জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে দেশের ও মানুষের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
দিল্লির আন্দোলনকে ‘দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র’ বললেন কঙ্গনা
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি।
সেই আন্দোলনকারীদের একাংশকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
তার অভিযোগ, এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্র। তবে বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষও এখন তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছেন।
তার কথায়, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এই দেশবিরোধী শক্তিগুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন। পুলিশকে বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ এবার তাদের ধরে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেন। কারণ, কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।’
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্য সামনে আসে।
রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়।
বিক্ষোভকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে দাবি করলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন কঙ্গনা। দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে যান চলাচলে বাধার মতো পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি নাগরিকদের ভোগান্তি কমানোর ওপর জোর দেন।
সিজেপির আন্দোলন নিয়ে এবারই প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য করলেন না কঙ্গনা।
এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই সময় আন্দোলনকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী। আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও, ভাষা, পোশাক ও আচরণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এ নিয়ে সমালোচনা করেন।
সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গেও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন কঙ্গনা। সৌরভের দাবি ছিল, বিজেপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলই কঙ্গনাকে গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, গণতন্ত্রকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা কঙ্গনার সাংসদ হিসেবে কাজের চেয়ে বেশি।
এর জবাবে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ বলে আক্রমণ করেন কঙ্গনা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে তাকে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সৌরভের উপদেশ দেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভের মধ্যে কঙ্গনার মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন বিজেপি সাংসদ, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
কমেন্ট