বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার : প্রধানমন্ত্রী
পাম্পে চেকিং, যেসব না থাকলে মোটরসাইকেলে মিলবে না তেল
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও দুর্ঘটনা কমাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে রংপুর জেলা প্রশাসন। এখন থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে এ তথ্য জেলা প্রশাসক অফিস জানা গেছে।
প্রশাসন বলছেন আইন না মানলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরযান সড়ক, মহাসড়ক কিংবা জনসমাগমস্থলে চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ধারা ৪(১) ও ১৬(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া যানবাহন চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস নিয়ে কোনো যানবাহন পরিচালনা করা যাবে না।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অনেক দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মোটরসাইকেল চলাচল, যেখানে চালকদের অধিকাংশের নেই বৈধ কাগজপত্র বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম।
নগরীর এক মোটরসাইকেল চালক আব্দুল রহমান বলেন, ‘আইন মেনে চলা অবশ্যই ভালো, কিন্তু অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে বের হতে হয়। তখন যদি কাগজপত্র সঙ্গে না থাকে, তেল না পেলে বিপদে পড়তে হবে।
’
রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, ‘আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। অনেকেই হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া গাড়ি চালান, এতে দুর্ঘটনা বাড়ে। এই নিয়ম থাকলে সবাই একটু সতর্ক হবে।’
এক পেট্রল পাম্প মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রস্তুত। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।
গ্রাহকদের সঙ্গে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। এজন্য নিরাপত্তা ও পরিষ্কার নির্দেশনা প্রয়োজন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে কেবল আইন জারি করলেই হবে না, তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পাম্পগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং গণসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের জন্য সহজে লাইসেন্স ও কাগজপত্র প্রাপ্তির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও জরুরি।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ‘এটি কোনো কঠোরতা নয়, বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আমরা চাই সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি মানুষ নিরাপদ থাকুক। আইন মেনে চলার সংস্কৃতি তৈরি করতেই এই উদ্যোগ।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু নির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়- এর কার্যকর বাস্তবায়নে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পেট্রল পাম্পে তদারকি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যারা নিয়ম ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এই ধরনের উদ্যোগ খুবই সময়োপযোগী। আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছি। তেল না পাওয়ার বিষয়টি চালকদের আইন মেনে চলতে আরো উৎসাহিত করবে। শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, মানুষকে সচেতন করাও জরুরি। আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি যাতে সবাই বিষয়টি বুঝে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে চলে।’
কমেন্ট