বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

001910kalerkantho.com-14-05-17-60_ দ্বিতীয় অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : স্বাধীনতা দিবসে স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালতসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং চারদিকে বজ্রকণ্ঠে একটি ভাষণ শোনা যায়—‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’ এ ভাষণ বাঙালির গৌরবের; গর্বের। ক) কত তারিখে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়? খ) বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা কী ছিল? ব্যাখ্যা করো। গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষণটিতে যেসব বৈশিষ্ট রয়েছে তা চিহ্নিত করো। ঘ) তুমি কি মনে করো ওই ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের নিয়ামক? বিশ্লেষণ করো। উত্তর : ক) ২ মার্চ ১৯৭১ প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। খ) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণায় বলেছিলেন, ‘ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। ’ (বাংলাদেশ গেজেট, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, ৩ জুলাই ২০১১) স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সব স্থানে তদানীন্তন ইপিআরের ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি প্রচার করেন। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একই বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষণটি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় এই ভাষণ দেন। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা নিম্নরূপ : (i) ১৯৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আদেশ-নির্দেশ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ঘোষণা। (ii) জনগণের প্রতি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক অসহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে কোর্ট-কাচারি,অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধের নির্দেশ। (iii) সর্বপ্রকার খাজনা-ট্যাক্স বন্ধের নির্দেশ। (iv) গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মুক্ত করার পরোক্ষ নির্দেশ। (v) ১০ লাখ লোকের উপস্থিতি ও বাংলাদেশ শব্দটি ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নতুন রাষ্ট্রের নাম চূড়ান্তকরণ। (vi) সুতরাং বলা যায় যে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের জন্য এক মহান দিকনির্দেশনা। ঘ) ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—এই ছিল ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে প্রায় সব জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেয় এবং মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে এ ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নিয়ামক বলে মনে করি। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। এ ভাষণ সারা দেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। তাদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। এ ভাষণ যেন জাদুর স্পর্শে বাঙালি বীরের জাতিতে রূপান্তরিত করেছে। তাই অনেকেই মনে করেন, এ ভাষণ বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা অনুযায়ী স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা পাকিস্তানি বাহিনীকে বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে। খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ হয়ে যায়। সেনানিবাস বাদে সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেদিন বাংলাদেশ পরিচালিত হয় বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাড়ি থেকে। অবস্থা উপলব্ধি করে ইয়াহিয়া ১৫ মার্চ ঢাকা সফরে আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। ১৬ মার্চ থেকে আলোচনা শুরু হয়। ২২ মার্চ জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা আসেন এবং আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনা ব্যর্থ করে দিয়ে ২৫ মার্চ রাতে ইয়াহিয়া-ভুট্টো ঢাকা ত্যাগ করেন। আর ওই দিনই পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞের পর বাঙালি জনগণ প্রতিরোধ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে দলে দলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নিয়ামক বলে আমি মনে করি। বাঙালির বীরত্বের স্মৃতিচারণের জন্যই প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭ই মার্চের ভাষণের ধ্বনি শোনা যায়।
শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা পূর্ববর্তী

শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা

ইবিতে ঠিকাদারের উপর বহিরাগত ক্যাডারের হামলা পরবর্তী

ইবিতে ঠিকাদারের উপর বহিরাগত ক্যাডারের হামলা

কমেন্ট