কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপট রুখেতে কঠোর অবস্থানে অস্কার কমিটি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপট রুখেতে কঠোর অবস্থানে অস্কার কমিটি

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘অস্কার’-এর মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দাপট রুখে দিতে কঠোর অবস্থান নিল অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। 


শুক্রবার (১ মে) এক যুগান্তকারী ঘোষণায় অ্যাকাডেমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অস্কারের জন্য যোগ্য হতে হলে অভিনয় ও চিত্রনাট্যের পেছনে অবশ্যই মানুষের সরাসরি সৃজনশীলতা থাকতে হবে।

মানুষ বনাম মেশিন: কী বলছে নতুন নিয়ম? 

চলচ্চিত্র শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকাডেমি তাদের যোগ্যতার শর্তাবলী বা এলিজিবিলিটি রুলসে পরিবর্তন এনেছে। 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিনয়কে অস্কারের জন্য মনোনীত হতে হলে তা অবশ্যই ‘সরাসরি মানুষের দ্বারা প্রদর্শিত’ হতে হবে। কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনো ডিজিটাল অভিনেতা বা এআই দিয়ে নির্মিত কোনো চরিত্র অভিনয়ের জন্য বিবেচিত হবে না।

সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা চিত্রনাট্য অবশ্যই ‘মানুষের দ্বারা রচিত’ হতে হবে। এআই-এর তৈরি কোনো গল্প বা সংলাপ মৌলিক বা অভিযোজিত চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কারের অযোগ্য বলে গণ্য হবে।



সম্প্রতি সিনেমা জগতে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রয়াত হওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা ‘ভ্যাল কিলমার’-এর ডিজিটাল সংস্করণকে একটি নতুন সিনেমার প্রধান চরিত্রে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি এ বিতর্কে ঘি ঢেলেছে। 

এছাড়াও গত বছর অভিনেতা ও কমেডিয়ান এলিন ভ্যান ডার ভেলডেন একজন সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ এআই অভিনেতা তৈরি করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। অ্যাকাডেমির এ নতুন নিয়ম মূলত এ ধরনের কৃত্রিম সৃষ্টিকে মানুষের মেধার সমকক্ষ হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

তবে অ্যাকাডেমি ছবি তৈরির অন্যান্য ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট বা সম্পাদনার মতো ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হবে না। 

অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কোনো সিনেমার মনোনয়নের সম্ভাবনা বাড়াবেও না, আবার কমাবেও না। প্রতিটি শাখা বিচার করবে যে সৃজনশীল কাজের মূলে মানুষ কতটা সক্রিয় ছিল।’

সতর্কবার্তা ও স্বচ্ছতা 

অ্যাকাডেমি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যদি কোনো সিনেমার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে, তবে তারা সেই সিনেমার নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং মানুষের অবদানের গভীরতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় তথ্য তলব করার অধিকার রাখে।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশক থেকে সিজিআই প্রযুক্তির ব্যবহার সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও অ্যাকাডেমি মনে করে সিজিআই হলো মানুষের দ্বারা পরিচালিত একটি শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। 

পক্ষান্তরে, এআই কেবল একটি প্রম্পটের মাধ্যমে মানুষের কাজকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা সৃজনশীলতার মৌলিক সংজ্ঞার পরিপন্থি। 

বলিউডে এবার আদিত্য-তারার প্রেমের গুঞ্জন পরবর্তী

বলিউডে এবার আদিত্য-তারার প্রেমের গুঞ্জন

কমেন্ট