শিগগিরই ইরান সংঘাত শেষ হবে, চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান: দাবি ট্রাম্পের
বাংলা প্রথম পত্র
সুখী মানুষ
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক-১: স্বার্থমগ্ন যে জন বিমুখ বৃহৎ হতে
সে কখনো শেখেনি বাঁচিতে।
উদ্দীপক-২ : পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলই দাও
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
(ক) ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়’— উক্তিটি কার?
উত্তর : ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়’— উক্তিটি করিরাজের।
(খ) ‘সবাই অসুখী, কারও সুখ নেই’ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় কেন এ কথা বলা হয়েছে?
উত্তর : প্রকৃত সুখী মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় ‘সবাই অসুখী’ কারো সুখ নেই’—এ কথাটি বলা হয়েছে।
মমতাজউদদীন আহমদ রচিত ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের কঠিন অসুখ নিরাময়ের জন্য একজন সুখী মানুষের গায়ের জামার প্রয়োজন ছিল। মোড়লের আত্মীয় হাসু আর চাকর রহমত সুখী মানুষের সন্ধানে পাঁচ গ্রাম ঘুরেও কোনো সুখী মানুষ পেল না। যাকেই তারা ধরে, সেই নিজেকে অসুখী বলে মনে করে। এ থেকে হাসু সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে প্রকৃত সুখী মানুষ নেই, তাই সুখী মানুষের জামাও পাওয়া যাবে না। সুখ বড় কঠিন জিনিস। দুনিয়ায় ধনী, ভিখারি, পেটুক সবাই নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস চাইছে। তাই হাসু উপর্যুক্ত মন্তুব্যটি করেছে।
(গ) উদ্দীপক-১ : এর ভাবার্থ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কোন চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : উদ্দীপক-১ : এর ভাবার্থ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল একটি কঠিন প্রকৃতির লোক। সে সুবর্ণপুরের মানুষের গরু কেড়ে, ধান লুট করে ধন-সম্পদের মালিক হয়েছে। সে এতটাই অত্যাচারী ও পাপী যে মানুষের কান্না দেখলে হাসে। সে সুবর্ণপুরের মানুষকে অনেক জ্বালিয়েছে। নিজের আত্মীয় হাসুর মুরগি পর্যন্ত জবাই করে খেয়েছে। এই মোড়ল যখন কঠিন অসুখে পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, তখন তার আত্মীয় হাসু মোড়লের বিশ্বাসী চাকর রহমতকে বলছে যে কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, অত্যাচারী মোড়লের আর নিস্তার নেই। কারণ, মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে, ওষুধে কাজ হয় না।
এ সম্পর্কে উদ্দীপকেও বলা হয়েছে যে সে ব্যক্তি বৃহত্তর সমাজের স্বার্থ না দেখে শুধু ব্যক্তিস্বার্থই দেখে, সে প্রকৃত অর্থে বাঁচতে শেখেনি। উদ্দীপকের এই ভাবই সুবর্ণপুরের মোড়লের কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
(ঘ) ‘মোড়ল যদি উদ্দীপক ২-এর শিক্ষা গ্রহণ করত, তাহলে তার জন্য সুখী মানুষের জামার প্রয়োজন হতো না। ’—মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
উত্তর : ‘মোড়ল যদি উদ্দীপক ২-এর শিক্ষা গ্রহণ করত, অর্থাৎ পরার্থপরতা বা অন্যের কল্যাণ কামনা তার স্বভাবে থাকত, তাহলে সত্যিই তার নিরাময়ের জন্য সুখী মানুষের জামার প্রয়োজন হতো না।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে ধনী হলেও তার জীবনে শান্তি নেই। কঠিন অসুখ তার জীবনের সব সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছে। তার সুস্থতার জন্য কবিরাজের চিকিৎসা মতে প্রয়োজন সুখী মানুষের গায়ের একটি জামা। মোড়ল তাই সে কোনো শর্তে নিজের সুস্থতার জন্য সুখী মানুষের জামা পেতে আগ্রহী।
উদ্দীপক ২ : এ সম্পর্কে বলা হয়েছে। অপরের কল্যাণের জন্য নিজের জীবন-মন উৎসর্গ করার মতো পরিতৃপ্তি আর কোনো কাজেই পাওয়া যায় না।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল যদি উদ্দীপক ২-এর এই শিক্ষা গ্রহণ করত, অর্থাৎ সুবর্ণপুরের মানুষের কল্যাণ চাইত, তাহলে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তার মানসিক শান্তি থাকত। সে মানুষের ওপর নানাভাবে অত্যাচার করেছে বলে সেই পাপে সে দগ্ধ হচ্ছে ও পার্থিব সম্পদের মধ্যে আর সুখ পাচ্ছে না।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে মোড়ল যদি উদ্দীপক ২-এর মনোভাব লালন করত, তাহলে অসুস্থ দশায়ও যে এমনিতেই মানসিক শান্তি লাভ করত, তার জন্য সুখী মানুষের জামার প্রয়োজন হতো না।
কমেন্ট