মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়
টিউটরিয়াল ♦ গণিত
অনুপাত-এর সঙ্গে ভগ্নাংশের সম্পর্ক আছে, আবার শতকরারও সম্পর্ক আছে। ভগ্নাংশ এবং শতকরার প্রয়োগ ও মৌলিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার করতে অনুপাত ভালো করে বুঝে নেওয়া জরুরি। আজ থাকল অনুপাতের মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা।
অনুপাত : দুটি ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণের মধ্যে তুলনা করার জন্য অনুপাত ব্যবহার করা হয়। যেমন—সজল ও সবুজের কাছে যথাক্রমে 5টি ও 7টি করে কালার পেনসিল আছে। তাহলে সজল ও সবুজের পেনসিলের অনুপাত 5/7 বা 5:7। অর্থাৎ সবুজের কাছে 7টি পেনসিল থাকলে, সজলের কাছে 5টি পেনসিল আছে। এ ক্ষেত্রে তুলনাটি ভাগফল আকারে প্রকাশ করা যায়।
তুলনা করার আরো একটি উপায় রয়েছে।
যেমন—ওপরের তুলনায় এটাও বলা যায় যে সজলের চেয়ে সবুজের 7—5 = 2টি পেনসিল বেশি আছে। এ ক্ষেত্রে বিয়োগফল আকারে প্রকাশ করা হলো।
যেহেতু অনুপাতকে ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায়, সেহেতু ভগ্নাংশের সঙ্গে অনুপাতের দারুণ মিল রয়েছে। যেমন—পাশের চিত্রে 7টি ঘরের মধ্যে 4টি ধূসর ও 3টি সাদা।
সুতরাং ধূসর ও সাদা ঘরের অনুপাত 4/3. আবার ধূসর ঘর ও সব ঘরের অনুপাত 4/7, যা সব কয়টি ঘরের মধ্যে ধূসর ঘরের অংশের সমান।
দুটি পরিমাণের অনুপাতকে ভগ্নাংশ আকারে তুলনা করলে তা প্রকৃত ভগ্নাংশ হতে পারে, আবার অপ্রকৃত ভগ্নাংশও হতে পারে। এটি নির্ভর করে কোনটি বড় পরিমাণ, তার ওপর।
যেমন—ওপরের চিত্রে ধূসর ও সাদা ঘরের অনুপাত 4/3, যা অপ্রকৃত ভগ্নাংশ। অন্যদিকে সাদা ও ধূসর ঘরের অনুপাত 3/4, যা প্রকৃত ভগ্নাংশ।
গুরু ও লঘু অনুপাত : অনুপাতকে ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করলে তা যদি প্রকৃত ভগ্নাংশ হয়, তবে তাকে বলা হয় লঘু অনুপাত। অন্যদিকে অনুপাতকে ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করলে তা যদি অপ্রকৃত ভগ্নাংশ হয়, তবে তাকে বলা হয় গুরু অনুপাত। অর্থাৎ ধূসর ও সাদা ঘরের অনুপাত 4/3 বা 4:3, যা গুরু অনুপাত। আবার সাদা ও ধূসর ঘরের অনুপাত 3/4 বা 3:4, যা লঘু অনুপাত।
একক অনুপাত : অনুপাতের প্রথম পরিমাণ বা রাশিকে বলা হয় পূর্ব রাশি এবং শেষ পরিমাণ বা রাশিকে বলা হয় উত্তর রাশি। তবে দুইয়ের অধিক রাশি বা পরিমাণের অনুপাতও নির্ণয় করা যায়। যেমন : 2, 3 ও 5 সংখ্যা তিনটির অনুপাত 2:3:5.
যে অনুপাতের পূর্ব ও উত্তর রাশি দুটি একই, তাকে বলা হয় একক অনুপাত।
যেমন : 7:7 বা 1:1 হলো একক অনুপাত।
ব্যস্ত অনুপাত : দুটি অনুপাতের পূর্ব ও উত্তর রাশি পরস্পরের বিপরীত হলে তাদের একে অপরের ব্যস্ত অনুপাত বলা হয়।
যেমন : 3:7 ও 7:3 হলো একে অপরের ব্যস্ত অনুপাত।
মিশ্র অনুপাত : দুই বা ততোধিক অনুপাতকে গুণফল আকারে প্রকাশ করলে পাওয়া যায় মিশ্র অনুপাত। এ ক্ষেত্রে পূর্ব রাশির সঙ্গে পূর্ব রাশি এবং উত্তর রাশির সঙ্গে উত্তর রাশি গুণ করা হয়।
3:4 ও 5:7 অনুপাত দুটির মিশ্র অনুপাত হবে (3×5):(4×7) বা 15:28।
কমেন্ট