পাখিখেকো গাছ!

পাখিখেকো গাছ!

Bird20170408151121 সাধারণ আর দশটা গাছের মতোই দেখতে পিসোনিয়া গাছে নেই কোন বিষাক্ত পদার্থ। আমগাছের মতো দীর্ঘ আর চাঁপাগাছের মতো পাতাযুক্ত এই গাছটিতে ফ্যাঁকাসে লাল বর্ণের ফুল ফোটে। এই ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়তেই উঁকি দেয় গুচ্ছগুচ্ছ বীজ। আর এই বীজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর রহস্য। ‘পাখিখেকো’ হিসেবে পরিচিত পিসোনিয়া গাছের শিকড়ে খুঁজলে আপনি হয়তো ছোট ছোট হাড়ের বিশাল কোন স্তূপের সন্ধান পেয়ে যেতেই পারেন। হাওয়াই এবং নিউজিল্যান্ড থেকে শুরু করে ভারত পর্যন্ত দেখা মেলে এই গাছের। প্রথমে বীজের রঙ সবুজ থাকে, তারপর ধীরে ধীরে তা লাল বর্ণের হতে থাকে। বীজে থাকা তীব্র আঠালো পদার্থ কীটপতঙ্গকে সহজেই আকৃষ্ট করে। বীজ যত পাকে, তার আঠালো ভাব তত বাড়তে থাকে। আর একবার এই বীজের ফাঁদে পা দিলেই আমৃত্যু আটকে যায় এসব পোকামাকড়। তারপর যতই ছটফট করুক না কেন, বীজের এই আঠা থেকে কিছুতেই নিজেদের মুক্ত করতে পারে না তারা। তবে এটি গাছটির হত্যাকাণ্ড নয়, কেবল মরণফাঁদ। বীজের গায়ে আটকে থাকা এসব কীটপতঙ্গ দিয়ে গাছটি আসলে পাখিদের প্রলোভন দেখায়। পাখিরা পিসোনিয়া গাছে ভিড়লে কষ্ট করে কীটপতঙ্গ খুঁজতে হয় না। অনায়াসেই এখানে মেলে বীজের আঠায় আটকে থাকা জীবন্ত কীটপতঙ্গ। কিন্তু পতঙ্গ শিকারের লোভে আঠালো বীজের সংস্পর্শে গেলেই বীজগুলো পাখিদের গায়ে আটকে যায়। এক সাথে অনেকগুলো বীজ পাখিদের গায়ে আটকে গেলে পাখিরা আর উড়তে পারে না। এরপর পাখিগুলো হয় কাঁকড়া বা শিকারির হাতে প্রাণ হারায় আর নয়তো না খেয়ে মরে এবং সেখানেই মমি হয়ে যায়। এদের মধ্যে অনেক পাখি গাছের ডালে বসেই মরে যায়। তখন দীর্ঘদিন পর্যন্ত তাদের মৃতদেহ ঝুলে থাকে গাছের ডালে। দিন যেতে থাকলে মৃতদেহ থেকে বেরিয়ে আসে কংকাল। আর এভাবেই জীবন্ত পিসোনিয়া হয়ে যায় মৃত পাখিদের জীবাশ্মের প্রদর্শনী। Bird20170408151121 দুই দশক আগে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় অবস্থিত ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থানবিদ অ্যালান বার্গার প্রথমবারের মতো পিসোনিয়া গাছের দেখা পান। গাছটির এমন হন্তারক স্বভাবের কী কারণ হতে পারে, তাই ভেবে তিনি অবাক হন এবং পিসনিয়া বীজের ওপর গবেষণা শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হয়, পিসোনিয়া গাছ হয়তো মৃত পাখির দেহ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। আর নয়তো মৃত পাখির দেহ মাটিতে মিশে গাছটির জন্য সারের জোগান দেয়। কিন্তু বার্গার তার দীর্ঘ গবেষণায় দেখেন, এই দুটোর একটি অনুমানও ঠিক নয়। মূলত বংশ বিস্তারের উদ্দেশ্যেই বীজগুলো পাখিদের গায়ের সঙ্গে লেগে যায়। তবে পাখিই যদি না বাঁচে তবে পিসোনিয়ার বিস্তার লাভ হবে কি করে! এই বীজগুলোর আঠায় ছোট ও মাঝারি ধরনের পাখিরা সহজেই আটকে যায়। তবে বড় ধরনের পাখিগুলো এই ফাঁদ অতিক্রম করে উড়ে যেতে পারে। আর এভাবেই বীজের মাধ্যমে গাছটির বংশবিস্তার সম্ভব হয়। এ ছাড়া ছোট ছোট কাণ্ড থেকেই শিশু পিসোনিয়া অঙ্কুরিত হতে দেখা যায়। বার্গার চার সপ্তাহ সমুদ্রের নোনা পানিতে পিসোনিয়া ফল ডুবিয়ে রেখে দেখেন ফলটির আঠালো পদার্থ ধুয়ে যায়নি। তার গবেষণার ফলাফলে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পিসোনিয়া গাছের প্রতি সামুদ্রিক পাখিদের ভিন্নধর্মী আকর্ষণ। এই আকর্ষণ খাদ্যের লোভ বা মৃত্যুকামী সত্ত্বার কুপথে গমন নয়। বাসা বেঁধে বসবাসের জন্য সামুদ্রিক পাখিদের পছন্দের তালিকায় অন্যতম এই পিসোনিয়া গাছ। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো পিসোনিয়া গাছ নেই, যেটার ডালে একটি হলেও সামুদ্রিক পাখির বাসা নেই।’ তবে সামুদ্রিক পাখিরা কিভাবে বেঁচে যায় ভয়াবহ এই আঠা থেকে! বিষয়টা হলো, পিসোনিয়া ফলে আটকে থাকা কীটপতঙ্গে সামুদ্রিক পাখিরা প্রলোভিত হয় না। তারা এই ভোজসভায় অংশ নেয় না বলেই প্রাণে বেঁচে যায়।
অ্যাসিডিটির আটটি ঘরোয়া চিকিতসা পূর্ববর্তী

অ্যাসিডিটির আটটি ঘরোয়া চিকিতসা

নারীরা কেন তাদের চুল ঢেকে রাখেন? পরবর্তী

নারীরা কেন তাদের চুল ঢেকে রাখেন?

কমেন্ট