‘সবকিছু ভুলে যাও!’—ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কেন এই বার্তা দিয়েছিলেন মেসি

‘সবকিছু ভুলে যাও!’—ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে কেন এই বার্তা দিয়েছিলেন মেসি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ। আর সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই ফুটবলবিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও তুমুল আলোচনা।

বিশ্বমঞ্চের ফাইনালের ঠিক আগে সতীর্থদের উদ্দেশে বলা লিওনেল মেসির একটি বাক্যই এখন নেটদুনিয়ায় কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো ইতিমধ্যেই খবরটি নিয়ে তোলপাড় শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে—ফাইনালে নামার আগে যেখানে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা দিয়ে দেশবাসীকে ভাসিয়েছিলেন এলএমটেন, সেই তিনিই ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে নামার মুহূর্তে হঠাৎ সতীর্থদের ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ তাগিদ দিলেন কেন?

আর্জেন্টাইন ক্রীড়ামাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওর সূত্র ধরে জানিয়েছে, ড্রেসিংরুমের দরজার মুখে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে অধিনায়ক মেসি বলছিলেন, ‘সবাই শান্ত হও। মূল বিষয় হলো আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় থাকতে হবে।



এ পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ও সাধারণ অনুশাসনের মতো মনে হলেও, গোল বাঁধিয়েছে তাঁর পরের বাক্যটি। সতীর্থদের উদ্দীপ্ত করতে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘এসো, আমরা সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। এসো, শুধু খেলায় মন দিই।



ভিডিওতে স্পষ্ট, অধিনায়কের কথা শুনছিলেন যখন এনজো ফার্নান্দেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজরা, তখন তাদের শরীরী ভাষায় ছিল চরম গাম্ভীর্য। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে সতীর্থদের ঠিক কী এমন ঘটনা বা বিতর্ক মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বলেছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর?

৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা ঠিক কোন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ফাইনালের আমেজ জমতেই রেফারির সুবিধা পাওয়া নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সমালোচনার যে ঝড় উঠেছিল, তার দিকেই হয়তো আঙুল তুলছেন অনেকে। ফাইনালের আগে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত খোলামেলাভাবেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন আলবিসেলেস্তেদের দিকে।

লাপোর্ত বিতর্ক উসকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ের কিছু সিদ্ধান্ত আমাকে সত্যি অবাক করেছে।


বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটেছিল, যেখানে কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি। তারা অনবরত প্রতিপক্ষ ও রেফারির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে। এত বড় আসরে এমন আচরণ ফুটবলের স্বার্থেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয়।’
ধারণা করা হচ্ছে, মাঠের বাইরের এই বিতর্ক আর মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে সতীর্থদের মুক্ত রাখতেই হয়তো মেসি ‘সবকিছু ভুলে যাওয়ার’ মন্ত্র দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের একপেশে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা, যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের বিশ্বমঞ্চের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করল স্প্যানিশরা। ম্যাচে রেফারিং নিয়ে নতুন কোনো বিতর্ক না হলেও, শেষ বাঁশি বাজার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যে সেই অপ্রীতিকর ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। 

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে চুক্তি করেছেন জিদান পরবর্তী

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে চুক্তি করেছেন জিদান

কমেন্ট