কুরবানির পশুবাহী যানবাহনে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়
উদযাপনের উপলক্ষ্য আগেই তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। বাকি ছিল শেষ উইকেটটি পড়ার। মিরপুরে সেই কাজটা নাহিদ রানা সারতেই আনন্দে মেতে উঠলো বাংলাদেশ দল। এতে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আউট করে ইনিংসে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেটের কীর্তিও গড়েছেন বাংলাদেশি পেসার।
মিরপুরের জয়টি বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয়। আর সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একটা টেস্ট জয়ের খোঁজে থাকা বাংলাদেশের এটি হ্যাটট্রিক জয়। ২০২৪ সালের আগষ্টে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
সেই সফরে দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাইও করেছে বাংলাদেশ।
আজ নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী লক্ষ্যটা পেয়েছিল পাকিস্তান। কেননা গতকাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে সালমান আলী আগা জানিয়েছিলেন, ২৭০ রানের মতো লক্ষ্য দিলে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে পাকিস্তান। সালমানরা ২৬৮ রানের লক্ষ্যটা পেলেও শেষ হাসি মোহাম্মদ আশরাফুলের মুখেই দেখা মিলল।
গতকাল বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচই জানিয়েছিলেন, প্রতিপক্ষকে ২৬০ রানের লক্ষ্য দিয়ে যদি ৭৫ ওভার বোলিং করার সুযোগ মেলে তাহলে বাংলাদেশ জিতবে।
গুরুর চাওয়া আজ পূর্ণ করেছেন নাহিদ-তাসকিন আহমেদরা। ৭৫ নয়, ৫২.৫ ওভারে পাকিস্তানকে ১৬৩ রানে অলআউট করেছেন তারা। এর মধ্যে শেষ ৭ উইকেট তো ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাহিদই।
প্রতিপক্ষের শেষ ৭ ব্যাটারের চারজনকেই শিকার করেছেন তিনি। তার পেস তোপে তাসের ঘড়ের মতো ভেঙে পড়েছে পাকিস্তানের ইনিংস।
পাকিস্তান শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৪৪ রানে। প্রতিপক্ষের পরাজয় আরও অনেক আগেই হতে পারত যদি না তিনে নেমে ৬৬ রানের ইনিংস খেলতেন আব্দুল্লাহ ফজল। প্রথম ইনিংসেও ফিফটির দেখা পেয়েছেন এই টেস্টেই অভিষেক হওয়া বাঁহাতি ব্যাটার।
অন্যদিকে সবমিলিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টোনে ৬১ রানে প্রথমবার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার রান খরচ করেছেন ৪০। অর্থাৎ, পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংটাও করলেন ‘চাঁপাইনবাগঞ্জ এক্সপ্রেস’। তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের ১০১ রানের বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
আজ ৩ উইকেটে ১৫২ রানে শেষ দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুটা ভালো করতে পারেননি গতদিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দলীয় খাতায় ১২ রান যোগ হতেই ভেঙে যায় তাদের জুটি। ব্যক্তিগত ২২ রানে মুশফিক আউট হতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তাতে ৯ উইকেটে ২৪০ রান হতেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক শান্ত।
এর আগে শান্তর সেঞ্চুরি ও মমিনুল হক-মুশফিকের জোড়া ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ। বিপরীতে অভিষিক্ত আজান ওয়াইসের সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে ৩৮৬ রানে থামে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ১৬ মে শুরু হবে সিলেটে।
কমেন্ট