১৩ বছর বয়সেই বাজিমাত, বিস্ময়কর বালক গাজেশ
ভারতের অঙ্গরাজ্য গোয়ার রাজধানী পানাজির ১৩ বছরের বালক গাজেশ নায়েক। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন সমগ্র ভারত দিশেহারা, বন্ধ হয়ে গেছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঠিক তখনই গাজেশ শুরু করেছে এক অভিনব কাজ। কেননা তার বয়সের তুলনায় অনলাইনে শিক্ষামূলক কনটেন্ট প্রচার ও ব্লকচেইনের কাজকে অভিনবই বলা যায়।
ইউটিউবে যদিও রাশিরাশি এমন কনটেন্ট রয়েছে, কিন্তু গাজেশ নিজেকে যুক্ত করেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি মানি ম্যানেজিং ইকোসিস্টেমের সাথে। গাজেশ নিজ উদ্যোগ 'পলিগেজ' নামক একটি মানি ম্যানেজিং অ্যাপ তৈরি করেছে যে অ্যাপটি পলিগন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত যা পুরোপুরি ক্রিপ্টোকারেন্সির ইনভেস্টমেন্টের সাথে সম্পর্কিত।
পলিগেজ ডিফি এবং এনএফটি প্ল্যাটফর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের সাথে যুক্ত হয়ে লাভজনক অ্যাপে পরিণত হয়েছে। স্কুল বন্ধের কারণে যখন শিশুরা ঘরে অলস সময় কাটাচ্ছিল তখন গাজেশের সময় কেটেছে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে। ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেকে আপডেট রাখার প্রয়োজনীয়তা গাজেশ অল্প বয়সেই বুঝতে পেরেছে।
চ্যাটবোট ডেভলপমেন্ট এবং ব্লকচেইন অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে গাজেশ ইতোমধ্যে আয় করেছে কয়েক মিলিয়ন ক্রিপ্টোকারেন্সি। পলিগেজ অ্যাপটি এক ধরনের ডেফি প্রটোকল যা পলিব্লকচেইনের সাথে যুক্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ক্রিপ্টোকারেন্সি আয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিলিওনিয়র মার্ক কুবানের পলিব্লকচেইন ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় এখন একটি মুখরোচক নাম।
গাজেশের বাবা গোয়ার সিভিল সার্ভিস অফিসার সিদ্ধিভিনায়ক এবং মা পিডব্লিউডি অফিসার প্রানিতা। নিজের সাফল্যের বিষয়ে গাজেশের বক্তব্য, ‘স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে আমি বেশ কিছু অনলাইন কোর্স করি। বুফালো ইউনিভার্সিটি এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে করা ডিজিটাল কোর্সগুলো থেকে ডিজিটাল দুনিয়া নিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি।’
গাজেশের বয়স যখন মাত্র আট বছর তখন থেকে সে কোডিং শিখতে শুরু করে। বর্তমানে গাজেশ সি কোড, সি প্লাস কোড, জাভা কোডিং, জাভা স্ক্রিপ্ট এবং সলিডিটিতে একজন দক্ষ বালক।
বর্তমানে গাজেশের টুইটারে ২২ হাজার অনুসারী রয়েছে। পলিগেজ নিয়ে গাজেশ ভবিষ্যতে আরও কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমকে।
কমেন্ট