৯ অভ্যাসে অনন্য আবেগগত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষরা

৯ অভ্যাসে অনন্য আবেগগত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষরা

154600emotional-intelligence-bann মনে করা হয়, মানুষের সফলতা নির্ভর করে তার বুদ্ধিমত্তার ওপর। তাই যে মানুষের আইকিউ বেশি সে কর্মক্ষেত্রে সফল হবে বলেই মনে করা হতো। কিন্তু সেখানে ভুলক্রমে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা ইকিউ বা আবেগগত বুদ্ধিমত্তার হিসাবটা বাদ পড়েছিল। সফলতার পেছনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে ইকিউ, বহু গবেষণায় তার প্রমাণ মিলেছে। দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীল কর্মীদের ৯০ শতাংশই উচ্চমানের আবেগগত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষ। আসলে এ ধরনের মানুষ জানেন কিভাবে তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং নেতিবাচক জটিলতা সামলে নিতে হয়। তারা ইতিবাচক ফলাফল পেতে মানসিকতাকে প্রস্তুত করতে সক্ষম। ইকিউ-সম্পন্ন মানুষের চার ধরনের দক্ষতা থাকে। এরা দুই ধরনের পারদর্শিতার অধীনে অবস্থান করে- ব্যক্তিগ এবং সামাজিক। ব্যক্তিগত অংশে রয়েছে নিজের সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিজেকে সামলে নেওয়ার দক্ষতা। এর মাধ্যমে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ হয়ে ওঠে মানুষ। আচরণ ও প্রবণতা থাকে নিয়ন্ত্রিত। আর সামলে নেওয়ার দক্ষতার মধ্যে থাকে নিজের অনুভূতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা। অন্যান্য মানুষের সঙ্গে সামাজিকতা সামলে নিতেও ধারণা থাকে তাদের। ইকিউ-সম্পন্ন মানুষ বেশ কিছু অভ্যাসের চর্চা করেন। এর মাধ্যমেই তারা অন্যদের কাছে অনন্য হয়ে ওঠেন। ১. সবকিছুতে ইতিবাচক : চারদিকে তাকালে ভালো কিছু চোখে পড়বে না। চারদিকে হানাহানি, যুদ্ধ, ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি ইত্যাদি দেখলে কার বা সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার আশা জাগে? কিন্তু যাদের ইকিউ বেশি, এসন নিয়ে বাজে আশঙ্কায় থাকেন না। যে জিনিস তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, সে বিষয় নিয়ে হতাশ হয়ে সময় নষ্ট করতে চান না তারা। আসলে তারা নিজের প্রাণশক্তি আর লক্ষ্যের ওপর নজর দেন। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, এ কারণেই তারা দৈহিক ও মানসিকভাবে আশাবাদী ও স্বাস্থ্যকর অবস্থানে থাকেন। ২. শক্ত মনের অধিকারী থাকেন : সবাই আবেগ অনুভব করেন। তবে খুব কম মানুষ আছেন যারা এই অনুভূতিগুলো সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ এ কাজটি করতে পারেন। সাধারণত আবেগকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে মানুষ। আর সেখানেই সমস্যার সৃষ্টি। ইকিউ যাদের ভালো তারা বিরক্তি, হতাশা, আশাবাদ বা শঙ্কার মতো অনুভূতিগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারেন। ৩. তারা বিস্তারিত দেখেন : যাদের আবেগগত বুদ্ধিমত্তা ভালো তারা আচরণ, সহানুভূতি এবং দয়াশীলতার মাঝে চমৎকার ভারসাম্য সৃষ্টি করতে সক্ষম। এই কৌশলগত অবস্থান অনুভূতিগুলোর মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি করে না। আবেগগত কারণে এলোমেলো হওয়া