্যে প্রচলিত বিবাহ দুই প্রকার।
যথা—
(১) মনো মিলন বিবাহ (২) বন্দোবস্ত বিবাহ।
৭। পারিবারিক জীবনব্যবস্থার দিক থেকে : মণিপুরিদের পারিবারিক জীবনযাত্রায় পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এদের সমাজকামাঠামোতে পিতাই পরিবারের সর্বেসর্বা।
অন্যদিকে খাসিয়া পরিবার মাতৃপ্রধান বলে মেয়েদের প্রাধান্য বর্তমান। ফলে পরিবারের মেয়েদের কর্তৃত্ব ও প্রভাব যথেষ্ট। সন্তান-সন্ততিদের পরিচিত বংশমর্যাদা ও উত্তরাধিকার প্রথা মায়ের গোত্রের দিক থেকে নির্ণীত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, মণিপুরি ও খাসিয়া নৃগোষ্ঠীর মধ্যে উপরোল্লিখিত বৈসাদৃশ্য ছাড়াও আরো কিছু কিছু ক্ষেত্রে বৈশাদৃশ্য রয়েছে। যথা—আবাসস্থল, ভাষা, গ্রামীণ সংগঠন, বাড়িঘরের ধরন, শিক্ষা, অর্থনীতি, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ইত্যাদি।
কমেন্ট