কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর

কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর

বর্তমান সময়ে ‘স্লিপ প্যাটার্ন’ নিয়ে খুব বেশি চর্চা হয়। ইন্টারনেটের বদৌলতে এই শব্দটি আর অচেনা নয়। শোয়ার জন্য কোন ভঙ্গি আদর্শ, আর কোনটি ক্ষতিকর, সেটি নিয়ে অনেক গবেষণাও হচ্ছে আজকাল। চিকিৎসকরা বলেন, টানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম যেমন শরীর সুস্থ রাখবে, তেমনই কোন ভঙ্গিমায় ঘুমাচ্ছেন তা-ও গুরুত্বপূর্ণ।


কেউ বলেন উপুড় হয়ে শোয়া ক্ষতিকর, আবার কারো মতে হাঁটু মুড়ে বুকের কাছে নিয়ে এসে ঘুমানোও মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। দুই হাত দুই পাশে ছড়িয়ে, দুই পা সোজা রেখে চিত হয়ে শোয়ার অভ্যাসও নাকি ক্ষতিকর। কিন্তু যে ভঙ্গিটি নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে, সেটিই নাকি বেশিরভাগ মানুষজনের পছন্দ। আর সেখানেই ঘটছে বিপদ।


আপনি কোন ভঙ্গিতে ঘুমান

দুই হাত বুকের কাছে জড়ো করে পাশ ফিরে শুতে বেশি ভালো লাগে? এই ভঙ্গিতে শোয়া নাকি ক্ষতিকর। তেমনই দাবি করা হয়েছে নানা গবেষণায়। সম্প্রতি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দুই হাত বুকের কাছে জড়সড় করে রেখে ঘুমের ভঙ্গি পছন্দ করেন অনেকেই। এতে নাকি আরাম হয় বেশি।


এই ভঙ্গিকে বলা হয় ‘টি-রেক্স পজিশন’।
আরো পড়ুন
ব্রোকলির কোন অংশ খেলে মিলবে বেশি উপকার
ব্রোকলির কোন অংশ খেলে মিলবে বেশি উপকার

 
দুই হাত কনুই থেকে মুড়িয়ে, কবজি ভাঁজ করে বুকের কাছে বা থুতনির নিচে চেপে ধরে শোয়ার ভঙ্গিটি অনেকটা ডাইনোসর টি-রেক্সের মতোই দেখায়। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টি-রেক্স স্লিপ পজিশন’ বলা হয়। এতে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

রক্ত সঞ্চালনে বাধা

হাত ভাঁজ করে বুকের নিচে চেপে রাখলে ওই অংশের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে হাতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, যা পেশি ও কোষের জন্য ক্ষতিকর।


দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে রক্ত সঞ্চালন বাধা পেলে, হাত ও কাঁধের পেশির অসাড়তা বাড়ে। এতে কবজির কাছ থেকে হাতের যন্ত্রণা শুরু হয়।
পেশিতে টান

হাতের ও কনুইয়ের কাছে পেশিতে টান ধরতে পারে। অনেক সময়েই দেখা যায়, যারা ‘টি-রেক্স’ ভঙ্গিতে ঘুমান, তারা ঘাড় ও কাঁধের যন্ত্রণায় বেশি ভোগেন। এর থেকে অনেক সময়ে ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

 
কারপাল টানেল সিনড্রোম

কবজির কাছ থেকে হাত ভাঁজ করে রাখলে ওই অংশের পেশির প্রদাহ বাড়ে। ফলে সেখানকার স্নায়ুগুলোর ক্ষতি হয়। হাতের কবজির কাছে একটি সরু নালির মতো অংশ আছে যাকে ‘কারপাল টানেল’ বলা হয়। অনেকটা সুড়ঙ্গের মতো। এর মধ্যে দিয়ে চলে গেছে ‘মিডিয়ান স্নায়ু’।

এই স্নায়ুই হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে। যদি কোনো কারণে ওই নালি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা স্নায়ুর ওপরে চাপ পড়ে, তখন হাতের কবজিতে যন্ত্রণা শুরু হয়। কবজির পেশি শক্ত হয়ে যেতে থাকে। হাত নাড়তে গেলে, মুঠো করে কিছু ধরতে গেলে ব্যথা হয়।

ডেড আর্ম

সারা রাত হাত মুড়িয়ে রাখলে হাতের পেশির অসাড়তা বাড়তে পারে। এর থেকে হাতে ঝিঁ ঝিঁ ধরা, অবশ হয়ে যাওয়া, ঘুম থেকে উঠেই হাতে যন্ত্রণা হতে পারে।

 
আবার যেকোনো এক পাশ ফিরে একটি পায়ের হাঁটু বুকের কাছে মুড়ে রেখে এবং দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত করে শোয়ার অভ্যাসও সঠিক নয়। দীর্ঘ দিন এমনভাবে ঘুমালে শরীরের ভার সমানভাবে বিছানায় থাকে না। ফলে কাঁধের ওপর চাপ পড়ে। কাঁধ, ঘাড়, ও কোমরের ব্যথা ভোগাতে পারে।

চিকিৎসকেরা বলেন, বাম পাশ ফিরে ঘুমানো শরীরের জন্য ভালো। বাঁ দিক ফিরে ঘুমালে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কম হবে, এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় যারা ভোগেন তারা আরাম পাবেন। পাশাপাশি, পেশির ব্যথা কম হবে, হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়বে।

নেদারল্যান্ডসের মানুষ বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা, বাংলাদেশের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি পরবর্তী

নেদারল্যান্ডসের মানুষ বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা, বাংলাদেশের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি

কমেন্ট