শিগগিরই ইরান সংঘাত শেষ হবে, চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান: দাবি ট্রাম্পের
পৌরনীতি ও নাগরিকতা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
১। দ্বৈত নাগরিকতা কাকে বলে?
উত্তর : একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি দেশের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে।
সাধারণত একজন ব্যক্তি একটি রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ পায়। তবে জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন—বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জন্মনীতি ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। কাজেই বাংলাদেশের মা-বাবার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তান জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জন করবে। এভাবে দ্বৈত নাগরিক হওয়া যায়।
২। সুনাগরিক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন ও আত্মসংযমী নাগরিকদের সুনাগরিক বলা হয়।
রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। আমাদের মধ্যে যে বুদ্ধিমান, যে সব সমস্যা অতি সহজে সমাধান করতে পারে, যার বিবেক আছে, যে ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে, আর যে আত্মসংযমী, যে বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে—এসব গুণসম্পন্ন নাগরিককে বলা হয় সুনাগরিক।
৩। নাগরিক অধিকার কী?
উত্তর : নাগরিক অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কিছু সুযোগ-সুবিধা।
অধিকার ছাড়া মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অধিকার অপরিহার্য।
৪। নাগরিকের নৈতিক অধিকার কী?
উত্তর : মানুষের বিবেক ও সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে যে অধিকার আসে, তাকে নৈতিক অধিকার বলে।
নৈতিক অধিকারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন—দুর্বলকে সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না। যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তা ছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে নানা রকম হতে পারে।
৫। নাগরিকের আইনগত অধিকার কী?
উত্তর : যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
আইনগত অধিকারকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যেমন—সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার। সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি। যেমন—জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার, মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি। নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সব ধরনের অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া—এগুলো রাজনৈতিক অধিকার। আবার জীবনধারণ, জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার প্রভৃতি হচ্ছে নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার। এসবই নাগরিকের আইনগত অধিকার।
কমেন্ট