ধুঁকছে হলিউড, সাফল্যের প্রত্যাশায় নজর যেসব সিনেমায়
বেশ লম্বা সময় লেখক ও অভিনয়শিল্পীদের সংগঠনের ধর্মঘটের জেরে কাবু ছিল হলিউড। জৌলুশহীন হয়ে পড়েছিল চলচ্চিত্র উৎসব, একের পর এক মুক্তি পিছিয়েছে বড় বাজেটের সিনেমাগুলো। ১৪৮ দিন পর গত বছরের শেষভাগে প্রত্যাহার করা হয়েছে হলিউড লেখকদের সেই ধর্মঘট। এরপর থেকে মুক্তি পাচ্ছে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বিগ বাজেটের সিনেমাগুলো।
তবে বক্স অফিসে সাফল্য এখনো সেভাবে দেখছে না হলিউড।
গতকাল মুক্তি পেয়েছে রায়ান রোনাল্ডস অভিনীত ‘ডেডপুল অ্যান্ড ওলভারিন।’ হলিউডে চলা চিত্রনাট্যকারদের ধর্মঘটের ফলে এর শুটিং বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক ধরনের অনিশ্চয়তা।
তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে ২৬ জুলাই আমেরিকার থিয়েটারে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। যদিও ওই ঘর্মঘটের ফলে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়েছে। বক্স অফিসে আয়ের চিত্র নিম্নমুখী।
বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম হলিউড রিপোর্টার বলছে, চলতি বছর মার্ভেল স্টুডিওসের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ২৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের তুলনায় কমেছে ৪২ শতাংশ।
জানা যায়, বক্স অফিস সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল করোনা মহামারির ঠিক আগের বছর। গত দুই বছরে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি। তবে ‘ডুন পার্ট টু’সহ বেশকিছু সিনেমা সাড়া ফেললেও সেই ক্ষতি কাটাতে পারেনি হলিউড। এ ছাড়া করোনা মহামারির পর থেকেই বিনোদন দুনিয়া অনেকাংশে ওটিটিনির্ভর।
সিনেমা হলে সিনেমা মুক্তি পেলেও দিনশেষে সেটি ওটিটিতেও মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে মহামারি পরবর্তী দুনিয়ায় সিনেমা হলের প্রভাব কি কমজোর হয়ে পড়েছে কিনা এমন প্রশ্নও উঠছে।
এমন পরিস্থিতিতে বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমান বিনোদন দুনিয়া আগের মতো নয়। বরং আগের চেয়ে অনেক ভঙ্গুর। যদিও ধারণা করা হচ্ছিল, ‘ইনসাইড আউট-২’, ‘ডেসপিকেবল মি ৪’-এর মতো সিনেমা দৃশ্যপট বদলে দেবে। তবে সেভাবে সাফল্য পায়নি এগুলো।
সামনে এলি রথের পরিচালনায় আসছে ‘বর্ডারল্যান্ডস’। সিনেমাটিতে আছেন কেট ব্ল্যানচেট, কেভিন হার্ট, জ্যাক ব্ল্যাক, ববি লি প্রমুখ। সায়েন্স ফিকশন ঘরানার সিনেমাটি নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। এলিয়েন সিরিজের ‘এলিয়েন: রমুলাস’ আসছে মধ্য আগস্টে। গত শতকের সত্তর ও আশির দশক মাতিয়েছিল ‘এলিয়েন’। এখন নতুন করে এ সিনেমা কতটা দর্শককে টানতে পারবে তা সময় বলে দেবে।
আগামী সেপ্টেম্বরে আসছে ‘বিটলজুস টু’। সিনেমাটি ১৯৮৭ সালের কাল্ট ক্ল্যাসিকের সিক্যুয়েল। মাইকেল কিটন এবারো তার চরিত্রে ফিরছেন। একই মাসে মুক্তি পাবে ‘ট্রান্সফরমারস’। সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন স্কারলেট জোহানসন, ক্রিস হেমসওয়ার্থ। ট্রান্সফরমারস নিয়ে দর্শকের বরাবরই আগ্রহ থাকে। এবারো ব্যতিক্রম হবে না। এ মাসের শেষে জর্জ ক্লুনি ও ব্র্যাড পিটকে দেখা যাবে ‘ওল্ফ’ সিনেমায়।
আগামী সেপ্টেম্বরের শেষে আসছে ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘মেগালোপলিস’। সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল। পরের মাসে আসছে বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা ‘জোকার: ফোলি এ ডিউক্স।’ ওই মাসেই থাকছে ভেনমের নতুন কিস্তি। আর কপোলার মতো না হলেও নতুন করে ফিরছেন রিডলি স্কট। আগামী নভেম্বরের শেষে মুক্তি পাবে ‘গ্ল্যাডিয়েটর টু’।
এদিকে, চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, সিনেমা হলের ব্যবসা নিয়ে এখনও সেভাবে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না। এটা কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা। খুব শিগগিরই হয়তো ব্লকবাস্টার সিনেমা দেখা যাবে। ২০২৫ সালের আগে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে পারা যাবে বলে মনে হয় না। তবে অনেক সিনেমাই প্রত্যাশার তুলানায় খারাপ করেছে।
আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টুডিওগুলো সতর্ক হয়ে উঠবে। তারা সিনেমা তৈরির মাত্রা কমিয়ে দেবে। ফলে সমস্যা আগামীতে আরও জটিল হতে পারে। এ কথা সত্য সনির ‘দ্য গারফিল্ড’, ওয়ার্নার ব্রুসের ‘ফিওরিওসা’ ও প্যারামাউন্টের ‘ইফ’ ভালো করেছে। কিন্তু তারা তাদের আগাম প্রত্যাশাকে অতিক্রম করতে পারেনি। ফলে পরবর্তী সিনেমাগুলো দর্শকদের কতটা হলমুখী করবে সেটা সময়ই বলে দেবে। বিশ্বজুড়ে হলিউডের অনুরাগীরাও প্রত্যাশা রাখছেন, আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরবে হলিউড।
কমেন্ট