বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই ছেলে নাকি মেয়ে হবে বোঝা যায়?
ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে? প্রায় প্রত্যেক গর্ভবতী নারীই এটা ভেবে উত্তেজিত হন। কেবল নারী নয়, পুরুষকেও বিষয়টি স্পর্শ করে। প্রকৃতপক্ষে, যেসব দম্পতি প্রথমবার মা-বাবা হতে যাচ্ছেন তাদের কথাবার্তার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ হলো গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ।
অনেক দম্পতি এতটাই কৌতূহলী যে তাদের ঘরে ছেলে নাকি মেয়ে আসছে তা জানতে চিকিৎসকের কাছে যান। আবার কেউ কেউ নির্মম উদ্দেশ্যে গর্ভের শিশুর লিঙ্গ শনাক্ত করতে চান। হ্যাঁ এটা সত্য যে, আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পেটস্থ বাচ্চার লিঙ্গ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু কন্যা শিশুকে মেরে ফেলার কারণে কিছু দেশে গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ শনাক্তকরণের পরীক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেমন- প্রতিবেশী দেশ ভারতে। অনাগত সন্তানের লিঙ্গ শনাক্তকরণকে কেন্দ্র করে নির্মমতা কাম্য নয়।
পাষণ্ড লোকের বিপরীতে সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যাই বেশি। অনেকে প্রথম সন্তান হিসেবে কন্যা চান, কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে কন্যা হলো স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রেরিত বিশেষ নেয়ামত। এছাড়া একেকজনে একেক কারণে মেয়ে সন্তান কামনা করতে পারেন, যেমন- কেউ কেউ মেয়ের মধ্যে মায়ের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেতে চান।
অনেকের মতে, ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে পরিবারে কন্যা সন্তানের আগমন ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু এসব ধারণা কি সত্য? এ প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হলো।
* উঁচু পেট
পেট বেশি উঁচু হলে অনেকে নিশ্চিত থাকেন যে, মেয়ে হবে। অথবা মেয়ে হবে এ ধারণার পক্ষে সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন। আমরা বলছি না যে তাদের ধারণাটি মিথ্যা প্রতিপন্ন হবে। এ ধারণা সত্যও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। তবে এটাও মনে রাখা ভালো যে, পেট বেশি উঁচু হওয়ার আরেকটি কারণ রয়েছে। ভালো শারীরিক গঠনের যেসব নারী প্রথমবার মা হতে যাচ্ছেন তাদের পেট বেশি উঁচু হতে পারে, গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ যেটাই হোক না কেন। একজন নারীর শরীরের আকৃতি, পেটের পেশি এবং গর্ভাবস্থায় ওজনের বৃদ্ধি- এসবকিছু পেট কতটা উঁচু হবে তা নির্ধারণ করতে পারে। বহুবার গর্ভবতী হলেও পেটের পেশির নমনীয়তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এসবের ওপর বাচ্চার লিঙ্গের কোনো প্রভাব নেই। এর মানে হলো, কেবল পেট দেখেই নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না যে ছেলে অথবা মেয়ে হবে। এটা প্রথমবার গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে যেমন সত্য, তেমনি চতুর্থবার গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রেও সত্য।
* পেটের মধ্যখানে ওজন বহন
পেটের কোথায় গর্ভস্থ বাচ্চার ওজন বহন করা হচ্ছে তার ভিত্তিতে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কারো পেটের মধ্যখানে গর্ভাবস্থা জনিত ওজন বাড়লে ধারণা করা হয় যে তিনি কন্যা সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন। কিন্তু এটাও একটি ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছু নয়। কোনো নারী পেটের মধ্যখানে ওজন বহন করলে এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে মেয়ে হবে, তিনি ছেলে সন্তানেরও মা হতে পারেন। গর্ভাবস্থা জনিত ওজন কোথায় বাড়বে তাও নির্ভর করে গর্ভবতী নারীর শারীরিক আকৃতি, ওজন বৃদ্ধি ও অন্যান্য ফিজিক্যাল ফ্যাক্টরের ওপর। তাই এটাও গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ শনাক্তকরণে সাহায্য করে না।
* গর্ভস্থ বাচ্চার দ্রুত হৃদস্পন্দন হার
