বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

প্রাচীন বাংলার জনপদ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন : ১। বঙ্গ জনপদের পরিচয় দাও। উত্তর : বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ। অতি প্রাচীন পুঁথিতে একে মগধ ও কলিঙ্গ জনপদের প্রতিবেশী বলা হয়েছে। মহাভারতের উল্লেখ থেকে বোঝা যায় যে বঙ্গ, পুণ্ড্র, তাম্রলিপ্ত ও সূক্ষ্মের সংলগ্ন দেশ। এটি বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে গড়ে উঠেছিল। অনুমান করা হয়, এখানে ‘বঙ্গ’ নামে এক জাতি বাস করত। তাই জনপদটি পরিচিত হয় ‘বঙ্গ’ নামে। সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে মনে হয়, গঙ্গা ও ভাগীরথীর মাঝখানের অঞ্চলকেই বঙ্গ বলা হতো। ২। পুণ্ড্র জনপদের পরিচয় দাও। উত্তর : প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো পুণ্ড্র। বলা হয় যে ‘পুণ্ড্র’ বলে এক জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। বৈদিক সাহিত্য ও মহাভারতে এ জাতির উল্লেখ আছে। পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর। পরে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। রাজমহল গঙ্গা-ভাগীরথী থেকে আরম্ভ করে করতোয়া পর্যন্ত মোটামুটি সব উত্তরবঙ্গই বোধ হয় সে সময় পুণ্ড্রবর্ধনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৩। হরিকেল জনপদের পরিচয় দাও। উত্তর : চীনা ভ্রমণকারী ইিসং বলেছেন, হরিকেল ছিল পূর্ব ভারতের শেষ সীমায়। আবার কারো কারো লিপিতে হরিকেলের যে পরিচয় পাওয়া যায়, তাতে বর্তমান চট্টগ্রামেরও অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। সব তথ্য পর্যালোচনা করে ধরে নেওয়া যায় যে পূর্বে শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রামের অংশবিশেষ পর্যন্ত হরিকেল জনপদে বিস্তৃত ছিল। সপ্তম ও অষ্টম শতক থেকে ১০ ও ১১ শতক পর্যন্ত হরিকেল একটি স্বতন্ত্র রাজ্য ছিল। ৪। সমতট জনপদের পরিচয় দাও। উত্তর : পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। এ অঞ্চল ছিল আর্দ্র নিম্নভূমি। কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। আবার কেউ মনে করেন, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে সমতট গঠিত হয়েছিল। সাত থেকে ১২ শতক পর্যন্ত বর্তমান ত্রিপুরা জেলা ছিল সমতটের অন্যতম অংশ। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট। কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা নামক স্থানটি সাত শতকে এর রাজধানী ছিল। ৫। বরেন্দ্র জনপদের পরিচয় দাও। উত্তর : বরেন্দ্র উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধন জনপদের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল। জনপদের প্রধান শহর, মৌর্য ও গুপ্ত আমলে প্রাদেশিক শাসনকর্তার কেন্দ্র পুণ্ড্রনগরের অবস্থানও ছিল এই বরেন্দ্র এলাকায়। তাই একে জনপদ বলা যায় না। কিন্তু এ নামে একসময় সমগ্র এলাকা পরিচিত হতো। তাই প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে একে জনপদের মর্যাদা দেওয়া হয়। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, গঙ্গা ও করতোয়া নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে ছিল এ জনপদের অবস্থান। বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেকটা অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।
হিসাববিজ্ঞান পূর্ববর্তী

হিসাববিজ্ঞান

কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে পরবর্তী

কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে

কমেন্ট