ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর যে ২০টি খাদ্য

ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর যে ২০টি খাদ্য

আপনি হয়তো টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তা থেকে মুক্তির চেষ্ট করছেন, বা টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তা থেকে মুক্তির চেষ্টার করছেন অথবা টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। যাই হোক না কেন সে ক্ষেত্রে আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে কিছু খাদ্য। আসুন জেনে নেওয়া যাক... ১. বাদাম যে কোনো বাদামই ডায়াবেটিস থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। কারণ বাদামে আছে স্বাস্থ্যকর চর্বি। যা রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে খুবই সহায়ক ভুমিকা পালন করে। শুধু পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। এই যা। ২. বীজ বাদামের মতোই বীজজাতীয় খাদ্যও ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। কারণ এতে আছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। যেমন সূর্যমুখী ফুলের বীজ এবং কুমড়ো বীজ। এগুলোতে আছে ধীরে কার্যকর কার্বোহাইড্রেট। যা রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তচাপ কমায়। ৩. মাছ প্রোটিনের সবচেয়ে ভালো উৎস মাছ। এছাড়া মাছও ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ। ৪. বেরি বা জাম বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ফল বলা হয় বেরি বা জামজাতীয় ফলকে। জাম, স্ট্রবেরি সহ যে কোনো বেরি জাতীয় ফলই উপাকারী। টাইপ টু ডায়াবেটিসের জন্য বেরি ইনসুলিন উৎপাদন বাড়িয়ে উপকার করে। আর টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া বেরিজাতীয় ফলে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডন্ট এবং খাদ্য আঁশ। ৫. শীম আঁশ! আঁশ! আঁশ! ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য আঁশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর যে কোনো ধরনের শীমে থাকে প্রচুর আঁশ। আঁশজাতীয় খাদ্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। কারণ শীমে কার্বোহাইড্রেটস বেশি। ৬. ব্রোকোলি এই সবজিটি মনে হয় ডায়াবেটিসের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে। এতে আছে এমন একটি বিশেষ উপাদান যা প্রাকৃতিকভাবেই ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া হৃদরোগের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এটি। ৭. ক্যালে বা পাতাকপি বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সবজি এটি। এতে কার্বোহাইড্রেট খুম কম থাকে। টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় এবং টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের জন্য রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ৮. অ্যাভোকাডো রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া হৃদরোগের জন্যও উপকারী এটি। যে নারীরা এই খাদ্যটি নিয়মিত খায় তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি দূর হয়। ৯. গ্রিক দই গ্রিক একটি সুপার ফুড। এটি টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া এতে কার্বোহাইড্রেটও কম থাকে। যা হজম প্রক্রিয়াকেও শক্তিশালী করে। ১০. চা এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য। বেশিরভাগ ডাক্তারই নিয়মিতভাবে চা খেতে বলেন ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের। তবে চিনি ছাড়া। ১১. ফ্ল্যাক্সসীড বা শ্বেতবীজ ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইকারী তিনটি উপাদান আছে এতে। স্বাস্থ্যকর চর্বি, খাদ্য আঁশ এবং প্রোটিন। এই খাদ্যটি অতটা সুস্বাদু নয় বলে জনপ্রিয়ও নয়। তবে ওটমিল এবং সেঁকা খাদ্যের সঙ্গে এটি খাওয়া যেতে পারে। ১২. আপেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কামায় এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশ্বে প্রায় ৭,৫০০ প্রজাতির আপেল উৎপন্ন হয়। ১৩. রসুন কোলোস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় রসুন। ১৪. স্পিনাক এটি স্বাস্থ্যকর। কিন্তু ডায়াবেটিসের জন্য আরো বেশি উপকারী। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদেরকে পাতাবহুল সবুজ সবজি খেতে বলা হয় সবচেয়ে বেশি। আর স্পিনাক আইসবার্গ লেটুসের চেয়েও বেশি উপকারী। ১৫. ডার্ক চকোলেট এতে সুগারের হার খুব কম। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। আর ইনসুলিন উৎপাদনেও সহায়ক। এছাড়া অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের আকুতিও কমায় এটি। ১৬. অ্যাসপ্যারাগাস আরেকটি মহা উপকারী সবজি এটি। টাইপ টু ডায়াবেটিস সহ নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া ইনসুলিন উৎপাদন বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ১৭. দারুচিনি মশলা মিষ্টি হিসেবে সুগারের বিকল্প হতে পারে এটি। রক্তে সুগারের মাত্রাও কমায় এটি। দারুচিনি চা খুবই উপকারী। ১৮. ওটস কার্বোহাইড্রেটের সুগারে রুপান্তরের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিয়ে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এটি। এছাড়া এতে আছে প্রচুর খাদ্য আঁশ। ১৯. অলিভ অয়েল স্বাস্থ্যকর চর্বিতে সমৃদ্ধ এটি। ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষদের স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং দীর্ঘায়ুর রহস্য এই অলিভ অয়েল। ২০. মিষ্টি আলু! আমরা জানি সাদা আলু স্বাস্থ্যের জন্য অতটা ভালো নয়। কিন্তু মিষ্টি আলু খুবই স্বাস্থ্যকর। এটি ইনসুলিন প্রতিরোধক কমায়, কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
চীনের উন্নয়ন–দর্শন পূর্ববর্তী

চীনের উন্নয়ন–দর্শন

ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু পরবর্তী

ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

কমেন্ট