একটি আদর্শ ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

একটি আদর্শ ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

আজকাল খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত কথা উঠলেই যে পরামর্শটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় তা হলো, ‘কম খান’ বা ‘চর্বি জাতীয় খাবার কমান’। কিন্তু শুধু আমি না আরো অনেকেই এই জাতীয় পরামর্শে কনভিন্সড না। আমাদের বেশিরভাগই হয়তো সাংঘর্ষিক পুষ্টি এবং খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত পরামর্শ শুনে কিছুটা হতবিহ্বলও বটে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে না দেহকে কোনো খাদ্য থেকে বঞ্চিত করাটা পুরোপুরি সঠিক সমাধান নয় বরং খাবার খাওয়ায় ভারসাম্য স্থাপনই আসল সমাধান। স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের জন্য সঠিক ধরন এবং সঠিক পরিমাণের খাবার খাওয়াটাই জরুরি। ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস কেমন হতে পারে? এমন খাদ্যাভ্যাস যার মাধ্যমে আপনি আপনার দেহকে তার প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে বড় পুষ্টি উপাদান যেমন, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেটস, এবং ফ্যাট। এবং ছোট পুষ্টিউপাদান যেমন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান। প্রতিটি উপাদানই আমাদের দেহের ভিন্ন ভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভুমিকা পালন করে। এই পুষ্টি উপাদানগুলো আসে প্রধান পাঁচটি খাদ্যগোষ্ঠী থেকে- ফল ও সবজি, শস্য এবং ডাল, মাংস এবং দুধ এবং চর্বি ও তেল। কিন্তু প্রতিদিন কী পরিমাণে খেতে হবে এই খাবারগুলো? প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটস খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন এবং কী পরিমাণে খেতে হবে? ১. কার্বোহাইড্রেটস আমাদের খাবারের ৭০-৮০% ক্যালোরি আসে শস্য ও ডাল জাতীয় খাদ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেটস থেকে। অথচ কার্বোহাইড্রেটস থেকে আমাদের চাহিদার ৫০% ক্যালোরি আসা উচিত। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটস গ্রহণ করি বেশি। যেমন রুটি, বিস্কিট, সাদা চাল এবং আটা-ময়দা এসব বেশি খাই। কিন্তু এসব ছাড়াও কার্বোহাইড্রেটের আরো স্বাস্থ্যকর উৎস আছে। যেমন, পূর্ণ শস্য- লাল চাল, ভুট্টা এবং যব আরো বেশি স্বাস্থ্যকর কার্বোহাড্রেটের উৎস। এসবে রয়েছে প্রচুর খাদ্য আঁশ। আঁশ ছাড়া খাবার অসম্পুর্ণ থেকে যায়। কারণ এটি খাবার হজমে সহায়তা করে। কিন্তু খুব কম মানুষই যথেষ্ট পরিমাণে আঁশজাতীয় খাবার খায়। বেশিরভাগ ফল, সবজি এবং পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবারই রক্তে হঠাৎ করে সুগারের হার বাড়িয়ে দেয় না। বরং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। সুতরাং প্রতি ৩০ গ্রাম শস্যজাতীয় খাবারের সঙ্গে ১০০ গ্রাম সবজি খাওয়া উচিত। সকালের নাশতায় খাদ্য শস্য বা কলা অথবা ভালো কোনো কার্বোহাইড্রেটের উৎস থাকতে হবে। যাতে দুপুরের খাবার পর্যন্ত আপনার দেহ সক্রিয় থাকে। কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ না দিয়ে বরং পরিমাণ এবং গুনগত মানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে। সরল কার্বোহাইড্রেট যেমন, গ্লুকোজ এবং ফ্রুকটোজের উৎসগুলো হলো- ফল, সবজি এবং মধু; সুক্রোজের উৎস চিনি আর ল্যাকটোজের উৎস দুধ। আর জটিল পলিস্যাকারাইড এবং শ্বেতসার পাওয়া যায় চাল ও গম জাতীয় শস্য, ভুট্টা, ডাল এবং মুলজাতীয় সবজিতে। এবং গ্লাইকোজেন পাওয়া যায় পশু খাদ্যে। প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কতটুকু ক্যালোরি গ্রহণ উচিৎ: পুরুষ: ২৩২০ কিলোক্যালরি/প্রতিদিন নারী: ১৯০০ কিলোক্যালরি/প্রতিদিন
বয়স ধরে রাখতে এবং সৌন্দর্য বাড়াতে পালং শাক পূর্ববর্তী

বয়স ধরে রাখতে এবং সৌন্দর্য বাড়াতে পালং শাক

লাল চালের স্বাস্থ্যগত উপকারিতাগুলো জেনে নিন পরবর্তী

লাল চালের স্বাস্থ্যগত উপকারিতাগুলো জেনে নিন

কমেন্ট