সোনালি যুগের শেষে বড় পরিকল্পনা মেসির

সোনালি যুগের শেষে বড় পরিকল্পনা মেসির

আর্জেন্টিনার হয়ে তার শেষ ম্যাচ খেলতে চলেছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আগামীকাল ভোরে বাংলাদেশ সময় ৫টায় শেষবারের মতো মাঠে দেখা যাবে তাকে।


এই মহাতারকার বিদায়ি ম্যাচকে স্মরণীয় ও জমকালো করতে কোনো কিছুর কমতি রাখছে না আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
দেশের হয়ে রেকর্ড ম্যাচ ও গোলের মালিক এই মহাতারকা শেষবারের মত বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্তালে খেলতে নামবেন। আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে নেবেন আবেগঘন বিদায়।

লিওনেল মেসিকে অনেকে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সেরা ফুটবলার মনে করেন।


কেবল দিয়েগো মারাডোনাই তাঁর সমপর্যায়ের ছিলেন।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা হেরে যায়। সেই হারের ছয় সপ্তাহ পর, ৩১ আগস্ট তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। অবসর নেওয়ার সময় মেসি জানান, দেশের জন্য তাঁর আর নতুন কিছু দেওয়ার নেই।


তবে মেসির এই সরে দাঁড়ানোকে সমর্থন জানিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‌‘মেসি যদি কখনো খেলা চালিয়ে যেতে চান, তবে তিনি তা করতে পারেন। কিন্তু সেই অধ্যায়টি এখন একবারেই সমাপ্ত হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।’

এই মহাতারকা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও  ক্লাবের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত তার চুক্তি আছে। তবে প্রতি বছর এই চুক্তিটি নিয়ে রিভিউ বা আলোচনা করা হয়।


আর তার কাছের মানুষজন মনে করেন, চুক্তি শেষ হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত তিনি এই ক্লাবেই থাকবেন—তার আগে কোনোভাবেই ক্লাব ছাড়বেন না।
তিনি যদি মানসিক ও শারিরীকভাবে ফিট থাকে, তবে ইন্টার মায়ামির সাথে চুক্তি বাড়িয়ে আরো বেশি সময় ধরে খেলার সুযোগ বা সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মেসির ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বললেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। কারণ এই খুদে জাদুকর কখনোই তার পরবর্তী ম্যাচের বাইরে কোনো পরিকল্পনা করেননি। 

তা সত্ত্বেও, তাঁর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এখনই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে—তিনি ফুটবলের সাথেই যুক্ত থাকবেন, কারণ ফুটবল ছাড়া তাঁর জীবন কল্পনা করা কঠিন; তবে খেলার পাশাপাশি তাঁর ব্যবসার পরিধি ফুটবল জগতের বাইরেও অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে।

লিওনেল মেসি কোচ হওয়ার চেয়ে ক্লাবের মালিক বা উপদেষ্টা হওয়াকে বেশি পছন্দ করেন, কারণ কোচের জীবন প্রতি সপ্তাহের ম্যাচের জয়-পরাজয়ের মানসিক চাপ এবং নানা খুঁটিনাটি চিন্তায় ভরা থাকে। অন্যদিকে, মালিক বা স্পোর্টিং ডিরেক্টর হলে সারাক্ষণ ফোন কল বা ভ্রমণের ঝামেলা ছাড়াই পর্দার আড়ালে থেকে ক্লাবের বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাছাকাছি থাকা যায়।

একজন মালিক কিছুটা আড়াল থেকে ক্লাবের গতিপথ নির্ধারণ করেন। তবে তিনি এমন একজন মালিক হবেন না, যিনি শুধু ম্যানেজারের নিয়োগ অনুমোদন করেই কাজ শেষ। তিনি সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত থাকতে চাইবেন।

লিওনেল মেসি স্পেনের ফুটবলে ঘাঁটি গড়েঠেন আগেই,গত এপ্রিলে তরুণ খেলোয়াড়দের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত স্পেনের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ইউই কর্নেলা কিনে নেওয়ার পর, গত ১ অক্টোবর দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি এলদেন্সের নতুন প্রধান মালিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

স্প্যানিশ ক্রীড়া পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন সাপেক্ষেই এই মালিকানা চূড়ান্ত রূপ নেবে, যার ফলে মাঠের বাইরের ক্লাব মালিক হিসেবেও স্প্যানিশ লিগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্লাবের (আলমেরিয়া) বিরুদ্ধে মেসির এক নতুন দ্বৈরথ দেখা যাবে।

সিডি এলদেন্স ক্লাবটিই লিওনেল মেসির ফুটবল পরিচালনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে। তবে চলতি মৌসুমে দলটির প্রধান লক্ষ্য হলো স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগ  থেকে অবনমন এড়ানো।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং নতুন মালিক মেসির আগমনের পর ভিয়ারিয়ালের সাবেক কোচ হাভি কালেয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত দলটির কোচের দায়িত্বে থাকবে।

নতুন যুগের শুরুতেই গত ২ অক্টোবর রিয়াল ওভিদোর বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় দিয়ে শুভ সূচনা করেছে নতুন কোচ। এতে দলকে অবনমন থেকে ওপরে তুলে এনেছেন।

প্রথম ম্যাচে জয়ের পর লিওনেল মেসির স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে একটি বার্তা দিয়েছেন। তাতে লেখা ছিল, ‘এগিয়ে যাও দেপোর্তিভো!’

এভাবে নিজের সোনালি খেলোয়াড়ে যুগের শেষে নিজেকে আরো বড় পরিকল্পনায় জড়িয়ে নিয়েছে। এরপর তাকে মাঠে না দেখা গেলেও গ্যালারিতে নিজের দলকে উৎসাহ দিতে উপন্থিত থাকবে। 

আইপিএল দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে সৌরভ গাঙ্গুলি পরবর্তী

আইপিএল দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে সৌরভ গাঙ্গুলি

কমেন্ট