বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাংলা প্রথম পত্র
সাহিত্যের রূপ ও রীতি
হায়াৎ মামুদ
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের একটি সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক ‘ইডিপাস’। দেবতার অমোঘতায় ইডিপাস নিজের অজান্তে তার পিতাকে হত্যা করে এবং মাতাকে বিয়ে করে। কিন্তু সত্য প্রকাশ পেলে তার জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়।
ক) বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার আদি নিদর্শন কী?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার আদি নিদর্শন বৈষ্ণব পদাবলি।
খ) ছোটগল্প লেখা কাদের জন্য লাঞ্ছনাতুল্য বলে সাহিত্য-গবেষক শ্রীশচন্দ্র দাশ মনে করেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : কোথায় আরম্ভ করতে হবে এবং কোথায় সমাপ্তির রেখা টানতে হবে—এই শিল্পদৃষ্টি যার নেই, তার পক্ষে ছোটগল্প লেখা লাঞ্ছনাতুল্য বলে সাহিত্য-গবেষক শ্রীশচন্দ্র দাস মনে করেন।
হায়াৎ মামুদ রচিত ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে ছোটগল্প সম্পর্কে বলা হয়েছে, ছোটগল্প আকারে ছোট হবে বলে এতে জীবনের পূর্ণাবয়ব আলোচনা থাকতে পারে না। জীবনের খণ্ডাংশকে লেখক যখন রস নিবিড় করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, তখনই এর সার্থকতা। আকারে ছোট বলে এখানে বহু পাত্র-পাত্রীর ভিড় বা বহু ঘটনা-সমাবেশ সম্ভবপর নয়। এর আরম্ভ ও উপসংহার নাটকীয় হতে হয় বলে লেখক উপর্যুক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
গ) উদ্দীপকের বক্তব্য ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ রচনার কোন দিকটিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : উদ্দীপকের বক্তব্য ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ রচনার ট্র্যাজেডির দিককে নির্দেশ করে।
হায়াৎ মামুদ রচিত ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ রচনায় ট্র্যাজেডি সম্পর্কে গ্রিক দার্শনিক ও সাহিত্যবেত্তা অ্যারিস্টটল বলতে চেয়েছেন, রঙ্গমঞ্চে নায়ক বা নায়িকার জীবনকাহিনির দৃশ্য পরম্পরা উপস্থাপনের মাধ্যমে যে নাটক দর্শকের হৃদয়কে প্রভাবিত করে তার মনে করুণ রসের আনন্দ সৃষ্টি করে, তাই হলো ট্র্যাজেডি। কাহিনির বিষয়বস্তু ও পরিণতির দিক থেকে বিচার করলে ট্র্যাজেডি বা বিয়োগান্ত নাটক, কমেডি বা মিলনান্তক নাটক এবং প্রহসন এই তিনটি বিভাগে বিভক্ত করা যায়। এদের মধ্যে ট্র্যাজেডিকেই সর্বশ্রেষ্ঠ গণ্য করা হয়। ট্র্যাজেডির ভেতরে দুটি অংশ ক্রিয়াশীল থাকে : প্লট বা আখ্যান ভাগ, চরিত্র সৃষ্টি, সংলাপ, চিন্তা বা জীবনদর্শনের পরস্ফুিটন, মঞ্চায়ন—সব কিছুর সমন্বয়ে সুর সংগতি।
এ সম্পর্কে উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সফোক্লিসের ‘ইডিপাস’ নাটকের ইডিপাস নিয়তির অমোঘতায় নিজের অজান্তে পিতাকে হত্যা করে মাকে বিয়ে করলে তার জীবনে যে বিপর্যয় নেমে আসে, তাই ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছে এবং ইডিপাসের জীবনের এই করুণ পরিণতির সঙ্গে ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের ট্র্যাজেডির মিল আছে।
ঘ) উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশমাত্র—মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
উত্তর : উদ্দীপকে ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের একটি দিক অর্থাৎ ট্র্যাজেডি নাটকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে বলে এটি প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র।
এ ছাড়া ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে সাহিত্যের অন্যান্য শাখা যেমন—কবিতা, ছোটগল্প, নাটক উপন্যাস ও প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
কবিতা : ছন্দোবদ্ধ ভাষায় রচিত। এর প্রধান দুটি রূপভেদ হলো মহাকাব্য ও গীতিকাব্য। যুদ্ধবিগ্রহের কোনো কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয় মহাকাব্য। এর মূল লক্ষ্য গল্প বলা, তবে তা গদ্যে না লিখে পদ্যে লিখতে হয়। উদাহরণ—‘মেঘনাদবধ কাব্য’ ও ‘রামায়ণ’।
গীতিকাব্য : কবি বা বক্তার হৃদয়ের ভাবোচ্ছ্বাসের পরস্ফুিটন এর উদ্দেশ্য বলে এটি সাধারণত দীর্ঘকায় হয় না।
নাটক : সাহিত্যের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন শাখা। দৃশ্য ও শ্রব্য কাব্য। এটি সরাসরি সমাজ ও পাঠকগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে। সচরাচর পাঁচ অঙ্গে বিভক্ত। বিষয়বস্তু ও পরিণতির বিচারে এটি তিন প্রকার, যার একটি দিক ট্র্যাজেডি সম্পর্কে প্রয়োগ স্তরে বলা হয়েছে।
ছোটগল্প : বয়সে সর্বকনিষ্ঠ। আকারে ছোট বলে এতে জীবনের পূর্ণাবয়ব আলোচনা থাকতে পারে না। জীবনের খণ্ডাংশকে রস নিবিড় করে ফুটিয়ে তোলায়ই এর সার্থকতা। এর আরম্ভ ও উপসংহার নাটকীয় হওয়া চাই। ছোটগল্পের সার্থক সংজ্ঞা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ।
উপন্যাস : আধুনিক কালের সৃষ্টি, গদ্যে লিখিত ও সর্বাধিক পঠিত। এর প্রধান উপজীব্য হলো প্লট বা আখ্যান ভাগ, যা বিভিন্ন চরিত্রের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
প্রবন্ধ : গদ্যে লিখিত এমন রচনা, যা পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করে। সাধারণত কল্পনাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিকে আশ্রয় করে লেখক যখন কোনো বিষয় সম্পর্কে আত্মসচেতন, নাতিদীর্ঘ সাহিত্য সৃষ্টি করেন তা-ই প্রবন্ধ। প্রবন্ধ দুই ধরনের। তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ এবং সমন্বয় বা ব্যক্তিগত প্রবন্ধ।
উদ্দীপকে শুধু নাটকের একটি দিক ট্র্যাজেডি সম্পর্কে বলা হয়েছে, যা সফোক্লিসের ‘ইডিপাস’ নাটকের ইডিপাসের জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে।
উপর্যুক্ত বক্তব্য থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি, নাটক ছাড়া সাহিত্যের উল্লিখিত দিকগুলো উদ্দীপকে উঠে আসেনি। উদ্দীপকটি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশমাত্র।
কমেন্ট