আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে: প্রধানমন্ত্রী
কোটি বছর আগের মহাজাগতিক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ মিলল নেপচুনের চাঁদে
সৌরজগতের সবচেয়ে দূরের গ্রহ নেপচুনের চাঁদগুলো নিয়ে নতুন এক রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে মিলেছে এমন কিছু খনিজের প্রমাণ, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—কোটি কোটি বছর আগে নেপচুনের চারপাশে ভয়াবহ এক মহাজাগতিক বিপর্যয় ঘটেছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা নেপচুনের তিনটি ছোট অভ্যন্তরীণ চাঁদ—প্রোটিয়াস, লারিসা ও গ্যালাটিয়া এবং গ্রহটির ধুলোময় বলয় (রিং) পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে তারা ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ কাদামাটির মতো খনিজের সন্ধান পান।
গবেষকদের মতে, এ ধরনের খনিজ তৈরি হতে দীর্ঘ সময় ধরে তরল পানি ও পাথরের সংস্পর্শ প্রয়োজন হয়। কিন্তু নেপচুনের ছোট চাঁদগুলো এত ঠাণ্ডা ও ছোট যে সেখানে এমন খনিজ তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।
তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই খনিজ অন্য কোনো বড় জ্যোতিষ্কের ভেতর থেকে এসেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে, সৌরজগতের শুরুর দিকে প্লুটোর আকারের ট্রাইটন নামে একটি মহাজাগতিক বস্তু নেপচুনের মহাকর্ষে আটকা পড়ে। পরে সেটিই নেপচুনের সবচেয়ে বড় চাঁদে পরিণত হয়।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, নেপচুনের কক্ষপথে প্রবেশের পর ট্রাইটনের শক্তিশালী মহাকর্ষের কারণে নেপচুনের আগের বড় চাঁদগুলো একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এতে সেগুলো ভেঙে ধ্বংস হয়ে যায়। পরে সেই ধ্বংসাবশেষ থেকেই বর্তমানে দেখা ছোট ছোট চাঁদ ও বলয় তৈরি হয়।
গবেষকরা জানান, এই সংঘর্ষের ফলে বড় চাঁদগুলোর ভেতরের অংশ বাইরে চলে আসে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে যে খনিজ পাওয়া গেছে, সেটি সেই প্রাচীন ধ্বংসাবশেষেরই অংশ হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ট্রাইটন সৌরজগতের একমাত্র বড় চাঁদ, যা তার গ্রহের ঘূর্ণনের বিপরীত দিকে প্রদক্ষিণ করে।
এটিও প্রমাণ করে, ট্রাইটন নেপচুনের সঙ্গে জন্মায়নি; পরে অন্য স্থান থেকে এসে নেপচুনের মহাকর্ষে আটকা পড়ে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু নেপচুনের ইতিহাসই নয়, পুরো সৌরজগতের শুরুর সময়কার অস্থির ও সহিংস পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে। তাদের ভাষায়, একটি বড় মহাজাগতিক ঘটনা কীভাবে একটি গ্রহের পুরো উপগ্রহ ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ নেপচুন।
কমেন্ট