ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য মজুদ ধারণক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং শস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি খাদ্যশস্য মজুদ ধারণক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা সরকারের খাদ্য, রেলপথ, বাণিজ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ক্রীড়া ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।
ব্রিফিংয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরাধীন সিএসডি, এলএসডি, সাইলো ও ওয়্যারহাউজসহ বিভিন্ন স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা ২৪ লাখ ৯ হাজার টন। তবে জরাজীর্ণতা, পুরোনো অবকাঠামো ও নদীভাঙনের কারণে প্রায় ৯২ হাজার টন ধারণক্ষমতার গুদাম বর্তমানে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এসব গুদাম দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ জানান, এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট রোধ ও নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিসিদের নিজ-নিজ জেলার ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের তালিকা প্রস্তুত, গ্যাস সরবরাহের সঠিক চ্যানেল অনুসরণ এবং কোনো অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তথ্য উপদেষ্টা জানান, নিত্যপণ্যের বাজার ও এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অক্টোবর মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশজুড়ে ৩৬৮টি তদারকিমূলক অভিযান চালিয়েছে। ভোক্তা স্বার্থবিরোধী অপরাধের দায়ে এ সময় ৭২৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
১০টি তাঁত পণ্যের জিআই নিবন্ধন হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ও তাঁতশিল্পের সুরক্ষায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অনুকূলে ১০টি পণ্যের জিআই নিবন্ধন পাওয়া গেছে। পণ্যগুলো হলো— ঢাকাই মসলিন, ঢাকাই ফুটি কার্পাস, সিলেটের মণিপুরি শাড়ি, মিরপুরের কাতান শাড়ি, কুমিল্লার খাদি, সিরাজগঞ্জের গামছা, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি, কুমারখালীর বেডশিট, ফুটি কার্পাস তুলার বীজ ও গাছ এবং কালিগঞ্জের তোয়ালে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট-১ রিঅ্যাক্টরে সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংসম্পন্ন নিউক্লিয়ার ফিশন চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ধাপে-ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কর্মজীবী নারীদের সহায়তা ও শিশুদের সুরক্ষায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পের অধীনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে নতুন ২১টি ডে-কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রম অনুমোদনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ স্থাপনের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনার কথা জানানো হয়। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বীমা সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় লক্ষ্যের অংশ হিসেবে গত সাত মাসে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
কমেন্ট