বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাংলা প্রথম পত্র
অপরিচিতা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন : বিবাহ বাড়িতে প্রবেশ করে অনুপমের মামা খুশি হতে পারেননি কেন?
উত্তর : বিবাহ বাড়ির সাদামাটা পরিবেশ ও সব আয়োজন সাধারণ মানের হওয়ার কারণে অনুপমের মামা বিবাহ বাড়িতে প্রবেশ করে খুশি হতে পারেননি।
অনুপমের মামা মনে করেছিলেন, বিবাহ বাড়ির পরিবেশ হবে অত্যন্ত জৌলুসময় ও জাঁকজমকপূর্ণ। তাইতো ব্যান্ড পার্টি নিয়ে কনসার্টের তালে তালে সেখানে উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান উঠানটায় বরযাত্রীদের জায়গা সংকুলান হওয়াই শক্ত, তার পরে ভেতরের সব আয়োজন ছিল মধ্যম মানের। সেখানকার সব সাজসজ্জাও ছিল অত্যন্ত সাধারণ মানের। ঝাড়বাতিগুলোও যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল না।
তার ওপর কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন তাদের যথেষ্ট খাতির-যত্ন করে সম্ভাষণ জানাননি। এসব কারণে অনুপমের মামা বিবাহ বাড়িতে প্রবেশ করে খুশি হতে পারেননি। উপরন্তু তিনি কিছুটা রাগান্বিতও হয়েছিলেন। যদি শম্ভুনাথ সেনের উকিল বন্ধু বরযাত্রীদের যথেষ্ট খাতির-যত্ন করে সম্ভাষণ না জানাতেন, তবে শুরুতেই একটা এস্পার-ওস্পার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
প্রশ্ন : ‘মস্ত বাংলাদেশের মধ্যে আমিই একমাত্র পুরুষ যাহাকে কন্যার বাপ বিবাহের আসর হইতে নিজে ফিরাইয়া দিয়াছে। ’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর গল্পকথক অনুপম তার ব্যক্তিত্বহীনতা, ভীরুতা ও কাপুরুষতার কথা স্মরণ করে আলোচ্য উক্তিটি করে।
বিবাহের আগে অনুপমের মামা কনের শরীর থেকে গহনা খুলে এনে তা পরখ করার মাধ্যমে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন, তাতে কনের বাবা মর্মাহত হন। তিনি পাত্র অনুপমের কাছে এ ব্যাপারে মতামত জানতে চাইলে অনুপম মামার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। যৌতুক নিয়ে মামার এই বাড়াবাড়ি ও অনুপমের ব্যক্তিত্বহীন আচরণের কারণে নাখোশ হয়ে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কল্যাণীও তাতে সমর্থন জানায়। ফলে বিয়ে ভেঙে যায় এবং অনুপম বিবাহ বাড়ি থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে। ফিরে আসার সময় অনুপম নিজের ব্যক্তিত্বহীনতা ও কাপুরুষতার কথা মনে করে হতাশায় ভেঙে পড়ে। এবং মনে মনে বলে, সে-ই হয়তো সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র পুরুষ হবে, যাকে মেয়ের বাবা বিবাহ আসর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
প্রশ্ন : ‘মাতৃ আজ্ঞা’ বলতে কল্যাণী কী বোঝাতে চেয়েছে?
উত্তর : মাতৃভূমির সেবায় কল্যাণী যে ব্রত বা শপথ গ্রহণ করেছে সেটিকেই সে ‘মাতৃ আজ্ঞা’ বলে উল্লেখ করতে চেয়েছে।
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর কল্যাণী প্রতিজ্ঞা করে যে সে আর কখনো বিয়ে করবে না। বাকি জীবনটা সে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগ করে কাটাবে। এ ক্ষেত্রে সে সমাজের অশিক্ষিত, পশ্চাত্পদ নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে চায় এবং এর মধ্য দিয়ে সে দেশের সেবায় অংশগ্রহণ করতে চায়। কারণ দেশের সেবা করার পূর্বশর্ত হলো দেশের মানুষের কল্যাণ করা। আর কল্যাণী সে কাজটিই করতে চায় নিষ্ঠার সঙ্গে। এ কাজের মধ্য দিয়ে সে অতীতের বেদনাময় স্মৃতি ভুলে থাকতে চায়। তাইতো ট্রেনে অনুপমের মা যখন কল্যাণীকে বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন সে তার মাতৃ আজ্ঞা তথা মাতৃভূমির সেবার কথা বলেছিল। এবং গল্পের শেষের দিকে অনুপম যখন আবারও কল্যাণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বাসনা ব্যক্ত করেছিল, তখনো কল্যাণী তার মাতৃ আজ্ঞার কথা ব্যক্ত করেছিল এবং অনুপমকে তার কাজে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
কমেন্ট