সিজারিয়ান করে সন্তান নেওয়ার পর...

সিজারিয়ান করে সন্তান নেওয়ার পর...

114303baby_milk দেশে বর্তমানে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে বহু নারীকেই স্বাভাবিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে সিজারিয়ান পদ্ধতির আশ্রয় নিতে দেখা যায়। এ ছাড়াও সিজার করার পর আরও বেশ কিছু ব্যাপারে জেনে রাখা ভালো : ১. ক্যাথেটার সিজার করানোর পর একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করা হতে পারে তার শরীরে। সাধারণত এটা প্রথম দিনেই রাখা হয়। পরের দিন খুলে ফেলা হয়। ২. সেলাইয়ের দাগ সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেকদিন, অনেক বছর পর্যন্ত। তবে সময়ের সাথে তা অনেক হালকা হয়ে যায়, আগের মতো উঁচুও হয়ে থাকে না। অপারেশনের পর এই কাটা দাগ শুকাতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তারপরই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে। ৩. অপারেশনের পর টয়লেট এটা বেশ বড়সড় একটা অপারেশন সুতরাং অনেকেই এই অপারেশনের পর টয়লেটের কাজ সারতে ভয় পান। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে ডাক্তার কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে টয়লেটের কাজ সারতে সাহায্য করবে। ৪. হাঁটাচলা সিজারের পর রক্ত জমাট বাঁধার ভয় যেন না থাকে তার জন্য পরের দিন হালকা হাঁটাচলা করাটা ভালো। ৫. শরীরে কাঁপুনি শরীর থেকে অ্যানেসথেসিয়ার প্রভাব কেটে যাবার সময়ে অনেকের কাঁপুনি দেখা যায়। শরীরের নিম্নাংশে বিশেষ করে পায়ে অসাড়তা অনুভব হতে পারে। কয়েক ঘণ্টার মাঝে এই অনুভূতি কেটে যাবার কথা। ৬. রক্তপাত প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। ৭. ভারী কাজ নিষেধ বাচ্চার চাইতে ভারী কিছু আপনি তুলতে পারবেন না প্রথম ২-৩ সপ্তাহ। ৪-৬ সপ্তাহ ব্যায়াম বন্ধ। আর শারীরিক সম্পর্ক বন্ধ রাখতে হবে প্রথম ছয় সপ্তাহ। ৮. হাঁচি-কাশিতে ব্যাথা হতে পারে সার্জারির পর হাঁচি-কাশি দিতে গেলে পেটে ব্যথা লাগতে পারে। এ সময়ে পেটের ওপর বালিশ চেপে ধরে রাখলে ব্যথা কম হবে। অনেকেই এ সময়ে বেল্ট পরে থাকেন। এই বেল্টও ব্যথা কমাতে সহায়ক। প্রথম সপ্তাহে এই সমস্যা বেশি হবে। পরে কমে যাবে। ৯. ভিটামিন নিন সিজার করানোর পর মা-কে ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়। তা খাওয়ানো হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে মা এবং তার পরিবারকে সতর্ক থাকতে হবে। ১০. পা ফোলা সিজার করানোর পরে আরেকটি সমস্যায় মেয়েদের ভুগতে দেখা যায় তা হলো পরের দিন পা ফুলে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে ঘুমানোর সময় বা শুয়ে থাকার সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে। তাহলে পা ফোলা কমে যাবে। ১১. বুকের দুধ খাওয়াতে হবে সিজার করানোর পর অনেক মা-ই সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান না। সিজার করানোর পর তিন দিনের মাঝে বুকের দুধ না খাওয়ালে এ সময়ে স্তনে চাকা চাকা অনুভূত হয় এবং ব্যথা হতে পারে। সমস্যার সমাধানে তোয়ালে গরম করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও দুধ বাচ্চাকে না দিলেও বের করে ফেলে দিতে হবে বা রেখে দিতে হবে। ১২. বুকের দুধ ফিডারে রেখে খাওয়ানো মায়ের দুধ ফিডারে করে ফ্রিজে রেখে দিলে তা বাচ্চাকে দেওয়া যাবে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঠাণ্ডা দুধ তো অবশ্যই বাচ্চাকে দেওয়া যাবে না। কিন্তু এটা চুলায় ফুটিয়ে বা ওভেনে গরম করেও দেওয়া যাবে না। গরম পানিতে ফিডার রেখে এই দুধ গরম করে দিতে হবে।
স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে সাত হাজার ডলার গলাধঃকরণ! পূর্ববর্তী

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে সাত হাজার ডলার গলাধঃকরণ!

ককপিট ছেড়ে বিমানে ২ ঘণ্টা ঘুমোলেন পাক পাইলট! পরবর্তী

ককপিট ছেড়ে বিমানে ২ ঘণ্টা ঘুমোলেন পাক পাইলট!

কমেন্ট