ক্যান্সার প্রতিরোধসহ নানা রোগে উপকারী লেবুর খোসা

ক্যান্সার প্রতিরোধসহ নানা রোগে উপকারী লেবুর খোসা

খাবারের স্বাদ বাড়ায় লেবুর রস। কিন্তু লেবুর খোসাও যে আপনার স্বাস্থ্য, ত্বক, এবং চুলের জন্যও উপকারী তা কি জানা আছে? আপনার যদি লেবুর রস খাওয়ার পর এর খোসা ছুড়ে ফেলার অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে আরেকবার ভেবে দেখুন। কারণ লেবুর খোসায় লেবুর রসের চেয়েও ৫-১০ গুণ বেশি ভিটামিন আছে। আর তা ক্যান্সারসহ বেশ কিছু রোগের জন্য উপকারী। আসুন জেনে নেওয়া যাক : ১. ক্যান্সার প্রতিরোধ বিস্ময়কর হলেও সত্যি ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় লেবুর খোসা ব্যবহার করা হয়। লেবুর খোসায় রয়েছে স্যালেভেস্ট্রল কিউ৪০ এবং লিমোনেন। যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধে লড়াই করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, চা এর সাথে লেবুর খোসা দিয়ে পান করলে তা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ঠেকাতে কাজ করে। এ ছাড়া অ্যাসিড সমৃদ্ধ দেহে ক্যান্সার দ্রুত বাড়ে। আর লেবুর খোসা ক্ষারজাতীয় হওয়ায় তা আমাদের দেহের এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের রাখতে সহায়তা করে। লেবুর খোসা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল সমৃদ্ধ। ফলে তা ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকজাত সংক্রমণ ঠেকাতেও কাজ করে। এ ছাড়া লেবুর খোসা রোদে পোড়া ত্বককে উজ্জ্বল করতেও বেশ কার্যকর। ২. হাড়ের স্বাস্থ্য লেবুর খোসায় উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ও উন্নতিতে কাজ করে। এ ছাড়া হাড়ের প্রদাহজনিত রোগ ইনফ্লেমেটরি পলিআথ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস এবং রিউম্যাটয়েড আথ্রাইটিস প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধেও বেশ কার্যকর লেবুর খোসা। মুখের স্বাস্থ্য ভিটামিন সি'র ঘাটতিতে স্কার্ভি, রক্তপড়া, পুঁজসহ দাঁতের নানা সমস্যা দেখা দেয়। লেবুর খোসায় রয়েছে উচ্চমাত্রার সাইট্রিক এসিড যা ভিটামিন 'সি'র ঘাটতি পুরণ করে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ লেবুর খোসায় রয়েছে পেকটিন নামের একটি উপাদান যা দেহের চর্বি কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ৪. দেহে অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সহায়ক লেবুর খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ সাইট্রাস বায়ো ফ্ল্যাভোনয়েডস যা দেহের বিষাক্ত অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক। ৫. কোলোস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করে লেবুর খোসায় থাকা পলিফেনল ফ্ল্যাভনয়েডস দেহে কোলোস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। এ ছাড়া লেবুর খোসায় থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। কোলোস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক প্রতিরোধেও কাজ করে লেবুর খোসা। ৬. ত্বকের রোগ প্রতিরোধ করে ব্রণ, বলিরেখা, কালো দাগ এবং বিবর্ণতার মতো ত্বকের নানা সমস্যা প্রতিরোধে বেশ কার্যকর লেবুর খোসা। এভাবে ত্বককে বিষমুক্তকরণেও সহায়তা করে। ৭. রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হজমশক্তি বাড়ায় লেবুর খোঁসাতে থাকা খাদ্যগত আঁশ হজম শক্তির উন্নতিতে কাজ করে। ভিটামিন সি রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ৮. রক্তের শিরা-উপশিরাগুলো শক্তিশালী করে লেবুর খোসাতে থাকা ভিটামিন পি আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এক টুকরো (৬ গ্রাম) লেবুর খোসায় থাকা পুষ্টি উপাদান : ক্যালোরি ৩ গ্রাম চর্বি ০.০২ গ্রাম সোডিয়াম ০.৩৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ৯.৮ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট ০.৯৬ গ্রাম খাদ্যগত আঁশ ০.৬৪ গ্রাম প্রোটিন ০.০৯ গ্রাম ভিটামিন এ ৩ আই ইউ ভিটামিন সি ৭.৭৪ মিলিগ্রাম ক্যালিসিয়াম ৮.০৪ মিলিগ্রাম আয়রন ০.০৫ মিলিগ্রাম লেবুর খোসার ব্যবহার পদ্ধতি প্রথমে কয়েক ঘণ্টার জন্য লেবুর খোসা ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর তা পানীয় বা খাদ্যের সঙ্গে খেতে পারেন। লেবুর রস সহই লেবুর খোসা খেতে পারেন। যেমনটা চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়। এ ছাড়াও ২০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় চুলায় লেবুর খোসা শুকিয়ে নিন। এরপর তা গুঁড়ো করে অল্প মরিচগুঁড়া এবং সামুদ্রিক লবণ মিশিয়ে নিন। এটি আপনার ডিনারকে আরো সুস্বাদু করে তুলবে। রোদে শুকানোর পর লেবুর খোসা চূর্ণ করে পাউডার বানান। ত্বকের স্বজীবতা ধরে রাখতে তা দিয়ে পেস্ট বানিয়ে ব্যবহার করুন। পানিতে লেবুর খোসা মিশিয়ে তাতে কাটা ফল চুবিয়ে ফ্রিজে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। এতে ফলের রঙ্গ একটুও বিবর্ণ হবে না বা পচে যাবে না।
শিশু প্রবীণ গর্ভবতী ও ক্রনিক রোগীর ঝুঁকি বেশি পূর্ববর্তী

শিশু প্রবীণ গর্ভবতী ও ক্রনিক রোগীর ঝুঁকি বেশি

দিন হোক পেরেশানিমুক্ত পরবর্তী

দিন হোক পেরেশানিমুক্ত

কমেন্ট