সবাই মিলে চেষ্টা করলে পরিবেশের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য : লক্ষণ ও সমাধান জেনে নিন
বহু বাবা-মা ছোট শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন নিয়ে খুব সমস্যায় থাকেন। এতে শিশুরও খুব অসুবিধা হয়। তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা কোষ্ঠকাঠিন্যে বেশি ভোগে।
যেসব কারণে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হয়
খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণ
কম আঁশযুক্ত খাবার খেলে অনেক শিশু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে পারে। গরুর দুধ খেলেও অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
শারীরিক ত্রুটি
অ্যানোরেকটাল স্টেনোসিস বা মলদ্বার জন্মগতভাবে বন্ধ থাকলে।
স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটি
মানসিক প্রতিবন্ধী হলে।
স্নায়ুর সমস্যা বা সেরেব্রাল পলসি থাকলে।
জন্মগতভাবে পেটের সামনের মাংস না থাকলে।
শরীরের শক্তি কমে যাওয়া বা হাইপোটনিয়া হলে।
হাইপোথাইরয়েডিজম হলে।
বহুমূত্র রোগ হলে।
শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হলে।
রেনাল টিউবুলার অ্যাসিডোসিস হলে।
শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ
মাঝে মধ্যে পেটে ব্যথা থাকবে, আবার কিছু সময় থাকবে না।
খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা, ক্ষুধামন্দা ভাব দেখা দেবে।
বমি হতে পারে বা বমি ভাব থাকতে পারে।
শরীরের ওজন কম বাড়বে।
পরীক্ষা করলে দেখা যাবে পেটটা শক্ত ও ফুলে আছে। পেটের ওপর হাত দিলে মল শক্ত অনুভূত হবে। মলদ্বার আর্দ্র থাকবে এবং স্ফিংটার খোলা থাকবে। এর ওপরই মল আটকে থাকে।
আপনার করনীয়
ঠাণ্ডা মাথায় তাড়াহুড়া না করে শিশুকে মলত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশু যেন ব্যথা না পায় এবং মা-বাবা যেন চিন্তামুক্ত থাকেন, অস্থিরতায় না ভোগেন সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার। প্রয়োজনে বাচ্চাদের মলত্যাগের জন্য পুরস্কৃত করে উৎসাহিত করতে হবে।
শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে এবং আঁশযুক্ত খাবার দিতে হবে। শক্ত পায়খানা নরম করার জন্য ওষুধ দেয়া যেতে পারে।
যদি এসবে পায়খানা না হয়, তাহলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে সিম্পল এনেমা দিতে হবে। বাসায় গ্লিসারিন সাপোজিটরি দেয়া যেতে পারে। এক থেকে দুই চামচ মিথাইল সেলুলোজ খাওয়ার পর এ সাপোজিটরি দেয়া যেতে পারে।
মলদ্বারে ফিসার থাকলে চিকিৎসা করাতে হবে।
মানসিক কোনো সমস্যা থাকলে শিশু-মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
স্বাভাবিক চিকিৎসায় না সারলে
এসব চিকিৎসায় ব্যর্থ হলে শিশুর অন্য কোনো রোগের লক্ষণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি সহজে সমাধান না হলে হারসপ্রং রোগের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় মলদ্বার থেকে বায়োপসি করলে প্যারা সিম্পেথেটিক গ্যাংলিওনিক সেল নেই। এ রোগ সাধারণত জন্মের প্রথম মাসে ৮০ শতাংশ এবং প্রথম বছরে ৯৫ শতাংশ ধরা পড়ে। এ রোগে পেট ফোলা, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবারে অনীহা, হলুদ বমি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
কমেন্ট