নতুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে মিলতে পারে বয়সজনিত পেশি ক্ষয়ের সমাধান
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই হাত-পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে যায়, শক্তি কমে আসে এবং স্বাভাবিক চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় বা সারকোপেনিয়া বলা হয়।
বাংলাদেশেও বয়স্ক মানুষের মধ্যে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে নতুন এক গবেষণা এ বিষয়ে আশার খবর দিয়েছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগের সন্ধান পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় কমাতে এবং পেশির স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণাটি সম্প্রতি সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের হেপাটোসাইট গ্রোথ ফ্যাক্টর (এইচজিএফ) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের কার্যকারিতা কমে যায়। এই প্রোটিন পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত করতে সাহায্য করে। কিন্তু বয়সের কারণে এটি দুর্বল হয়ে পড়লে পেশিও আগের মতো দ্রুত পুনরুদ্ধার হতে পারে না।
এ সমস্যা সমাধানে গবেষকেরা সালফারভিত্তিক দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে লাইপোয়িক অ্যাসিড ট্রাইসালফাইড (ল্যাশ) সবচেয়ে ভালো ফল দেখিয়েছে। এটি পেশি মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ এইচজিএফ প্রোটিনকে আরো কার্যকর করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকেরা এর উন্নত কার্যকারিতার কারণে এটিকে ‘সুপার এইচজিএফ’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, ল্যাশ ব্যবহার করলে পেশির ক্ষতি কমেছে এবং পেশি পুনর্গঠনের সক্ষমতা বেড়েছে।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, মানুষের ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ ও কার্যকর কি না, তা নিশ্চিত হতে আরো গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ল্যাশ কোনো সাধারণ ওষুধ বা বাজারে পাওয়া সাপ্লিমেন্ট নয়। এটি গবেষণায় ব্যবহৃত একটি সালফারভিত্তিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ। এটি আলফা-লাইপোয়িক অ্যাসিডের একটি পরিবর্তিত গবেষণাগার-উন্নত রূপ। গবেষকদের ধারণা, এটি বয়সের কারণে পেশি মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ এইচজিএফ প্রোটিনকে আরো কার্যকর রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে বয়সজনিত নানা স্বাস্থ্য সমস্যাও। বিশেষ করে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, হাঁটতে কষ্ট হওয়া, পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঝুঁকি এবং দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই পেশির স্বাস্থ্য রক্ষায় নতুন চিকিৎসা বা ওষুধ উদ্ভাবনের সম্ভাবনা চিকিৎসকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাটি আশাব্যঞ্জক হলেও এখনই কোনো নতুন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়। বয়সজনিত পেশি ক্ষয় কমাতে বর্তমানে নিয়মিত হাঁটা, হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ভিটামিন ডি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমেন্ট