রাতে ভাস্কর্য তছনছ করে দুই শিক্ষার্থী বলল 'প্রতিবাদ'

রাতে ভাস্কর্য তছনছ করে দুই শিক্ষার্থী বলল 'প্রতিবাদ'

154512a রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে রাতের আঁধারে প্রায় সাত শতাধিক ভাস্কর্য তছনছ করার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুই শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, ভাস্কর্যের নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিবাদ হিসেবে তারা সেগুলো উল্টিয়ে রেখেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, চারুকলা বিভাগের সামনে এলোমেলো, উল্টো, বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তৈরি ভাস্কর্য। ভাস্কর্য বিভাগের পাঁচ শিক্ষকের কার্যালয় ভাস্কর্যর স্তূপ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখে তৈরি করা পাল্কিও দূরে নিয়ে উল্টো করে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে তখন পর্যন্ত কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে তথ্য কেউ জানাতে পারেনি। সকালে এ ঘটনা নিয়ে কেউ মুখ না খুললেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী স্বাধীন ও ইমরান হোসেন রনি সাংবাদিকদের কাছে দায় স্বীকার করেন। তাঁরা বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বানানো এ ভাস্কর্যগুলো এখানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু এগুলোর পরিচর্যা করা হয় না। এ ছাড়া এই চত্বরে একটা প্রাচীর দেওয়ার জন্য আমরা বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের বলেছি। কিন্তু এখানে কোনো প্রাচীর আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। প্রাচীর না থাকায় অতীতে বাইরের অনেকেই এসে শিক্ষার্থীদের বানানো ভাস্কর্যগুলো ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। " তাদের দাবি, ভাস্কর্য সংস্কারের জন্য তারা এগুলো উল্টিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সোমবার রাতে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী মিলে এটা সংঘটিত করেছেন। কিন্তু তাঁরা কোনো ভাস্কর্য ভাঙেননি বলে জানান তারা। সাংবাদিকদের কাছে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর ওই দুই শিক্ষার্থীকে সহকারী প্রক্টর জিহাদ আহমেদ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি বলেন, "বিষয়টি নিয়ে অনুষদের ডিন ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতিকে সমাধান করতে বলা হয়েছে। " রাতে দায়িত্বে থাকা এক প্রহরী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি রাত ১২টার সময়ও ভাস্কর্যগুলো ঠিক জায়গায় দেখেছেন। বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তখন কাজ করতেও দেখেছেন তিনি। কিন্তু রাত ২টার পর সেগুলো এভাবে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। চারুকলা অনুষদের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলছেন, "শুধু প্রতিবাদ হিসেবে এ ঘটনা ঘটানো হলে সকালে কেন তারা বিষয়টি পরিষ্কার করেনি। ঘটনার দায়ে আইনি জটিলতায় পড়তে যাচ্ছেন এমন পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তারা দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের ভিন্ন মতলব থাকতে পারে। " বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও নাট্যজন মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, "এটা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। যে শিল্প নিজ হাতে তৈরি করছি, সেই শিল্পকে অবমাননা করে দাবি আদায়ের ভাষা খুবই লজ্জাজনক। " মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতির অধ্যাপক মোস্তাফা শরীফ আনোয়ার বলেন, "উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেলা ১টায় বিভাগের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দোষীদের শাস্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। অনুষদের ডিনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। " ছাত্রলীগের বিক্ষোভ এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। দলীয় টেন্ট থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সেখানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু। তারা বলেন, "এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চরম অবমাননাকর। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের শিক্ষার্থীর পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। " জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
পাঠ্যবই শেখাচ্ছে, লম্বা-ফর্সা হলেই মিলবে সাফল্য! পূর্ববর্তী

পাঠ্যবই শেখাচ্ছে, লম্বা-ফর্সা হলেই মিলবে সাফল্য!

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরবর্তী

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

কমেন্ট