শিগগিরই ইরান সংঘাত শেষ হবে, চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান: দাবি ট্রাম্পের
বাংলা
স্বদেশ
১। উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
এই যে নদী
নদীর জোয়ার
নৌকা সারে সারে
একলা বসে আপন মনে
বসে নদীর ধারে—
এই ছবিটি চেনা।
মনের মধ্যে যখন খুশি
এই ছবিটি আঁকি,
এক পাশে তার জারুল গাছে
দুটি হলুদ পাখি—
এমনি পাওয়া এই ছবিটি
কড়িতে নয় কেনা।
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) ‘কড়ি’ শব্দের অর্থ কী? কোন ছবিটি কড়ি দিয়ে কেনা যায় না? দুটি বাক্যে লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো। ৫
উত্তর :
(ক) কবিতাংশটুকু ‘স্বদেশ’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম আহসান হাবীব।
(খ) ‘কড়ি’ শব্দের অর্থ এক ধরনের ছোট্ট সাদা ঝিনুক।
বাংলাদেশের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির ছবি শিল্পী রংতুলি দিয়ে আঁকেন। কিন্তু এই মন জুড়ানো প্রকৃতির রূপ কড়ি বা টাকা-পয়সা দিয়ে কেনা যায় না।
(গ) মূলভাব : আহসান হাবীবের ‘স্বদেশ’ কবিতায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতির ছবি তুলে ধরা হয়েছে। একটি ছেলে নদীর ধারে বসে আপন মনে নদীর জোয়ার ও ঘাটে সারে সারে বাঁধা নৌকার দৃশ্যগুলো দেখছে। নদীর এক পাশে একটা জারুলগাছে দুটি হলুদ পাখি বসে আছে। এই সুন্দর ছবিটি মনের মধ্যে যখন খুশি আঁকা যায়। কিন্তু হৃদয়ে আঁকা এ ছবি কখনো কড়ি বা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না।
২। উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মাঠের পরে মাঠ চলেছে
নেই যেন এর শেষ
নানা কাজের মানুষগুলো
আছে নানান বেশ।
মাঠের মানুষ যায় মাঠে আর
হাটের মানুষ হাটে।
দেখে দেখে একটি ছেলের
সারাটি দিন কাটে।
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) ‘বেশ’ শব্দের অর্থ কী? কেন মানুষের এই নানা বেশ? দুটি বাক্যে লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো। ৫
উত্তর :
(ক) কবিতাংশটুকু ‘স্বদেশ’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম আহসান হাবীব।
(খ) ‘বেশ’ শব্দের অর্থ হলো পোশাক বা লেবাস।
আমাদের এই দেশে নানা পেশাজীবীর মানুষ রয়েছে। তাই তাদের পোশাক বা লেবাসও বিভিন্ন ধরনের।
(গ) মূলভাব : আহসান হাবীবের ‘স্বদেশ’ কবিতায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ছবি তুলে ধরা হয়েছে। সুজলা-সুফলা এই দেশের মাঠে মাঠে রয়েছে ফসলের ক্ষেত। বিভিন্ন পেশাজীবী নানা রকম পোশাক পরে নিজেদের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। যারা মাঠের মানুষ অর্থাৎ কৃষক, তারা মাঠে যায় কৃষিকাজ করতে আর হাটের মানুষ হাটে যায়। একটি ছেলের এই দৃশ্য দেখতে দেখতে সারাটি দিন কেটে যায়।
৩। উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
এই ছেলেটির মুখ।
সারা দেশের সব ছেলেদের
মুখেতে টুকটুক।
কে তুমি ভাই,
প্রশ্ন করি যখন
‘ভালোবাসার শিল্পী আমি’
বলবে হেসে তখন।
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) ‘টুকটুক’ শব্দের অর্থ কী? কেন ছেলেটির মুখে ‘টুকটুক’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে? দুটি বাক্যে লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো। ৫
উত্তর :
(ক) কবিতাংশটুকু ‘স্বদেশ’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম আহসান হাবীব।
(খ) ‘টুকটুক’ শব্দের অর্থ গাঢ়, সুন্দর।
ছেলেটির মুখেতে ‘টুকটুক’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ হলো —ছেলেটির মনে নিজের দেশের জন্য মায়া-মমতা ও ভালোবাসার অনুভূতি রয়েছে। এই অনুভূতি তার মুখের অবয়বে ফুটে উঠেছে।
(গ) মূলভাব : ‘স্বদেশ’ কবিতায় কবি আহসান হাবীব নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ছবি তুলে ধরেছেন। একটি ছেলে সেই ছবি দেখছে ও তার মনের ভেতরে ধরে রাখছে। এ ছেলেটির মনে নিজের দেশের জন্য মায়া-মমতা ও ভালোবাসার অনুভূতি রয়েছে। সেই অনুভূতি সারা দেশের সব ছেলের মুখে উদ্ভাসিত হয়। তাই ছেলেটির পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সে নিজেকে ভালোবাসার শিল্পী হিসেবে তুলে ধরে।
৪। উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘এই যে ছবি এমন আঁকা
ছবির মতো দেশ।
দেশের মাটি দেশের মানুষ নানা রকম বেশ।
বাড়ি বাগান পাখ পাখালি
সব মিলে এক ছবি,
নেই তুলি নেই রঙ, তবুও
আঁকতে পারি সবই। ’
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) ‘বেশ’ শব্দটির অর্থ কী? কেন ‘নানা রকম বেশ’ কথাটি বলা হয়েছে? দুটি বাক্যে লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো। ৫
উত্তর :
(ক) কবিতাংশটুকু ‘স্বদেশ’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম আহসান হাবীব।
(খ) ‘বেশ’ শব্দটির অর্থ পোশাক বা লেবাস।
‘নানা রকম বেশ’ বলতে বিভিন্ন ধরনের পোশাকের কথা বলা হয়েছে। এ দেশের মানুষ ক্ষেত-খামারে, কলকারখানায় ও অফিস-আদালতে কাজ করে, সে জন্য তাদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরতে হয়।
(গ) মূলভাব : নদীনালা, পাহাড়, সমুদ্র সব মিলে এ দেশ একটি ছবির মতো। প্রকৃতি যেমন মাঝেমধ্যে রং বদলায়, ছবিতেও তেমনি নানা রং ব্যবহার করা হয়। এ দেশের মাটিতে বিভিন্ন ধরনের মানুষের বাস রয়েছে। এই বিভিন্ন মানুষজনের পোশাক-আশাকও নানা ধরনের হয়ে থাকে। রংতুলি ছাড়াই স্বদেশের এই অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতির ছবি ছেলেটি আঁকতে পারে।
কমেন্ট