কেউ কেউ অধীর আগ্রহ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে জানতে চান যে পেটের বাচ্চার হৃদস্পন্দন হার (হার্ট রেট) কত? কারণ তারা শুনেছেন যে হৃদস্পন্দন হার যত বেশি হবে, মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। কারো কারো মতে, গর্ভস্থ বাচ্চার হৃদস্পন হার প্রতি মিনিটে ১৪০ এর বেশি হলে মেয়ে হবে। কিন্তু জেনে রাখুন যে এটাও একটি ভুল ধারণা। সাধারণত মেয়ে শিশুর হৃদস্পন্দন ছেলে শিশুর চেয়ে দ্রুত হয়, কিন্তু এটা কেবলমাত্র প্রসব প্রক্রিয়া শুরুর পর সত্য। গর্ভাবস্থার ৫ম সপ্তাহে ভ্রুণের হৃদস্পন্দন হার মায়ের মতো একই থাকে- প্রতি মিনিটে ৮০ থেকে ৮৫ এর মধ্যে। তারপর ৯ম সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হারে বাড়তে থাকে- প্রতি মিনিটে ১৭০ থেকে ২০০। এরপর কমতে শুরু করে গড়ে ১২০ থেকে ১৬০ হয়।
* মিষ্টি খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
বলা হয়ে থাকে যে, গর্ভাবস্থায় বেশি করে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে চাওয়ার মানে হলো শরীরের ভেতর কন্যা সন্তান বেড়ে ওঠছে। এর পরিবর্তে এসময় যাদের লবণাক্ত বা টক জাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে তারা নাকি ছেলে সন্তানের মা হবেন। কিন্তু উভয় ধারণাই মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে। গবেষকরা জানান যে, গর্ভাবস্থায় অদ্ভুত অদ্ভুত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, কিছু নির্দিষ্ট মিনারেলের ঘাটতি। এর সঙ্গে গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
* ব্রণ ও তৈলাক্ততা
গর্ভাবস্থায় অনেকের ত্বকে বেশি করে ব্রণ ওঠে ও তৈলাক্ততা বাড়ে, বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে। একটি সাধারণ বিশ্বাস যে পেটের ভেতর কন্যা শিশু আছে বলে এমনটা হচ্ছে, কারণ মায়ের সৌন্দর্য তার কাছে চলে যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, গর্ভকালে ত্বক তৈলাক্ত হওয়া ও ব্রণ ওঠার সঙ্গে গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গের কোনো সম্পর্ক নেই। এর দায়ভার হরমোনের ওপর চাপাতে পারেন। গর্ভাবস্থায় অ্যান্ড্রোজেন নামক হরমোন বেড়ে যায় বলে বেশি করে সিবাম উৎপন্ন হয়। এই তৈলাক্ত পদার্থ ত্বকের ছিদ্রকে বন্ধ করে দেয় ও ব্রণের প্রাদুর্ভাব ঘটায়।
* সকালে বেশি অসুস্থতা
আরেকটি প্রচলিত বিশ্বাস যে গর্ভাবস্থার যেকোনো পর্যায়ে সকালে অত্যধিক অসুস্থ হওয়ার অর্থ হলো, মেয়ে শিশু জন্ম নিতে যাচ্ছে। কিন্তু এটাও একটি ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে, গর্ভকালে সকালের অসুস্থতা (বিশেষত বমিভাব ও বমি) হলো একটি সাধারণ উপসর্গ। সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম চার মাসে এই অসুস্থতা হয় এবং এটি প্রায়ক্ষেত্রে গর্ভবতী হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ। হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে একজন গর্ভবতী নারী সকালে অসুস্থতা অনুভব করতে পারেন। গর্ভকালে সকালে অসুস্থতার আরেকটি কারণ হলো, রক্ত শর্করা কমে যাওয়া। যাদের পেটে জমজ বাচ্চা রয়েছে তারা বেশি অসুস্থতা অনুভব করতে পারেন। যিনি প্রথমবার মা হতে যাচ্ছেন তিনিও বেশি অসুস্থ হতে পারেন। এছাড়া আরো কিছু কারণেও এমনটা হতে পারে ।কিন্তু এর সঙ্গে গর্ভস্থ বাচ্চার লিঙ্গ সংক্রান্ত যোগসূত্র নেই।
* মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন
হঠাৎ করে দ্রুত মেজাজ খুব খারাপ হয়ে গেলে অনেকে মনে করেন যে মেয়ে হবে। কিন্তু এই ধারণাকে পেটস্থ বাচ্চার লিঙ্গ শনাক্তকরণের ভিত্তি বানাতে এখনো কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। গবেষকদের মতে, গর্ভাবস্থায় মেজাজের অননুমেয় পরিবর্তনের একটি কারণ হলো হরমোনের বৃদ্ধি। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক দিনগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন উৎপন্ন হয়। এই দুইটি হরমোন মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে গর্ভবতী নারীর ভালো মেজাজ দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে বেশিক্ষণ লাগে না। গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ যেটাই হোক না কেন, গর্ভাবস্থায় মেজাজের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হতে পারে।
কমেন্ট