শিগগিরই ইরান সংঘাত শেষ হবে, চুক্তির জন্য মরিয়া ইরান: দাবি ট্রাম্পের
বাংলা
সৃজনশীল প্রশ্ন
শিক্ষাগুরুর মর্যাদা
১। উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাদশাহ আলমগীর—
কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবি দিল্লির।
একদা প্রভাতে গিয়া
দেখেন বাদশাহ—শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া
ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে
পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে,
শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধূলি
ধুয়ে-মুছে সব করিছেন সাফ সঞ্চারি অঙ্গুলি।
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) ‘হৃদে’ শব্দের অর্থ কী? কেন শাহজাদা পুলকিত? দুটি বাক্য লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো। ৫
উত্তর :
(ক) কবিতাংশটুকুর ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম কাজী কাদের নেওয়াজ।
(খ) ‘হৃদে’ শব্দের অর্থ হৃদয়ে, মনে।
বাদশাহ আলমগীরের পুত্র দিল্লির যে মৌলভির কাছে পড়তেন, একদিন প্রভাতে গিয়ে বাদশাহ দেখতে পেলেন যে শাহজাদা একটা পাত্র হাতে নিয়ে তার গুরুর পায়ে পানি ঢালছে। এ কাজ করে শাহজাদার মন পুলকিত ছিল, কারণ সে তার শিক্ষককে কিছুটা হলেও সেবা করতে পারছে।
(গ) মূলভাব : কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার এ অংশে দিল্লির বাদশাহ আলমগীরের কথা বলা হয়েছে। তাঁর পুত্রকে দিল্লির এক মৌলভি সাহেব পড়াতেন। এক দিন খুব সকালে গিয়ে বাদশাহ দেখতে পেলেন যে শাহজাদা একটা পাত্র হাতে নিয়ে তার গুরুর পায়ে পানি ঢালছে। এ কাজে তার মনে কোনো কষ্ট ছিল না, বরং আনন্দই ছিল। শিক্ষক শুধু নিজ হাতে নিজের পায়ের ধুলো-ময়লা আঙুল চালিয়ে পরিষ্কার করছিলেন।
২। উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শিক্ষক মৌলবি
ভাবিলেন, আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তাঁর সবি।
দিল্লিপতির পুত্রের করে
লইয়াছে পানি চরণের পরে,
স্পর্ধার কাজ, হেন অপরাধ কে করেছে—কোন কালে!
ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তাঁর ভালে।
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) ‘নিস্তার’ শব্দের অর্থ কী? কেন মৌলভি সাহেব ভাবলেন যে তাঁর নিস্তার নেই? দুটি বাক্যে লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো। ৫
উত্তর :
(ক) কবিতাংশটুকুর ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম কাজী কাদের নেওয়াজ।
(খ) ‘নিস্তার’ শব্দের অর্থ রক্ষা।
মৌলভি সাহেব তাঁর ছাত্র বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে দিয়ে নিজের পায়ে পানি ঢালিয়ে নিয়েছিলেন আর বাদশাহ তা দেখে ফেলেন। তাই শিক্ষক ভাবলেন যে দিল্লিপতির পুত্রকে দিয়ে এই কাজ করানোর অপরাধে হয়তো তিনি শাস্তি থেকে নিস্তার পাবেন না।
(গ) মূলভাব : কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার এ অংশে বলা হয়েছে যে দিল্লির বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে এক মৌলভি সাহেব পড়াতেন। একদিন মৌলভি সাহেব শাহজাদাকে দিয়ে তাঁর পায়ে পানি ঢালিয়ে নিচ্ছিলেন আর বাদশাহ তা দেখে ফেলেন। এতে মৌলভি সাহেব ভীত হয়ে ভাবেন যে এই কাজের জন্য তাঁর শাস্তি হতে পারে। দিল্লিপতির পুত্রকে দিয়ে পায়ে পানি ঢালানোর যে কাজ তিনি করেছেন, তেমন স্পর্ধার কাজ কোনোকালেও কেউ করেনি। তাই শাস্তির কথা মনে করে তাঁর কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিল।
৩। উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
হঠাৎ কী ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি নাক, যায় যাবে শির টুঁটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লির পতি সে তো কোন ছার,
ভয় করি নাক, ধারি নাক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়ে মান বড় আমি শুনাব শাহান শাহে।
(ক) কবিতাংশটুকু কোন কবিতার অংশ? কবিতাটির কবির নাম কী? ২
(খ) ‘শির’ শব্দের অর্থ কী? মৌলভি সাহেব শির যাওয়ার ভয়ে কাতর হলেন না কেন? দুটি বাক্যে লেখো। ৩
(গ) কবিতাংশটুকুর মূলভাব পাঁচটি বাক্যে লেখো। ৫
উত্তর : (ক) কবিতাংশটুকুর ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার অংশ। কবিতাটির কবির নাম কাজী কাদের নেওয়াজ।
(খ) ‘শির’ শব্দের অর্থ মাথা।
মৌলভি সাহেব বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে দিয়ে নিজের পায়ে পানি ঢালিয়ে নিয়েছিলেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল শিক্ষক হিসেবে তাঁর মর্যাদা সবার ওপরে। এ জন্য যদি তাঁর শির চলে যায় অথবা শাস্তি হয়, তাহলেও তিনি ভয় পাবেন না।
(গ) মূলভাব : কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার এ অংশে বলা হয়েছে যে বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে দিল্লির এক মৌলভি সাহেব পড়াতেন। এক দিন তিনি শাহজাদাকে দিয়ে তাঁর পায়ে পানি ঢালিয়ে নেওয়ার সময় বাদশাহ তা দেখে ফেলেন। এ কাজে মৌলভি সাহেব প্রথমে তাঁর শির যাওয়ার ভয় করলেও পরে তিনি ভাবেন যে শিক্ষক হিসেবে তাঁর মর্যাদা দিল্লির অধিপতির চেয়ে কম নয়। তাই যতক্ষণ তাঁর মনোবল আছে, ততক্ষণ তিনি ভয় করেন না। বাদশাহ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিক্ষকের মর্যাদা সম্পর্কে শাস্ত্রের কথা অনর্গল শোনাবেন, কারণ প্রাণের চেয়ে মান-সম্মান অনেক বড়।
কমেন্ট