বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

003856kalerkantho.com-18-04-17-45_ চতুর্থ অধ্যায় বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু সৃজনশীল প্রশ্ন উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : পড়ার সময় সাদিক তার সামনের টেবিল, চেয়ার কাঁপতে দেখে আঁতকে উঠল। সে তার মাকে বিষয়টি জানাল। এ কম্পন মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল। কিন্তু এর ঝাঁকুনি বেশ প্রচণ্ড ছিল। তার মা-ও বিষয়টি দেখলেন। এরপর স্বাভাবিক হয়ে তার মা বিষয়টি ভূমিকম্প বলে শনাক্ত করলেন। রাতে টেলিভিশনে খবরে জানতে পারলেন আজ সারা দেশে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে এবং বেশ কিছু বাড়ি-ঘর ও সম্পদহানি হয়েছে। এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে পাশের দেশের একটি পর্বতশৃঙ্গের নিচ থেকে। ক. সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পরেই কোন গ্রহের স্থান? খ. ‘নেপচুন’ শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ভূগোল বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদিক যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তার কারণ ব্যাখ্যা করো। ঘ. ওই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাদিক কোন ধরনের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে? ব্যাখ্যা করো। উত্তর : ক. সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবীর পরেই মঙ্গল গ্রহের স্থান। খ. ভূগোল বইয়ে ‘নেপচুন’ শব্দটি দ্বারা একটি গ্রহকে বোঝানো হয়েছে। নেপচুনের গড় ব্যাস ৪৮,৪০০ কিলোমিটার এবং সূর্য থেকে দূরত্ব ৪৫০ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে অধিক দূরত্বের কারণে গ্রহটি শীতল। গ্রহটি অনেকটা নীলাভ বর্ণের। নেপচুন ১৬৫ বছরে সূর্যকে একবার পরিক্রমণ করে। এর উপগ্রহ দুটি যথা—ট্রাইটান ও নেরাইড। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদিক যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় তা হলো ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কারণ অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে ভিত্তিশিলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকস্মিক ভূ-আলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়। এ ছাড়া আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচণ্ড শক্তিতে বের হয়ে আসার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূমিস্থ শিলা স্তরের ভেতরে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল বা ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোন স্থানে শিলা ধসে পড়লে ভূমিকম্প হয়। এ ছাড়া পাশাপাশি অবস্থিত দুটি প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা আনুভূমিকভাবে আগে-পিছে সরে যায়। এ ধরনের সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ভূ-অভ্যন্তরে বা ভূত্বকের নিচে ম্যাগমার সঞ্চারণ অথবা চ্যুতিরেখা বরাবর চাপমুক্ত হওয়ার কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ঘ. ওই পরিস্থিতি বা ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলায় সাদিক অনেক পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো : প্রথমেই প্রয়োজন সবাইকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন করা। ভূমিকম্প হওয়ার সময় কী করতে হবে আর কী করতে হবে না, সে সম্পর্কে জনগণ সচেতন হলে দুর্যোগকালীন ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। যদি কোনো ভবনের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তবে ভবনটি নির্মাণের পর শক্তিশালী করা যেতে পারে। সে জন্য কংক্রিট বিল্ডিংয়ের জন্য অতিরিক্ত রড ব্যবহার করে কংক্রিট ঢালাই দিয়ে দুর্বল স্থানগুলোর আয়তন ও আকার বাড়ানো যেতে পারে। অনেক সময় ফেরো সিমেন্ট দিয়ে ইটের দেয়ালে প্রলেপ দিলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিচতলা সম্পূর্ণ খোলা রাখা উচিত নয়। সেমিপাকা ঘরগুলোর চারপাশে টানা দিয়ে বেঁধে ফেললে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যাঁরা নতুন বাড়ি তৈরি করবেন তাঁদের স্ট্রাকচার ও ডিজাইন করার সময় বিল্ডিং কোড অনুসরণ করতে হবে এবং অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর তদারকির মাধ্যমে ভালো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে বাড়ি তৈরি করতে হবে। গ্রামাঞ্চলের টিনের ঘরগুলোর ভূমিকম্পে ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে মাটির দেয়ালের বাড়ি-ঘরের ভূমিকম্প প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এ জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কোনাকোনিভাবে বাঁশ বা কাঠের ব্রেসিং ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে ভূমিকম্প-পরবর্তী ধ্বংসলীলা মোকাবেলায় সবাইকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। কারণ আমাদের জনগণের প্রয়োজনের তুলনায় উদ্ধারকর্মীর স্বল্পতা রয়েছে। তাই ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে, সেখানে প্রত্যেককেই উদ্ধারকর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
রাতে ভাস্কর্য তছনছ করে দুই শিক্ষার্থী বলল 'প্রতিবাদ' পূর্ববর্তী

রাতে ভাস্কর্য তছনছ করে দুই শিক্ষার্থী বলল 'প্রতিবাদ'

কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা ও সাধারণ জ্ঞান পরবর্তী

কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা ও সাধারণ জ্ঞান

কমেন্ট