চেরিতে হোক স্বাস্থ্যকর ইফতার

চেরিতে হোক স্বাস্থ্যকর ইফতার

102338cherry বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে ফলমূলে মনোযোগী হওয়া উচিত। তাই রমজানজুড়ে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ। আজ পরিচিত চেরি ফলের কথাই বলা হলো। দোকান বা সুপারশপে এগুলো দেখা মেলে। এর স্বাদ ছাড়া পুষ্টিগুণের কথা অনেকেই জানেন না ঘুম : রাতে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতেই সময় যায়? চেরির রস যদি পান করেন, তাহলে আসবে শান্তির ঘুম। এক গবেষণায় বলা হয়, চেরি মেলাটনিনের দারুণ এক উৎস। এটি ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুমকে গভীর করতেও পারদর্শী ছোট্ট লাল ফলগুলো। পেটের চর্বি : বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, চেরি ফল খেলে পেট তো বাড়েই না, বরং কমে আসে। গবেষণাগারে ইঁদুরকে টার্ট চেরি পাউডার খাইয়ে দেখা যায়, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারেও তাদের পেচের চর্বি বাড়েনি। ডায়াবেটিস : মিষ্টি চেরি কিন্তু গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের নিচের দিকে রয়েছে। অর্থাৎ, এটি খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মোটেও বাড়ে না। এর অবস্থান ২২ নম্বরে। এই ইনডেক্সে চেরির ওপর রয়েছে অ্যাপ্রিকট (৫৭), আঙ্গুর (৪৬), পিচ (৪২), ব্লুবেরি (৪০) এবং পাম (৩৯)। তাই অন্য খাবারের সঙ্গেও ইচ্ছামতো চেরি খেতে পারেন। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিন্তার কিছু নেই। ইফতারিতে ইচ্ছেমতো খেতে পারেন চেরি। আলঝেইমারস : ইতিমধ্যে আলঝেইমারস অ্যাসোসিয়েশন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য চেরির অন্যতম সেরা টোটকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কারণ এতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্ট্রোক : টার্ট করা চেরি হৃদযন্ত্রের দেখভাল করে। টার্ট চেরিকে লাল রং প্রদান করে অ্যান্থোসায়ানিন্স নামের এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। এটি পিপিএআরকে ক্রিয়াশীল করে তোলে, যা কি না এক বিশেষ জিনকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। চর্বি ও গ্লুকোজের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে রয়েছে এই জিন। ফলে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ আর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে চেরি অসাধারণ এক ফল। এমনটাই জানিয়েছে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান হেলথ সিস্টেমের এক গবেষণা। ত্বক : বুড়িয়ে যাওয়া ভাব কমিয়ে আনে চেরি। এ ফলের উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে সাধুবাদ জানাতে হয়। দেহে প্রবেশ করা বিষাক্ত উপাদানগুলোই মূলত বলিরেখা ফেলে দেয়। ত্বকের অন্যান্য রোগাক্রান্ত অবস্থা থেকেও মুক্তি দিতে পারে চেরি। গেঁটেবাতের আক্রমণ : চেরি খেলে গেঁটেবাতের আক্রমণ থেকে রক্ষা মেলে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইউকিং ঝ্যাং-এর গবেষণায় বলা হয়, টানা দুই দিন চেরি খেলেই এ ব্যথার আক্রমণের সম্ভাবনা ৩৫ শতাংশ হ্রাস পায়। চেরি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে ঝুঁকিও কমে আসবে। পেশির ব্যথা : এক কাপ চেরির বস কিংবা টার্ট পেশির প্রদাহনাশে খুবই উপকারী। এক দল ম্যারাথন দৌড়বিদের ওপর পরীক্ষা চালান বিশেষজ্ঞরা। তাতে প্রমাণ মেলে, চেরি সত্যিকার অর্থেই দেহের পেশিতে যন্ত্রণা থাকলে তা দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। ক্যান্সার : চেরিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো সম্মিলিতভাবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তোলে। খাদ্য-বিজ্ঞানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জে ইয়ান গ্রে তাঁর গবেষণায় প্রকাশ করেন, মাংসপেশির লিপিডের অক্সিডেশন প্রক্রিয়াকে ধীরস্থির করতে থাকে চেরি। শুধু তাই নয়, পেশিতে পেরেশানি সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে এই ফলের বিভিন্ন উপাদান। বিশেষ করে কোলন ক্যান্সার ঠেকাতে চেরি এক বিস্ময়।
গরমের পর বৃষ্টি, সাবধানে থাকুন পূর্ববর্তী

গরমের পর বৃষ্টি, সাবধানে থাকুন

রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিন পরবর্তী

রাশিফলে জেনে নিন কেমন যাবে আজকের দিন

কমেন্ট