সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী

জনদাবিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কেউ অন্যায়ের শিকার হোক, সেটা সরকার চাইবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘সদ্যোবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।


এতটুকু ভরসা সরকারপ্রধান ও আমাদের ওপর রাখতে হবে।’
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নবাগত আইনজীবীর ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।


আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সরকার একদিকে যেমন জনদাবিকে গুরুত্ব দেবে, আবার কেউ অন্যায়ের শিকার হোক, তা-ও চাইবে না। সুতরাং বিষয়টি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কী করণীয় আছে, সেটা সরকার যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে।



নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নিয়োগ সংবিধানের ১২৩-এর ২ অনুচ্ছেদ অনুসারে পদত্যাগের দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হওয়ার কথা। সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত বাধা আছে কি না, তা জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ওটা হোম মিনিস্ট্রি জানবে।


এগুলো কনফিডেনশিয়াল বিষয়, এটা পাবলিকলি এভাবে আমরা বলতে পারব না। কার নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।’
পিরোজপুরের একটি প্রকল্পের উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘সেখানে একজন এমপি ছিলেন, নাম ছিল মহারাজ। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে শুধু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। এক ইঞ্চি রাস্তা নির্মাণ হয়নি, এক বিন্দু বালু পড়েনি, এক ছটাক সিমেন্ট পড়েনি, এক কেজি রড পড়েনি।


মহারাজসহ সেখানকার কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে সেই অর্থ লুটপাট করেছেন।’ 

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আর কত কোটি টাকার কাজ যে বেগমপাড়ায় গেছে, তার কোনো হিসাব নেই। বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাদের একটি প্রতিবেদনে বলেছে, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে ডকুমেন্টেড উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। এমন একটি চোরাবালির পথ পেরিয়ে আমরা এখন গণতন্ত্রের মহাসড়কের দিকে প্রবেশ করেছি।’

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় এক হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কমেন্ট