পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা

পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন মূলত এমন একটি যৌনস্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে যৌন উত্তেজনার সময় পুরুষাঙ্গের অর্থাৎ পুরুষ লিঙ্গের যথেষ্ট দৃঢ়তা বা শক্ত না হওয়া অথবা দৃঢ়তা বজায় রাখতে না পারাকে বুঝায়। এর ফলে, অনেক সময় যৌনমিলন করা সম্ভব হয় না বা তৃপ্তিদায়ক হয় না। কিন্তু সন্তোষজনক যৌনমিলনের জন্য পুরুষ লিঙ্গের স্বাভাবিক উত্থান প্রয়োজন।


* কেন হয়

ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন-শারীরিক, মানসিক, পারিপার্শ্বিক ইত্যাদি।

শারীরিক কারণের মধ্যে রক্ত চলাচলের সমস্যা, উচ্চরক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস প্রধান। রক্তনালিতে ব্লক থাকলে লিঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত প্রবাহ হয় না। ডায়াবেটিস ম্যালাইটাসে স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি করে, লিঙ্গে দৃঢ়তা আনতে সমস্যা করে। হরমোনাল সমস্যায় হরমোন কমে গেলে যৌন ইচ্ছা ও শক্তি কমে যায়।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি বা লিভারের রোগ, মূত্রনালির বা প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, স্নায়ুবিক রোগ, স্ট্রোক, পারকিনসন, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস ইত্যাদি রোগেও লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মনস্তাত্ত্বিক কারণের মধ্যে অতিরিক্ত চিন্তা, দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, বিষণ্নতা, ডিপ্রেশন, মানসিক অবসাদ, সম্পর্কগত সমস্যা, পারফরম্যান্স অ্যানজাইটি, আত্মবিশ্বাসের অভাব ইত্যাদির ফলে লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা হতে পারে।

জীবনধারাজনিত কারণের মধ্যে ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মাদকদ্রব্য গ্রহণ, অতিরিক্ত মোটা হওয়া, ঘুমের অভাব ইত্যাদি রক্তনালির ক্ষতি করে, ফলে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ধূমপান ও মদ্যপান রক্তনালি সংকুচিত করে যৌন ক্ষমতা কমায়।

এ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য এমনটা হতে পারে।


* পরীক্ষা

যদি কেউ লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যায় ভুগে থাকে তাহলে কিছু স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। রক্তের বিভিন্ন উপাদানের পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড, লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ মূল্যায়ন, ইরেকশন টেস্ট ইত্যাদি করা প্রয়োজন।


* চিকিৎসা

চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, লাইফস্টাইল মডিফিকেশন বা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য পরিবর্তন। এক্ষেত্রে, ধূমপান ও মাদক ত্যাগ, ওজন কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম গুরুত্বপূর্ণ।

বেশ কিছু ওষুধও রয়েছে। এগুলো অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করতে হবে। যেমন, হরমোন থেরাপি।

চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে মনোচিকিৎসা বা সেক্স থেরাপির গুরুত্ব ব্যাপক। যেমন, দাম্পত্য বা মানসিক সমস্যার জন্য কাউন্সেলিং রয়েছে।

অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে ইনজেকশন, ভ্যাকুয়াম পাম্প ডিভাইস, পেনাইল ইমপ্লান্টও রয়েছে।

লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা নিরসনে সুস্থ জীবনযাপন মেনে চলুন। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। শাকসবজি, ফলমূল, শস্য, মাছ খান। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত, চিনি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম রক্ত চলাচল উন্নত করে এবং স্ট্রেস কমায়, যা যৌনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও প্রিয়জনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা সহায়ক হতে পারে।

লক্ষ্য করবেন, বাজারে বিভিন্ন ধরনের অবৈজ্ঞানিক প্রসাধনীর প্রচলন রয়েছে। প্রচুর ভুয়া ওষুধ বা তেল বা স্প্রে ইত্যাদি রয়েছে, যেগুলো মারাত্মক ক্ষতিকর।

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। এটি অনেক সময় অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে, যেমন হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস। এটি যে কোনো কারণেই হতে পারে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা ও জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

থাইল্যান্ডে যে উদ্যোগ বদলে দিয়েছে বাঘের ভবিষ্যৎ পরবর্তী

থাইল্যান্ডে যে উদ্যোগ বদলে দিয়েছে বাঘের ভবিষ্যৎ

কমেন্ট