
একা একা চলেছেন অফিসে। কিংবা পার্কে অবসরে খানিকটা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আশেপাশে দু চারজন মহিলাকে নজরে পড়ছে কী? তাহলেই আতঙ্কে কাটাচ্ছেন কিছু পুরুষরা। অন্তত বেঙ্গালুরুর পুরুষরা তো বটেই। কেননা সেখানেই সক্রিয় মহিলা ছিনতাইবাজের দল। একাকী পুরুষ দেখলেই নানা কায়দায় লুঠপাঠ চালাচ্ছে তারা। পুলিশ জানাচ্ছে, বেশ কিছু অভিযোগ ইতিমধ্যে দায়ের হয়েছে। অনেকসময় সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে অভিযোগ জানাতে ভয় পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে ঠকবাজ মহিলাদের দলকে ধরতে আসরে নেমেছে পুলিশ।
ঘটনা ১: গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন বছর ৩১-এর ব্যবসায়ী এন এইচ গৌড়া। রাস্তায় বন্ধুদের নামিয়ে একাই ফিরছেন। সিগনালে গাড়ি দাঁড়াতেই সামনে এগিয়ে আসেন এক মহিলা। বিচিত্র অঙ্গভঙ্গী করতে শুরু করে। তাকে সামলাতে না সামলাতেই আর একজন সোজা গাড়িতে উঠে পড়ে। বারবার নামার অনুরোধ করলেও গাড়ি থেকে নামে না মহিলা। উল্টে ব্যবসায়ীর গলা জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে যায়। এরপর পুলিশের ভয় দেখাতে অবশ্য মহিলা নেমে যায়। বাড়ি ফিরে স্ত্রীর কাছে গিয়ে বিচিত্র এ ঘটনার কথা বলতে গিয়ে ভদ্রলোক বোঝেন, সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। খোওয়া গিয়েছে গলায় থাকা বহুমূল্য সোনার হারটি।
ঘটনা ২: পার্কে বেড়াচ্ছিলেন বছর ষাটের এক বৃদ্ধ। আচমকাই সামনে উদয় এক হেলমেট পরা মহিলার। প্রশ্ন, আমাকে চিনতে পারছেন? ভদ্রলোক আগুপিছু না ভেবেই হেলমেট খুলতে বলেন মহিলাকে। ভেবেছিলেন নিশ্চয়ই পরিচিত কেউ হবে। অমনি চেঁচামেচি শুরু। নাতিকে স্কুলে ছেড়ে এই পার্কে খানিকটা বেড়ান ভদ্রলোক। সম্মানহানির ভয়ে অবশেষে মোটা অঙ্কের টাকা আর হাতের আংটি খুলে দিতে বাধ্য হন।
এ তো মাত্র দুটো ঘটনা। গত পনেরো দিনে এরকম বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে কয়েকজন মহিলা পরিকল্পনামাফিক ছিনতাই করছে। টার্গেট একাকী পুরুষ। বয়স যাই হোক, ব্যবসায়ী বা প্রৌঢ়, নানা ছক করে টাকা হাতানোই এদের কাজ। পথেঘাটে পকেটমারি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে যেভাবে এই মহিলার দল প্ল্যান করে রাহাজানিতে নেমেছে তাতে উদ্বিগ্ন পুলিশ।
কমেন্ট