গণমাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই অনেক সমস্যার সমাধান হবে : তথ্যমন্ত্রী
শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে : চিফ প্রসিকিউটর
এক যুগ আগে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চার জেলায় এখন পযন্ত ৫৮ জনকে হত্যার তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এই ৫৮ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে তিনি এই ব্রিফ করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তে এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে যে ২০১৩ সালের ৫ মে (দিন ও রাতে) শুধু শাপলা চত্বরে বা ঢাকার মধ্যে ৩২ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ৩২ জনের পরিচয় তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ময়নাতদন্ত হয়েছে। অনেকের হয়নি।
’
কবর দেখে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সংস্থা এই ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘পরদিন (২০১৩ সালের ৬ মে) নারায়ণগঞ্জে ২০ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ২০ জনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। একই দিন চট্টগ্রামে পাঁচজন নিহত হয়।
আর কুমিল্লায় নিহত হয় একজন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আর তাদের সবারই পরিচয় তারা (ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা) শনাক্ত করতে পেরেছেন।’
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কার কার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এরই মধ্যে সাবেক একাধিক আইজিপি গ্রেপ্তার রয়েছেন।
এ ছাড়া সাবেক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে তৎকালীন বাহিনী প্রধানদের যারা জড়িত, তাদের নামও আমরা পাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে নাম প্রকাশ করছি না।’
এ মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ মামলাটির তদন্তকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত শেষ হবে বলে আশাবাদী। এরপর ফরমাল চার্জ আকারে দাখিল করা হবে। আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য আছে। সেদিনই তা দাখিল করা সম্ভব হবে।’
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে নির্বিচার গুলি চালিয়ে শতাধিক কর্মী হত্যার কথা উল্লেখ ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ দেন হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও আছেন অভিযুক্তের তালিকায়। এ মামলায় গ্রেপ্তার আছেন আরো পাঁচ আসামি। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। গত বছর ১৪ মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৫ এপ্রিল পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডলকে এ মামরায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
কমেন্ট