বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাংলা প্রথম পত্র
মরু ভাস্কর
হবীবুল্লাহ্ বাহার
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
হজরত ওমর ফারুক (রা.) একজন সুশাসক ছিলেন। এ গল্প রিংকু তার ভাইয়ের কাছে শুনেছে।
তার ভাই বলেছিল, হজরত ওমর (রা) একদিন ছদ্মবেশে তাঁর রাজ্যের খবর নিতে বের হলে একটা বাড়িতে এক গরিব মাকে দেখেন, যিনি তাঁর ক্ষুধার্ত সন্তানকে সান্ত্বনা দিতে খালি হাঁড়িতে পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে জ্বাল দিচ্ছেন। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে হজরত ওমর (রা) নিজে রাজকোষ থেকে আটার বস্তা বহন করে ওই দুঃখিনী মাকে দিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন সাম্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ক) মানব হৃদয় কিসের আলোয় উজ্জ্বল হয়?
উত্তর : মানব হৃদয় জ্ঞানের আলোয় উজ্জ্বল হয়।
খ) হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাম্যের বাণী শুনিয়ে ছিলেন কেন?
উত্তর : মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর করতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাম্যের বাণী শুনিয়েছিলেন।
তৎকালীন আরব সমাজে দাস-দাসী ব্যবহারের প্রচলন ছিল। তাদের ওপর চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। সমাজব্যবস্থা ছিল নীতি ও নৈতিকতা বিবর্জিত। সমাজে নারীদের কোনো মূল্য ছিল না। এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রচার করেন সাম্যের বাণী, যাতে সাম্য ও ন্যায়ের ওপর সমাজ প্রতিষ্ঠা পায়। তাই মানুষের ভেদাভেদ দূর করার লক্ষ্যে তিনি সাম্যের বাণী শুনিয়েছিলেন।
গ) উদ্দীপকে হজরত ওমর (রা.)-এর সাম্যবাদী মানসিকতা প্রবন্ধের কোন বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : উদ্দীপকে হজরত ওমর (রা.)-এর সাম্যবাদী মানসিকতা প্রবন্ধের মহানবী (সা.)-এর সাম্যবাদিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মরু ভাস্কর প্রবন্ধটি মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে রচিত হয়েছে। অনেক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মহানবী (সা.) তাঁর আদর্শে নতুন জাগরণের দিকে প্রচারিত করেছেন। প্রচলিত সমাজব্যবস্থা ও দাস ব্যবসায়ের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে মানবতাহীন পরিবেশ বিরাজ করেছিল পৃথিবীতে। তিনি তখন সাম্যের বাণী প্রচার করেছিলেন, মানবজাতিকে বুঝিয়েছিলেন মানুষ হিসেবে সবাই সমান। উদ্দীপকে রিংকু তার ভাইয়ের কাছে হজরত ওমর (রা.)-এর গল্প শুনেছে। প্রজাদের খরব নিতে রাতের অন্ধকারে তিনি বেরিয়ে পড়তেন। একদিন এক দুঃখিনী মাকে খালি হাঁড়িতে পানি জ্বাল দিতে দেখেছেন ক্ষুধার্ত সন্তানদের সান্ত্ব্তনা দেওয়ার জন্য। পরে হজরত ওমর (রা.) নিজে রাজকোষ থেকে আটা এনে দেন ওই মাকে। তাঁর কাছে রাজ্যের সবাই সমান ছিল। উদ্দীপকের হজরত ওমর (রা.)-এর সাম্যবাদী মানসিকতা মহানবী (সা.)-এর সাম্যবাদিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ) ‘সাম্য ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবতা থাকে না’—উক্তিটি কতটুকু সত্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর : সাম্য ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবতা থাকে না’—উক্তিটি পুরোপুরি সত্য।
হবীবল্লাহ্ বাহার রচিত ‘মরু ভাস্কর’ প্রবন্ধটি মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে রচিত হয়েছে। এ প্রবন্ধে মহানবী (সা.)-এর অন্যতম মানবিক গুণ ছিল সাম্যবাদিতা। তিনি প্রচলিত সমাজব্যবস্থা ও দাস ব্যবসায়ের অত্যাচারে তৎকালীন সমাজের অমানবিক ভূমিকার বিপরীতে সাম্যবাদী বাণী প্রচার করেন। তিনি সবাইকে সমান চোখে দেখতেন। মূলত মহানবী (সা.) জানতেন ও বিশ্বাস করতেন সাম্য ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবতা থাকে না, কারণ সবাইকে সমঅধিকার না দিলে অমানবিকতা থাকবেই।
উদ্দীপকে রিংকু তার ভাইয়ের কাছে হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর সুশাসনের পরিচয় পায়। হজরত ওমর ফারুক (রা.) রাতের অন্ধকারে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশার খবর নিতে বের হতেন। এক দুঃখিনী মাকে দেখতে পান যে মা খালি হাঁড়িতে পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিচ্ছেন ক্ষুধার্ত সন্তানকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য। ওমর ফারুক (রা.) নিজে তাঁর রাজকোষ থেকে আটা এনে ওই দুঃখিনী মাকে দেন। তাঁর কাছে সবার অধিকার সমান ছিল। সে জন্য তাঁকে সাম্যবাদী বলা হয়।
প্রবন্ধটিতে মহানবী (সা.) সাম্যবাদী বাণী প্রচার করতেন সে কথা বলা হয়েছে। তিনি জানতেন সাম্য ছাড়া মানবতা রক্ষা হয় না। হজরত ওমর (রা.) একইভাবে তাঁর প্রজাদের সমঅধিকার বজায় রেখে সাম্যবাদী হয়েছেন। কেননা তিনিও জানতেন সাম্য ছাড়া মানবতার জয় হবে না। অতঃপর সাম্য ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রে মানবতা থাকে না—উক্তিটি পুরোপুরি সত্য।
কমেন্ট