জাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করতে অভিযান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হল থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করতে অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযান পরিচালনার সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় প্রশাসনের।
গতকাল শনিবার (১৭ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একত্রে অভিযান শুরু করে। চারতলা থেকে অভিযান শুরু হয়।
এ সময় বেশ কয়েকটি কক্ষ সিলগালা করা হয়। সেই সঙ্গে হলে অবস্থানরত মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আজ রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল শনিবার কামালউদ্দিন হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের বের করতে অভিযান চালায় প্রশাসন। অভিযান পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক একে এম রাশিদুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সোহেল আহমেদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান পরিচালনার এক পর্যায়ে হলের ছাত্রত্ব শেষ হওয়া একদল শিক্ষার্থী হল ছাড়বেন না জানিয়ে হল অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর হলের প্রাধ্যক্ষ কক্ষে আলোচনায় বসেন অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া শিক্ষকরা। আলোচনার এক পর্যায়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব তার গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন তার গাড়িতে হাত দিয়ে আঘাত (থাপ্পড়) করেন। তখন আব্দুর রব গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে প্রক্টর আসেন এবং এমন আচরণের কারণ জানতে চান। তখন শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে যান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে দুপক্ষের বাকবিতণ্ডা শেষে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয় প্রশাসনের শীর্ষব্যক্তিরা।
প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, কোষাধ্যক্ষ স্যার গাড়িতে করে ফিরছিলেন। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী তার গাড়িতে আঘাত করেন।
ট্রেজারার স্যার গাড়ি থেকে বের হলে শিক্ষার্থীরা চিৎকার করেন এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযানে অংশ নেওয়া অন্যান্য শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
যেসব শিক্ষার্থী হলে বিক্ষোভ করেছেন তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই তারা দীর্ঘ সময় গণরুমে ছিলেন। অনেকে চতুর্থ বর্ষে উঠে আসন পেয়েছেন। ওই সময়টা তাদের জীবন থেকে নষ্ট হয়েছে। তাদের অনেকের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাই এখন চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা হল ছেড়ে দেবেন তবে তাদের আরেকটু সময় প্রয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘এখন হলে কোনো সিট সংকট নেই। আমরা বলেছি নবীন শিক্ষার্থীরা হলে আসার আগেই আমরা হল ছেড়ে দেবো। কিন্তু প্রশাসন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের রুমে রুমে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি রুম সিলগালা করেছে। চাইলেই তো আর হল থেকে যখন-তখন বের হওয়া যায় না।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আফম কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক একে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। অভিযান পরিচালনা করেছি। একে একে সব হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে হলটিতে অভিযান পরিচালনার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং ট্রেজারার স্যারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা উপাচার্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’
কমেন্ট