থেকে বিরত থাকেন তারা। এমনকি বিষাক্ত ও ভেজাল মানুষগুলোর সংস্পর্শে থেকেও নিজেকে নিরপদ দূরত্বে রাখেন তারা। ৪. অন্যদের বিষয়ে আগ্রহী : এ ধরনের মানুষ অন্তর্মুখী বা বহির্মুখী হতে পারেন। কিন্তু অন্যদের বিষয়ে তাদের আগ্রহের কমতি নেই। চারপাশের সব মানুষের বিষয়ে জানতে চান তারা। এই আগ্রহ সহমর্মিতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। আপনি মানুষদের সম্পর্কে যতটা আগ্রহী থাকবেন, চারপাশের মানুষ সম্পর্কে তত জানতে পারবেন। ৫. তারা ক্ষমাশীল কিন্তু ভুলে যান না : আমাকে একবার বোকা বানালে আপনাকে ধিক, আর দ্বিতীয়বার বোকা হলে নিজেকে ধিক- মোটামুটি এই তত্ত্বেই বিশ্বাসী থাকেন আবেগগত বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষ। তারা ক্ষমাশীল। মূলত মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের খাতিরে ক্ষমা করেন। কিন্তু এর কথা কখনো ভুলে যান না। আসলে ক্ষমা না করতে পারলে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এতে নিজেরই ক্ষতি। আর সে ক্ষতি নিয়ে জীবনটাকে নরক বানাতে চান না তারা। তাই ক্ষমাশীলতার চর্চা করেন। তবে ভুল যান না বিষয়। ফলে দ্বিতীয়বার একই বোকামি আর করেন না। ৬. অন্যের কারণে নিজের সুখের ক্ষতি করেন না : অনেক মানুষ অন্যের পরিস্থিতরি সঙ্গে নিজেরটা তুলনা করে চরম অশান্তিতে থাকেন। উচ্চমানের ইকিউ-সম্পন্ন মানুষরা এই ভুলটি করেন না। তারা অন্যের কারণে নিজের সুখের ক্ষতি হতে দেন না। তারা অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে যান না। নিজে যেমন তেমনটা নিয়ে সুখী হতে চান। এতে করে নিজের কিছু মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। তারা নিজের বুঝতে অন্যদের মানদণ্ড হিসাবে দাঁড় করান না। ৭. তারা মজা করেন : তারা জানেন ঠিক কোন বিষয়গুলো তাদের সুখী করতে পারে। তারা আসলে সবকিছু থেকেই ভালোলাগা বের করে আনতে চান। একঘেয়ে কাজের মাঝে এসব ছোট ছোট উপলক্ষ তাদের প্রাণবন্ত করে রাখে। ৮. তাদের অসন্তুষ্ট করা কঠিন : ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স যাদের রয়েছে, তাদের নিজের সম্পর্কে ধারণা থাকে। তাই অন্য কারো পক্ষে তাদের সম্পর্কে যেকোনো ধারণা পোষণ করা বেশ কঠিন। অন্যের কথাতেও তারা সহজে নিজের সম্পর্কে ধারণা বদলান না। এ ধরনের মানুষ যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ও খোলামনের হয়ে থাকেন। ৯. আত্মসমালোচনা থেকে বিরত থাকেন : নিজের সম্পর্কে আজে-বাজে ধারণা রাখার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার মাধ্যমে মানুষ ইকিউ-সম্পন্ন হওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে যান। নিজের সম্পর্কে আশাবাদী না হলে কখনোই ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স গড়ে উঠবে না। নিজের ভুল শুধরে নিতে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আত্মসমালোচনায় দগ্ধ হতে আপত্তি রয়েছে তাদের। কারণ এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আরো যৌক্তিক ও বাস্তবমুখী মানসিকতাসম্পন্ন হয়ে ওঠা যায়।
৯টি শহরে সবচেয়ে কম মানুষের বাস পূর্ববর্তী

৯টি শহরে সবচেয়ে কম মানুষের বাস

ইতিহাসে আজকের এই দিনে : ৮ নভেম্বর , ২০১৬ পরবর্তী

ইতিহাসে আজকের এই দিনে : ৮ নভেম্বর , ২০১৬

কমেন্ট