ত্বকের যত্নে গরম ভাপ কতটা উপকারী?

ত্বকের যত্নে গরম ভাপ কতটা উপকারী?

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে, রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ, ব্ল্যাকহেডসসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। শুধু ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেই সব সময় ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না।


তাই অনেকেই এই সময়ে মুখে গরম ভাপ বা ফেস স্টিমিং নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে এবং সীমিত সময় ভাপ নিলে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয়, রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরতে পারে।

মুখে গরম ভাপ নেওয়ার উপকারিতা:

১. রোমকূপ পরিষ্কার করে
গরম ভাপের কারণে বন্ধ হয়ে থাকা রোমকূপ খুলে যায়। এতে জমে থাকা তেল, ধুলো ও ময়লা সহজে বের হয়ে আসে এবং ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।


২. ব্রণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
রোমকূপে তেল ও ময়লা জমে ব্যাকটেরিয়া জন্মালে ব্রণ হতে পারে। ভাপ নেওয়ার ফলে অতিরিক্ত তেল ও ময়লা কমে, ফলে ব্রণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।

৩. ব্ল্যাকহেডস নরম করে
নাক ও মুখের বিভিন্ন স্থানে থাকা ব্ল্যাকহেডস ভাপের কারণে নরম হয়ে যায়। এতে ত্বকের ক্ষতি না করেই তুলনামূলক সহজে পরিষ্কার করা যায়।


৪. অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব কমায়
বর্ষায় ত্বকে জমে থাকা অতিরিক্ত তেল দূর করতে ভাপ কার্যকর হতে পারে। এতে মুখ দীর্ঘ সময় সতেজ দেখায়।

৫. রক্তসঞ্চালন বাড়ায়
ভাপ নেওয়ার সময় ত্বকের রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত হয়। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকে বেশি অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে, ফলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

৬. ত্বকের যত্নের পণ্য ভালোভাবে কাজ করে
ভাপ নেওয়ার পর ত্বক নরম থাকে এবং রোমকূপ কিছুটা খুলে যায়।


এ সময় সিরাম, ময়েশ্চারাইজার বা ফেস মাস্ক ব্যবহার করলে সেগুলো তুলনামূলক ভালোভাবে ত্বকে শোষিত হতে পারে।
ভাপ নেওয়ার সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন:

সপ্তাহে ১ থেকে ২ বারের বেশি ভাপ না নেওয়াই ভালো।
একটানা ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি ভাপ নেবেন না।
ফুটন্ত পানির খুব কাছে মুখ রাখবেন না, এতে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।
ভাপ নেওয়ার পর অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল বা এগজিমা, রোসেশিয়ার মতো সমস্যা রয়েছে, তারা আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভাপ নিন।
বর্ষায় ত্বকের যত্নে গরম ভাপ উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ভাপ নেওয়া বা ভুল নিয়মে ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে। তাই পরিমিতভাবে এবং সঠিক নিয়ম মেনে ভাপ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যেভাবে মেথি ব্যবহার করবেন পরবর্তী

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যেভাবে মেথি ব্যবহার করবেন

কমেন্ট