এনসিপিসহ ৩ দলের ‘নির্বাচনী ঐক্য, আজ বিকেলে ঘোষণা
দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোট ঘোষণা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি–জামায়াতের বাইরে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক ও নির্বাচনি জোট করার বিষয়ে কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে এনসিপির। এর তালিকায় এনসিপির সঙ্গে এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদের কথা ছিল। তবে গণঅধিকার পরিষদ ও আপ বাংলাদেশ জোটে থাবে না বলে আগেই জানিয়েছে এনসিপি।
নভেম্বরের শেষের দিকে জোট ঘোষণা করার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে এই জোট আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে৷
আজ রোববার বিকেল চারটায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হবে৷ দলগুলোর পক্ষ থেকে এই জোটকে বলা হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণে আগ্রহীদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনি ঐক্য’৷
দুপুর ১২টার দিকে এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণে আগ্রহীদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনি ঐক্য ঘোষণা প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আজ৷ বিকেল চারটায় ডিআরইউতে এই সংবাদ সম্মেলন হবে৷ এনসিপি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও এবি পার্টির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাইরে একটি নির্বাচনি জোটের আলোচনা সামনে আসে গত মাসের শেষ সপ্তাহে৷ ২৭ নভেম্বর রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এই জোটের আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা ছিল৷ এর আগের দিন গভীর রাত পর্যন্ত এনসিপি, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন-এই চার দলের নেতারা ঢাকার বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে বৈঠকে বসেন৷ শেষ পর্যন্ত জোটটি আলোর মুখ দেখেনি।
এনসিপি নেতারা জানান, আপ বাংলাদেশ বাদে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোটে যাওয়া বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তীতে অন্য দলও এই জোটে যুক্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, আমাদের আলোচনা হয়েছে যে, আমরা আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একজোট হই, তারপর কোনো প্ল্যাটফর্মকে নেওয়া হবে কী না- এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আপ বাংলাদেশকে না রাখার ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রাজনীতি করবো, এই ভিত্তিতে আমরা জোট করবো। সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা আছে। যাদের অবস্থান আমরা জানি, তাদের সঙ্গে আমাদের জোট হবে। যাদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা জানি না, তাদের সঙ্গে জোট করা তো এখনই সম্ভব না।
সামান্তা শারমিন আরও বলেন, সংস্কারের বিষয়ে যেসব রাজনৈতিক দলের অবস্থান আমাদের মত ছিল, তাদের সঙ্গে আমরা জোট করব।
কমেন্ট