সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব-অপতথ্য ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভাই বলে আর বোন লেখে
চার হাত-পা সরু। যেন ঝুলে আছে। শরীরের অবস্থাও ভালো নয়। হুইলচেয়ারে বসে আছে মো. যোবায়ের হোসেন। সে মুখে উত্তর বলছে। আর পাশে বসে তা পরীক্ষার খাতায় লিখছে ছোট বোন উম্মে আইমান মারিয়া।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লা নগরের নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা গেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা দিচ্ছে যোবায়ের। সে ভবিষ্যতে কম্পিউটার প্রকৌশলী হতে চায়।
কুমিল্লা নগরের মোগলটুলি ৩৯২ ইসলাম হাউসের বাসিন্দা এ কে এম মফিজুল ইসলাম ও জেবা ইসলামের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে যোবায়ের তৃতীয়। জন্মের সময়ই সে অন্য শিশুদের চেয়ে আলাদা হয়। কারও সহযোগিতা ছাড়া সে চলতে পারে না। বাসায় বসেই পড়াশোনা করে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নগরের রেয়াজউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ গ্রেড পেয়েছে। জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে।
যোবায়ের বলে, ‘শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও হাতের দুটো আঙুল নাড়ানো যায়। এ দিয়ে কম্পিউটার চালাই। ই-বুক থেকে পড়েছি। এবার আশা করি জিপিএ-৫ পাব। পরিবারের সবাই আমাকে ভালোবাসে। আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হব।’
বড় ভাই মো. জাকারিয়া প্রতিদিন যোবায়েরকে পরীক্ষার হলে নিয়ে আসেন। আবার তিনিই নিয়ে যান। জাকারিয়া বলেন, পরিবারের সবাই যোবায়েরকে পরম মমতায় আগলে রাখেন। একমাত্র বোন কুমিল্লা হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে আইমান মারিয়া বলে, ‘ভাইয়া যা বলে, আমি তা লিখে দিই। কাজটি আমি উপভোগ করছি।’
নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে অন্যদের থেকে ২০ মিনিট বেশি সময় পাচ্ছে যোবায়ের। এমন শিক্ষার্থীকে সবার সহযোগিতা করা উচিত।-
কমেন্ট