বাংলা দ্বিতীয় পত্র

বাংলা দ্বিতীয় পত্র

002803KK-2017-06-02-AK-25 উপসর্গ প্রশ্ন : উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো। উত্তর : বাংলা ভাষায় কিছুসংখ্যক অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহূত হতে পারে না; বরং অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে, এগুলোকে উপসর্গ বলা হয়। যেমন—প্র, পরা, সু, বি, নি, আ ইত্যাদি। বাংলা ভাষায় যেসব উপসর্গের ব্যবহার আছে, তার সবগুলো বাংলা উপসর্গ নয়। অনেক উপসর্গ এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। এ ছাড়া বিদেশি ভাষা থেকেও কিছু উপসর্গ এসেছে। বাংলা ভাষায় মোট তিন প্রকার উপসর্গ রয়েছে। যথা— ১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ৩. বিদেশি উপসর্গ। ১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ : বাংলা ভাষায় ব্যবহূত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। এগুলোর সংখ্যা মোট ২১টি। যথা— অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। ২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ : বাংলা ভাষায় ব্যবহূত যেসব উপসর্গ সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলা হয়। যথা—প্র, পরা, অপ, সম, নি, নির, অব, অনু, অধি, অতি, অপি, অভি, পরি, প্রতি, উপ, উৎ, দুর, বি, সু, আ। ৩. বিদেশি উপসর্গ : আরবি, ফারসি, ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষা থেকে যেসব উপসর্গ বাংলা ভাষায় এসেছে তাদের বিদেশি উপসর্গ বলে। যথা—হাফ, ফুল, আম, খাস, বে, বাজে, গর ইত্যাদি। বিদেশি উপসর্গের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। প্রশ্ন : উপসর্গ কাকে বলে? বাংলা ভাষায় উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো। অথবা, ‘উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, অর্থদ্যোতকতা আছে’—আলোচনা করো। উত্তর : বাংলা ভাষায় কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যারা স্বাধীন পদ হিসেবে ব্যবহূত হতে পরে না; বরং অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দের সৃষ্টি করে, তাদের উপসর্গ বলা হয়। যেমন—প্র, পরি, নির, সু, বি, আ ইত্যাদি। উপসর্গের অর্থবাচকতা ও অর্থদ্যোতকতা এবং উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা : ‘অর্থবাচকতা’ হলো নিজস্ব অর্থ, যা উপসর্গের নেই। অর্থাৎ উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। আর ‘অর্থদ্যোতকতা’ হলো অর্থ সৃষ্টির ক্ষমতা, যা উপসর্গের আছে। অর্থাৎ উপসর্গ অন্য কোনো শব্দের আগে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দের সৃষ্টি করে। এ জন্য বলা হয়, উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, অর্থদ্যোতকতা আছে। আমরা যদি লক্ষ করি তবে দেখব, প্র, পরি, আ, সম, বি, উপ ইত্যাদি শব্দাংশের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। আর যেহেতু এগুলো উপসর্গ, তাই এদেরও নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। অর্থাৎ উপসর্গ নিজে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না। কিন্তু এই উপসর্গগুলোকে যদি কোনো শব্দের আগে বসাই তবে এগুলো নতুন অর্থবোধক শব্দের সৃষ্টি করে। যেমন— ‘হার’ একটি শব্দ। যদি শব্দটির আগে প্র, পরি, আ, সম, বি, উপ ইত্যাদি উপসর্গ যোগ করি, তবে তা নিম্ন প্রদত্ত শব্দ গঠন করে ও অর্থ প্রকাশ করে। যথা— প্র + হার = প্রহার—মারা পরি + হার = পরিহার—ত্যাগ আ + হার = আহার—খাওয়া সম + হার = সমাহার—প্রাচুর্য বি + হার = বিহার—ভ্রমণ উপ + হার = উপহার—উপঢৌকন আগে উপসর্গগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থ না থাকলেও এগুলো ‘হার’ শব্দের আগে বসে নতুন নতুন শব্দের সৃষ্টি করেছে, যাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অর্থ আছে। কাজেই অর্থবাচকতা না থাকলেও অর্থদ্যোতকতা সৃষ্টি করা উপসর্গের কাজ। এভাবে উপসর্গ বাংলা ভাষায় নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দের সৃষ্টি করে, শব্দের অর্থের সংকোচন বা সম্প্রসারণ ঘটিয়ে ভাষাকে শ্রুতিমধুর, বৈচিত্র্যময় ও প্রাঞ্জল করে তোলে। এদিক থেকে বিচার করে বলা যায়, বাংলা ভাষায় উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পূর্ববর্তী

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

মহাকবি ফেরদৌসী পরবর্তী

মহাকবি ফেরদৌসী

কমেন্ট