রহস্যঘেরা অপরাধ জগতের ‘রক্তাক্ত’ খেলা, কেমন হলো নানির ‘হিট ৩’?

রহস্যঘেরা অপরাধ জগতের ‘রক্তাক্ত’ খেলা, কেমন হলো নানির ‘হিট ৩’?

১ মে মুক্তি পেয়েছে ‘ন্যাচারাল স্টার’খ্যাত নানির ‘হিট ৩’। এটি ‘হিট’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমা। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ নিয়ে তৈরি সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। একদিকে বক্স অফিসে যেমন দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দর্শকমনেও ফেলছে প্রভাব।


রক্ত, সহিংসতা, অন্ধকার এক অপরাধ জগতের নৃশংসতার সঙ্গে এক পুলিশ অফিসারের আগ্রাসী লড়াই, সব মিলিয়ে কেমন হলো নানির ‘হিট ৩’? 
হিটের আগের দুই সিনেমার মতো এটিও এক ক্রাইম থ্রিলার ধামাকা। এই সিরিজের প্রতিটি চলচ্চিত্র একটি বিশেষ পুলিশ ইউনিটের গল্প বলে, যা জটিল খুনের মামলার তদন্ত করে। সেই ইউনিটের নাম HIT (Homicide Intervention Team)। এবারের গল্পে দেখা যায়, এসপি অর্জুন সরকার (নানি) একজন কঠোর ও নির্ভীক পুলিশ অফিসার।


কাশ্মীরে দায়িত্বরত অবস্থায় তার হাত আসে এমন এক কেস, যার শেকড় ছিল রহস্যেঘেরা অপরাধের গভীরে। একের পর এক খুন হচ্ছে, যেখানে নির্মমভাবে হত্যা করে ভিডিও আপলোড করা হয় ডার্ক ওয়েবে। তদন্তে নানি জানতে পারে, এটি ডার্ক ওয়েবের এমন এক জগৎ, যেখানে সাইকোপ্যাথরা নিজেদের সন্তুষ্টির জন্য এই নৃশংস খুনগুলো করে থাকে। আর এসব খুনিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, যা মূলত ডার্ক ওয়েবসাইট।

কারা এর পেছনে? এর মূল হোতা কে? পুলিশের ধারণারও বাইরে এই চক্রকে ধরতে নিজের আগ্রাসী কৌশল অবলম্বন করেন নানি। তিনিও অপরাধীদের তৈরি নিয়মেই দুটি খুন করে কৌশলে ঢুকে যান এই চক্রে। এই চক্রে প্রবেশ করে তাদের গোপন আস্তানায় পৌঁছেন এবং শেষ পর্যন্ত সাইকোপ্যাথদের নেতা ‘আলফা’-কে শেষ করেন। এক রাতেই শতাধিক সাইকোপ্যাথ খুনিকে রক্তের সাগরে মিলিয়ে দেন তিনি।

‘হিট ৩’ যেমন গল্পে এগিয়েছে, তেমনি এর ভায়োলেন্স ছিল আলোচনার বিষয়।

এর আগেও হিট ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমাগুলো দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভায়োলেন্স গল্পে দর্শকদের চাহিদা থাকায় হিটের তৃতীয় কিস্তির গল্পই নির্বাচন করা হয়েছে সেভাবে। আর মারকাটারি অ্যাকশন ও দুর্দান্ত ভায়োলেন্সে পরিপূর্ণ সিনেমাটিতে বেশ সফল হয়েছেন পরিচালক সাইলেশ কোলানু। তবে সফলতার কৃতিত্বটা দিতে হয় নানিকেই। কারণ, তার আগ্রাসী লুক আর অভিনয়কে সিনেমার প্রাণ বলা যায়। গল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানি নিজেকেও একজন সাইকোপ্যাথের অনুরূপ হিসেবেই হাজির করেছেন পর্দায়, যা সফলভাবে কাজ করেছে। এ ছাড়া গল্পে তার চরিত্রটি ধীরে ধীরে বেশ সুন্দরভাবে বিল্ডআপ করা হয়েছে, যা দর্শকদের সঙ্গে কানেক্ট করতে পেরেছে। 

 
সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন শ্রীনিধি শেঠি, যিনি মৃদুলা চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং তার সঙ্গে নানির রসায়ন দর্শকদের ভালো লেগেছে। আরো ছিলেন রাও রমেশ। দক্ষিণের অন্যতম শক্তিমান এক অভিনেতা। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল আদিভি শেষ-এর ক্যামিও। নিজের চিরাচরিত স্টাইলে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার এন্ট্রি ছিল ‘হিট’ দর্শকদের জন্য বোনাস। তিনি ছিলেন হিটের দ্বিতীয় কিস্তির নায়ক। 

পরিচালক সাইলেশ কোলানু এই সিনেমায় একটি অন্ধকার ও সহিংস থ্রিলার উপস্থাপন করেছেন, যা দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখে। ক্রাইম থ্রিলার সিনেমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিনেমার দ্বিতীয় ভাগ। আর এই অংশে সাইলেশ দারুণ সফল। সিনেমার দ্বিতীয়ার্ধ বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে দর্শকদের কাছে। টানটান উত্তেজনায় গল্পের ভয়াবহতা বেশ সুন্দরভাবেই ধরে রাখতে পেরেছেন পরিচালক। ক্লাইম্যাক্সের দিকে একটি পুরনো বার্মিজ প্রাসাদে সংঘটিত অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। 

 
‘হিট’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম প্রশংসিত দিক এর মিউজিক। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মিকি জে মায়েরর করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও সাউন্ড ডিজাইন প্রশংসার দাবিদার। এ ছাড়া চিত্রগ্রহণ ও অ্যাকশন কোরিওগ্রাফিও বেশ প্রশংসনীয় বলা যায়। তবে অত্যধিক সহিংসতা পারিবারিক দর্শকদের জন্য উপযুক্ত নয়। কিছু দৃশ্য দর্শকদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। যদিও এর গল্প সেই ভায়োলেন্সকে গ্রহণযোগ্য করেছে। গল্পের সঙ্গে মানানসই সহিংসতা বেশ লুফে নিয়েছেন দর্শকরা।

দীর্ঘ ছয় বছরের সাফল্যখরা বোধ হয় কাটাতে চলেছেন লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিও পরবর্তী

দীর্ঘ ছয় বছরের সাফল্যখরা বোধ হয় কাটাতে চলেছেন লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিও

কমেন্ট